দেশের সময় ওয়েবডেস্কঃ ১৪ এপ্রিল সিউড়িতে সভা করতে এসেছিলেন কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ ৷ সেই সভা থেকে একবারের জন্যও সিএএ বা এনআরসি নিয়ে একটি শব্দও উচ্চারণ করেননি তিনি। এ নিয়ে যখন বিজেপির মধ্যে চর্চা শুরু হয়েছে তখন সোমবার নবান্নে সাংবাদিক বৈঠক করে বড় অভিযোগ করলেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় ৷

মুখ্যমন্ত্রী বলেন, “দক্ষিণ ও উত্তর ২৪ পরগনাকে চিহ্নিত করে একটা সম্প্রদায়কে হঠাতে চাইছে কেন্দ্রীয় সরকার”। এ ব্যাপারে কেন্দ্রের এক সচিব রাজ্য সরকারকে চিঠি দিয়েছে বলে জানিয়েছেন মমতা। সেই চিঠি থেকে অংশবিশেষ এদিন পড়ে শুনিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী।

মমতা জানিয়েছেন, কেন্দ্রের চিঠিতে বলা হয়েছে বেআইনি আধারকার্ড যাচাই করে সেগুলি বাদ দেওয়ার কাজ করতে হবে। যাদের নাম বাদ পড়বে তাদের বিদেশি (মতান্তরে বেআইনি অনুপ্রবেশকারী) হিসাবে চিহ্নিত করা হবে।

মমতা এদিন মুসলমান শব্দটা উচ্চারণ করেননি বটে। তবে বুঝিয়ে দিতে চেয়েছেন একটি সম্প্রদায়ের অর্থ কী। ওই চিঠি থেকে জায়গার নামও পড়ে শুনিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী। তাতে বারাসত, দত্তপুকুর, হাবরা, স্বরূপ নগর, বাদুড়িয়া, সন্দেশখালি, হিঙ্গলগঞ্জ, বাগদা, গাইঘাটা, ঘোলা, খড়দহ, রহড়া, বারুইপুর, ক্যানিং, জীবনতলা, কুলতলি, সল্টলেক, ন্যাজাট, ঝড়খালি, সুলতানপুর-সহ বিভিন্ন এলাকায় এই আধার কার্ড যাচাই অভিযান হবে বলে উল্লেখ রয়েছে।

মুখ্যমন্ত্রী এদিন বলেছেন, “এলাকা শুনেই বুঝতে পারছেন কাদের তাড়াতে চাইছে। ঘুরপথে আবার সিএএ, এনআরসির কার্ড খেলতে চাইছে বিজেপি”। মমতার আরও অভিযোগ, “বিজেপি এসব করে মেরুকরণের বাতাবরণ তৈরি করতে চাইছে। আর একাংশের সংবাদমাধ্যম তাতে গা ভাসিয়ে দিচ্ছে”।

মোট আটটি রাজ্যের এলাকা চিহ্নিত করে কেন্দ্রীয় সরকার এই চিঠি পাঠিয়েছে বলে দাবি করেছেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। তাতে বেঙ্গালুরু, মুম্বই, এর্নাকুলামের মতো জেলাও রয়েছে। বাংলার মুখ্যমন্ত্রী এদিন স্পষ্ট করেই বলেন, চব্বিশে ভোট আসছে। তার আগে মেরুকরণকে তীব্র করতেই এ হেন চিঠি পাঠাচ্ছে কেন্দ্র।

শুভেন্দু অধিকারী, সুকান্ত মজুমদার-সহ বাংলা বিজেপির নেতারা প্রায় বলেন, একুশে সংখ্যালঘুদের এই এনআরসি, সিএএ-এর জুজু দেখিয়ে ভোট নিয়েছিল তৃণমূল। এখন সংখ্যালঘুরাও বুঝতে পারছেন সত্যিটা কী। সাগরদিঘি উপনির্বাচনে তৃণমূলের হারের পর যখন শাসকদলের প্রতি মুসলিম সমর্থন নিয়ে চর্চা শুরু হয়েছে তখন সোমবার মমতা চিঠি দেখিয়ে বোঝাতে চাইলেন, কেন্দ্রীয় সরকার বাংলার জেলা চিহ্নিত করে সংখ্যালঘু তথা মুসলমানদের উৎখাত করতে চাইছে।

সোমবার নবান্ন থেকে সাংবাদিক বৈঠক করছেন তিনি। সেখানে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহের বঙ্গ সফর ও বীরভূমে গিয়ে তাঁর বক্তব্য প্রসঙ্গে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় এদিন যা বললেন-

রিপ্লাইটা আমার আগেই দেওয়া উচিত ছিল। গত ১৪ এপ্রিল ভারতবর্ষের মাননীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বাংলায় বিজেপির মিটিং করতে এসেছিলেন। সেটা তিনি করতেই পারেন। এটা তাঁর স্বাধীনতা। তাঁর পার্টির মিটিংয়ে তিনি কী বলবেন, সেটা তাঁর বিষয়। : মমতা

তিনি কখনওই বলতে পারেন না ৩৫টা আসন পাব আর পেলেই আর অপেক্ষা করতে হবে না। বাংলায় সরকার আর থাকবে না। সরকার চলে যাবে। তার মানে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী চক্রান্ত করছেন এ কথার মানে এটাই হয়। একজন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর এতটাই ঔদ্ধত্য যে তিনি দেশকে রক্ষার পরিবর্তে, গণতন্ত্র রক্ষার পরিবর্তে, ফেডারেল স্ট্রাকচার রক্ষা করার পরিবর্তে বলছেন একটা নির্বাচিত গণতান্ত্রিক সরকারকে তিনি ভেঙে দেবেন। কোন আইনে তিনি ভাঙতে পারেন? তার মানে কি নিজেরা নিজেরা আইন তৈরি করবেন? তার মানে কি কনস্টিটিউশনও রিপ্লেস হচ্ছে? : মমতা

ওরা জুডিশিয়ারি রিপ্লেস করবে, ও কনস্টিটিউশন রিপ্লেস করবে, ওরা ইতিহাস রিপ্লেস করবে, ওরা ল’ অ্যান্ড অর্ডারকে কিলার অ্যান্ড রুলার হিসাবে প্রতিষ্ঠিত করবে। আমরা পরিষ্কার বলতে চাই এ কথা বলার কোনও অধিকার নেই তাঁর। : মমতা

এ কথা বলার পর স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী হিসাবে তাঁর থাকবার কোনও অধিকার নেই। আমরা স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর পদত্যাগ দাবি করছি। গণতান্ত্রিকভাবে। : মমতা

ভোটের পর হিংসার নাম করে, যদিও সে সময় নির্বাচন কমিশনের আওতায় ছিল সরকার, আমার আওতায় ছিল না, কয়েকটা ছোট ছোট ঘটনা ঘটেছিল। ভোটের পর ঘটেই থাকে সব জায়গায়। বাংলার বেলায় সব দোষ। আমি দায়িত্ব নিয়েছিলাম ৫ মে সম্ভবত। তার পর আর ঘটনা ঘটেনি। খুব কম ঘটেছে। তা সত্ত্বেও ১৫১টা সেন্ট্রাল টিম পাঠিয়েছে। আমার শ’য়ে শ’য়ে ছেলে, যাঁরা আমাদের পার্টির আসল গ্রাসরুট ওয়ার্কার, লিডার অব দ্য পার্টি মিথ্যা মামলায় তাঁদের ফাঁসানো হয়েছে, মিথ্যা কথা বলে রোজ মিডিয়া ট্রায়াল করা হচ্ছে। পরিকল্পনা করে করা হচ্ছে। : মমতা

বাংলায় কিছু হলেই, সরকার তাতে সরাসরি রেসপন্সিবল না হলেও, কখনও কখনও এমনও কিছু ঘটে, যা আমরা সমর্থন করি না। তারা কেন্দ্রীয় দল পাঠিয়ে দেয়। কমিশন পাঠায়। দিল্লি থেকে আসে। এমনকী আমাদের উন্নয়নমূলক কাজ থামিয়ে দিতে… ওরা ইতিমধ্যেই আমাদের একাধিক উন্নয়নমূলক প্রকল্পের কাজ বন্ধ করে দিয়েছে। : মমতা

বহু বিজেপি নেতাই তথ্য দিচ্ছে, ২০২৪ সালের পর বাংলাকে আর কোনও টাকা দেব না। কারণ লোকসভা ভোট ওটা। এটা কেন হবে? আমাদের মৌলিক অধিকার এটা। এটা জনাদেশ, এটা সাংবিধানিক অধিকারের মধ্যে পড়ে। : মমতা

জিএসটি, সবরকম কর বাংলা থেকে নেবে, সরকারের অধিকার নেই কর আদায়ের, আমাদের প্রাপ্যও আমাদের দেয় না। ১০০ দিনের কাজের লোকেদের পর্যন্ত টাকা দিচ্ছে না। কাল অমিত শাহ গেলেন মিটিং করতে। মিটিং করতেই পারেন। নেতারা থাকবেন ছাউনির এসির তলায়, আর কাঠফাটা রোদে বাইরে থেকে ক্ষমতা দেখাতে, লোকপ্রিয়তা দেখাতে জোর করে মানুষকে বসিয়ে রাখবেন। এমনকী যারা সভা ছেড়ে চলে যেতে চেয়েছিলেন, তাঁদের যেতে দেওয়া হয়নি। : মমতা

আমার মিটিংয়েও আপনারা লক্ষ্য করবেন, বুঝি তাঁর কষ্ট হচ্ছে বা কাজ আছে। রমজান মাস, রমজানের একটা সময় আছে, আমরা মিটিং করলেও তাঁদের ছেড়ে দিই। এরকম প্রতিটা ধর্মীয় উৎসবেই আমরা করি। আমরা মিটিংগুলিতে সবার জন্য হ্যাঙার করি। মানুষও তার তলায় বসতে পারেন। : মমতা

লু বইছে। প্রায় ১১ জন মারা গেলেন। ৬০০র উপর মানুষ আহত হলেন। কতটা চোখের জল ফেলেছেন? ক’টা কেন্দ্রীয় দল গিয়েছে। পরশুদিন ইউপিতে, আমি কোনও অপরাধকে সমর্থন করি না, তবে বিজেপিরাজে যা হচ্ছে। কেউ যদি জুডিশিয়ারি কাস্টডিতে থাকেন, সে যদি সাক্ষ্যর জন্য যায়, সেখানেও যেভাবে মেরে দেয়, তারপর ক’টা কেন্দ্রীয় দল গিয়েছে। কী চলছে দেশে? যাকে খুশি মেরে দেওয়া। যাকে খুশি কেটে ফেলো? যাকে খুশি এজেন্সি লাগিয়ে দাও? : মমতা

সবার বিরুদ্ধে সিবিআই লাগিয়ে দিয়েছে। সকলের বিরুদ্ধে ইডি লাগিয়ে দিয়েছে। সবার বিরুদ্ধে কোনও না কোনও এজেন্সি। একটা চকোলেট বোমা ফাটলেও NIA পাঠিয়ে দেয়। NIA-এর কাজ কী? দেশকে সুরক্ষিত করা। কোনও ডিল করা এনআইএর কাজ নয়। আমরাও অনেক কিছু জানি। দিনে দিনে আরও তথ্য আসবে। আমরা গণতন্ত্র মানি, সৌজন্য মানি। এর জন্য কখনও কখনও আমরা সরব হলেও উন্নয়নের ক্ষেত্রে একসঙ্গে কাজ করি। এখানে আমরা সরব হই না। : মমতা


তবে হামকো কোয়ি টকরায়েগা, ও চুর চুর হো যায়ে গা। খালি হামকো নেহি, অরবিন্দ কেজরীবালকো টকরায়া : মমতা

তবে হামকো কোয়ি টকরায়েগা, ও চুর চুর হো যায়ে গা। খালি হামকো নেহি, অরবিন্দ কেজরীবালকো টকরায়া। বিজেপির বিরুদ্ধে এই মামলা নেই? ক’জন বিজেপিকে দেখেছে? বিজেপির সব সৎ। সবাই সন্ত? : মমতা

ব্যাপম কেসে মধ্য প্রদেশে কী হয়েছিল? চাকরির নামে, পরীক্ষার নামে? যারা তদন্ত করছিল, ৫০ জনকে মার্ডার করে দিয়েছে। কী ফল বেরোল? আজ বাংলাকে নিয়ে। কারও ঘরে একটা অ্যাডমিট কার্ড পেলেও। আমি তো সাত বছর সাংসদ ছিলাম। বহু মানুষই এরকম করে। আমি যখন ছিলাম, কেন্দ্রীয় সরকারের কোনও ইন্টারভিউ হলে আমার কাছে আসত। এসে বলত, দিদি একটা অনুরোধ করে দাও না, যদি চাকরিটা হয়ে যায়। তো হাম ফরোয়ার্ড করতে থে মিনিস্টার কো। জাস্ট ফরোয়ার্ডিং দিস অ্যাপিল টু ইউ। : মমতা

আগে তো জনপ্রতিনিধি ক্যারেক্টার সার্টিফিকেট দিত, পাসপোর্টে সই করতে হতো। জনপ্রতিনিধি শুধু বাংলারই খারাপ? যখন সিপিএমের সরকার ছিল, কিছু বলেছে। খালি তো বন্ধুত্ব করে চলে। আমাদের সরকারে আমরা চেষ্টা করি, ভাল কাজ হোক। দুর্নীতির ক্ষেত্রে বহু অফিশিয়ালের বিরুদ্ধেও আমরা ব্যবস্থা নিয়েছি। আমাদের দলের অন্দরেও কারও বিরুদ্ধে দুর্নীতির অভিযোগ এলে আমরা ব্যবস্থা নিয়েছি। : মমতা

তবে বিজেপিকে বলতে চাইব, কার ইশারায় আমাদের লোককে এজেন্সি লোক হেনস্থা করছে? ও তো নিজেই একটা ডাকাত। যার ইশারায় অমিত শাহ চলেন, ওনার যে চিফ অ্যাডভাইজার এখানে আছেন, সব থেকে বড় ডাকাত তিনিই। শিক্ষায় যদি কোনও সমস্যা হয়, উনিই তা প্রথম করেন। বিচার চলছে, তাই এ নিয়ে আমি এর বেশি কিছু বলব না। যা বলার বললাম। : মমতা

একটা চিঠি পাঠিয়েছে ৪-৫ দিন আগে। অমিত শাহের মিটিংয়ে যে স্ট্র্যাটেজি হয়েছে তা তো আমরা জেনে গিয়েছি। বিজেপিকে কমিউনাল টেনশন বাড়াতে হবে, কাস্টিজম করতে হবে, যা করবে এজেন্সি সম্পূর্ণ সহযোগিতা করবে। আমি তো শুনলাম কেন্দ্র থেকে একটা বড় দল এসেছে। বাংলায় বসে আছে। তথ্য আমাদের কাছেও আসে। সব অফিসার বিজেপির সঙ্গে আছে, এমন নয়। : মমতা

ভোটের আগে আবার চিঠি। আমি রাজনীতি, উন্নয়নমূলক কাজ একসঙ্গে করি। আমি দেখছি, ওরা ঠিক করেছে, কোন কোন এলাকায়… গোটা দক্ষিণ ২৪ পরগনাকে সিলেক্ট করেছে। উত্তর ২৪ পরগনাকে সিলেক্ট করেছে। জেনেশুনে। একটা কমিউনিটিকে সরাতে। আরও জেলা আছে। আমি চিঠি দেখিয়ে দেব আপনাদের : মমতা

বলছে, সম্পূর্ণ আধার কার্ড না থাকলে, তাহলে তাকে ফরেনার ঘোষণা করবে। তার মানে আবার ওরা আগুনের সঙ্গে খেলছে উইথ NRC কার্ড। ২০১৪ সাল থেকে এটা করছে। যেহেতু দেশজুড়ে প্রতিবাদ হয়, তাই বন্ধ রেখেছিল। আমাদের কাছে চিঠি এসেছে। ওই অঞ্চলে গিয়ে গিয়ে আমরা যেন আমাদের লোক পাঠিয়ে, ওদের যারা আছে লোক পাঠিয়ে, জয়েন্টলি এনকোয়ারি করে দেখি যদি একটা বাচ্চারও না থাকে সব ফরেনার। বুঝতেই পারছেন সেই অসমের ক্যাম্প। : মমতা

চিঠিতে লেখা আছে বারাসত সাবডিভিশন, গোবরডাঙা, হাবড়া, অশোকনগর, দত্তপুকুর, মধ্যমগ্রাম। বসিরহাট সাবডিভিশনের স্বরূপনগর, বাদুড়িয়া, হিঙ্গলগঞ্জ, হাসনাবাদ, ন্যাজাট, হেমনগর, কোস্টাল সন্দেশখালি, মাটিয়া। বনগাঁ সাবডিভিশনের বাগদা, পেট্রাপোল, গাইঘাটা, গোপালনগর। ব্যারাকপুর সাবডিভিশনের নৈহাটি, শিবদাসপুর, জগদ্দল, বাসুদেবপুর, মোহনপুর, রহড়া, খড়দহ, ঘোলা, নিমতা, নিউ ব্যারাকপুর, দমদম। কলকাতা, সল্টলেক, বাগুইআটি, লেকটাউন, রাজারহাট, নিউটাউন, বসিরহাট পানিটার, আকাহাপুর, হরিদাসপুর, জয়ন্তীপুর, বিড়া, সুটিয়া, ছয়ঘড়িয়া, বাগদা, বাঁশঘাটা, গাঙ্গুলিয়া এরকম প্রচুর নাম আছে। : মমতা

অন্যান্য রাজ্যও দিয়েছে একটা দু’টো। কিন্তু এখানে বাংলায় বেশিরভাগটা। কেন হবে? আটটা জায়গা সিলেক্ট করেছে। বেঙ্গালুরু, ত্রিপুর, এর্নাকুলাম, মুম্বই, নর্থ অ্যান্ড সাউথ ২৪ পরগনা : মমতা

প্রথম ফেজ দিয়েছে, এরপর সেকেন্ড ফেজ দেবে। এগুলো করার যুক্তিটা কী? আবার এনআরসি নিয়ে আসা। আর নতুন করে বলা, আমি তোমাদের ক্যা করে দেব। এলাকাগুলো বাছলেই আপনারা দেখতে পাবেন। কা কা করে ডেকেছিল না। মানুষ প্রতিবাদ করেছিল। কত মানুষ মারা গিয়েছে। কোনও বিচার হয়েছে। কোনও বিচার হয়নি। যখনই ভোট আসে বিজেপি পোলারাইজেশনের বল নিয়ে রাস্তায় নেমে যায়। : মমতা

অনেক ফেক নিউজ বলে। বিজেপির লোক। অন্য জায়গায় হলে জেলে থাকত। বাংলায় আমরা ভদ্রতা করি বলে, এটা করি না। অনেককেই জানি, কীভাবে কথা বলে, ফেসবুক করে, টুইটার করে। আমরা নোট করে রাখব এগুলো। : মমতা

একজনের বিচার না হওয়ার আগেই মিডিয়াকে খাইয়ে দিচ্ছে অমুক লোকের বাড়ি অত টাকা পাওয়া গিয়েছে। আরে ভাই তুই যে টাকাটা ঢুকিয়ে দিয়ে আসিসনি, তার কী প্রমাণ আছে? এরকম তো অনেক কেস আমরা গল্পে, নাটকে, সিনেমায় শুনেছি। আজ তো দেখছি বাস্তব হচ্ছে এগুলো। যারা সবচেয়ে বেশি অত্যাচার করেছে, তাদের বিরুদ্ধে কী ব্যবস্থা নিয়েছে? : মমতা

আজ শ’য়ে শ’য়ে ছেলেমেয়েকে গ্রেফতার করে রেখে দিয়েছে। জেলে ঢুকিয়ে দিয়েছে, যাতে তারা বেরোতে না পারে। ভোটে কাজ করতে না পারে। সারা দেশে এই চলবে? আমরা দেশের কথা বিদেশে বলি না। অথচ আমি বিদেশে গেলে ও পাঁচটা লোক রেখে দেয় টাকা দিয়ে। শুনেছি আমি। যারা মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় গো ব্যাক করে। আমি নাকি বাংলায় গণহত্যা করেছি তাই। তুমি করলে দোষ নয়, অন্যরা বললে দোষ। বাইরে যখন যাওয়ার প্রয়োজন হবে, নিশ্চয়ই সত্যি কথা বলব। আমার যা বলার অধিকার আছে। আমি খোঁজ নিয়ে দেখেছি, পয়সা দিয়ে কেনা হয়েছে। প্রতিটা জায়গায় বদনাম করানোর জন্য। আমি যখন দিল্লি যাই তখনও বিজেপিকে বঙ্গভবনে নানা নাটক করা হয়। রাস্তায় করা হয়। তোমরা যখন এখানে আসো, লাল কার্পেট আমরা নিয়ে আসি। : মমতা

দ্রব্যমূল আকাশছোঁয়া, তা নিয়ে কেন্দ্রের কোনও চিন্তা নেই। নোটিফিকেশন করেছিল নোট, রাস্তায় দাঁড়িয়ে ১৪০ জন মানুষ মারা গিয়েছিল। যেটা নোটবন্দি। কোনও বিচার পায়নি কেউ। এলআইসি বেঁচে দেওয়া হচ্ছে, অনেক ব্যাঙ্ক তুলে দেওয়া হচ্ছে, বিএসএনএল বিক্রি করে দেওয়া হচ্ছে কোনও বিচার নেই। সংসদ একদিনও চলে না। সরকারের এটাই স্ট্র্যাটেজি ছিল, যাতে কেউ কোনও প্রশ্ন করতে না পারে। সরকার তো চায় হাউজটা চলুক। এই প্রথম দেখলাম সরকার চায় না। ওরা গায়ের জোরে বুলডোজার দিয়ে ফেডারেল স্ট্রাকচারটাকে খেয়ে নেওয়া হচ্ছে। অন্ধ্র, তেলেঙ্গানা, তামিলনাড়ু, দিল্লি, পঞ্জাব, ওড়িশা বেশিরভাগ জায়গায়। ভোটের আগে ভয় দেখাও, আসন কিছু কম পেলে টাকা দিয়ে কিনে নাও। গণতন্ত্রকে রিপ্লেস করছে। : মমতা

সংবিধানকে রিপ্লেস করছে বিভিন্ন কাজের মাধ্যমে। ইতিহাস তো বলছে একটা অধ্যায় থাকবেই না। আমরা যারা ইতিহাসের ছাত্রী জানি, ইতিহাস নিয়ে এমএতে তিনটে পার্ট পড়ায়। একটা অ্যানসিয়েন্ট হিস্ট্রি, একটা মিডিয়েবল হিস্ট্রি, একটা মর্ডান হিস্ট্রি। তা একটা পার্ট যদি তুলেই দেওয়া হয়। যা খুশি তাই করা যায় নাকি? আমরা এগুলো লক্ষ্য রাখছি। তীব্র প্রতিবাদ করছি। : মমতা

আমি আবার সব বিরোধী দলকে বলব, এক জোট হন। সবাই মিলে মিলি। সবাই মিলে মিলিত হই। এই গণতন্ত্রের সাগরতীরে ফেডারেল স্ট্রাকচারের সাগরতীরে, ইতিহাসের সাগরতীরে সকলে যদি মিলিত হয়ে কাজ করি, আমি নিশ্চিত বিজেপি ২৪-এ আসবে না। : মমতা

বিজেপি যেন আমাদের দুর্বল না ভাবে। একুশের মতো শুরু করেছে। আপকি বার দোশো পার। এখন চিৎকার করতে শুরু করেছে ৩৫টা পাব। আগে ৫টা পেয়ে দেখাও। নেই কাজ তো খই ভাজ। : মমতা

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here