Desher Samay
প্রচ্ছদলেটেস্ট নিউজদেশপশ্চিমবঙ্গকলকাতাউত্তরবঙ্গজেলাব্যবসাবিনোদনখেলাআন্তর্জাতিকবাংলাদেশফটো গ্যালারিভ্রমণকাহিনীসম্পাদকের পছন্দসরাসরিইউটিউবই-পেপার
Breaking News

LakshmirBhandar লক্ষ্মীর ভান্ডারের মত জনপ্রিয় প্রকল্পে অর্থ দপ্তরের নজরদারির বাঁধন শিথিল নবান্নের, প্রশ্ন লোকসভা ভোট পাখীর চোখ করেই কি এত তোড়জোড়!

deshersamay

Share article:

পার্থসারথি সেনগুপ্ত, কলকাতা: লক্ষ্মীর ভান্ডার প্রকল্পের উপভোক্তদের জন্য ‘ সুখবর ‘ !

উপভোক্তাদের ব্যাংক অ্যাকাউন্টে যাতে চট চট জলদি তাদের প্রাপ্য ভাতা পৌঁছয় সেদিকে নজর দিয়েই নিয়মের কড়াকড়ি অনেকটাই শিথিল করলো নবান্ন। একইভাবে জয় বাংলা পেনশন স্কীম ও কৃষক বন্ধুর মত জনহিতকর সামাজিক প্রকল্পের ক্ষেত্রেও একই অবস্থান নিয়েছে রাজ্য সরকার। সাধারণভাবে এই ধরনের প্রকল্পগুলিতে বরাদ্দ ট্যাক্স অর্থ দপ্তরের ( অডিট ) বিভাগের একটি বিশেষ শাখার ( গ্রুপ টি) ‘ র অনুমোদন সাপেক্ষেই প্রকল্পগুলির সঙ্গে সংশ্লিষ্ট দপ্তরের নির্দিষ্ট ব্যাংক অ্যাকাউন্টে পাঠানোই দস্তুর।

পরবর্তী ধাপে সেখান থেকে আবার জনে জনে উপভোক্তাদের ব্যাংক অ্যাকাউন্টে টাকা পৌঁছয়। আর্থিক নিয়মবিধি শিথিল করার জেরে এবার থেকে গ্রুপ টি ‘ র অনুমোদন ছাড়াই টাকা সংশ্লিষ্ট দপ্তরগুলির ব্যাংক অ্যাকাউন্টে যাবে। সেখান থেকে আবার সরাসরি তিন প্রকল্পেরই উপভোক্তাদের ব্যাংক অ্যাকাউন্টে টাকা ঢুকবে। অতি সম্প্রতি ১৯ ফেব্রুয়ারি নবান্নে অর্থ সচিব এই সংক্রান্ত নির্দেশ নামাটি জারি করেছেন।

সরকারি এক কর্তার কথায়, ,” প্রকল্প সংক্রান্ত টাকা ছাড়ার ক্ষেত্রে আর্থিক নিয়ম কানুন শিথিল করার অন্য দৃষ্টান্ত আছে। যেমন কিছু দিন আগে রাজ্য সরকার কেন্দ্রীয় অনুদান প্রাপ্ত বেশ কিছু প্রকল্পের টাকা ব্যাংক অ্যাকাউন্টে পাঠানোর জন্য যে আবশ্যক শর্ত এতদিন লাগু ছিল অর্থাৎ অর্থ দপ্তরের টি সেকশনের অনুমোদন নেওয়া, তা শিথিল করেছিল। এবার রাজ্যের প্রকল্পগুলিতেও সেটাই করা হলো। এটা আর্থিক স্তরে প্রশাসনিক বিকেন্দ্রীকরণের পথে এগোনো। ” যদিও অন্য এক আমলা মনে করেন,” ইদানিং কেন্দ্রীয় সরকার রাজ্যে সরকারি স্তরে আর্থিক লেন দেনগুলির উপর কড়া নজর রাখছে। একশ দিনের কাজ বা আবাস যোজনার মত কেন্দ্রীয় প্রকল্পে খরচে নানা গরমিল খতিয়ে দেখতে দিল্লী থেকে বারে বারে কেন্দ্রীয় টিমও আসছে। ‘

তার সংযোজন, ” অর্থ দপ্তরের সরাসরি অনুমোদন ছাড়া রাজ্যের বিভিন্ন প্রকল্পের টাকা সরাসরি বিভাগীয় অ্যাকাউন্টগুলিতে ঢালার জেরে প্রকল্পের রূপায়নে কোনো অপচয় বা অসঙ্গতি যে হবে, তার গ্যারান্টি আগে ভাগে কে দেবে? ” আমলাদের অন্য এক অংশ অবশ্য রাখ ঢাক না করেই রায় দিয়েছেন, সামনে তো লোকসভা ভোট। সেদিকে নজর রেখেই অর্থ দপ্তরেরন। নিয়মের বাঁধন শিথিল করার কার্য কারণও উড়িয়ে দেওয়া যায় না!

বিশেষ করে, অর্থ সচিব তাঁর নির্দেশে স্পষ্টতই জানিয়েছেন যে লক্ষ্মীর ভান্ডার, জয় বাংলা পেনশন স্কীম ও কৃষক বন্ধু তিনটিই রাজ্যের বিভিন্ন জনহিতকর প্রকল্পগুলির মধ্যে ‘ অগ্রগণ্য ‘ বা ফ্লাগশিপ স্কিম। এক অর্থে, এই তিনটি প্রকল্পকে যে অভিধা দিয়েছেন মুখ্য সচিব, বাস্তবের কষ্টি পাথরে যাচাই করলেও দেখা যায়, তাতে তিল মাত্র অতিশোয়াক্তি নেই। বিভিন্ন সময়ে দুয়ারে সরকারের যে শিবিরগুলি রাজ্য জুড়ে হয়, তাতে বিভিন্ন প্রকল্পের যে আবেদন জমা পড়ে, সেগুলির জনপ্রিয়তার নিরিখে এই তিনটি প্রকল্পের তুলনা মেলা ভার। লক্ষ্যনীয়, সেদিকে নজর রেখেই ২০২৪ সালের বাজেট অধিবেশনে জানানো হয়েছে যে, লক্ষ্মীর ভান্ডারের আওতায় আর্থিক সহায়তার পরিমাণ বৃদ্ধি করে তফসিলি জাতি এবং উপজাতি শ্রেণীর জন্য মাসিক ₹১,২০০/- টাকা এবং অন্যদের জন্য মাসিক ₹১০০০/- টাকা করা হবে। এপ্রিল মাস থেকে এই বর্ধিত সহায়তা চালু করা হবে। /নারী ও শিশু উন্নয়ন এবং সমাজকল্যাণ বিভাগের অধীনস্থ এই প্রকল্পে প্রায় ২ কোটিরও উপভোক্তা রয়েছেন।

অর্থাৎ লক্ষ্মীর ভান্ডারের মত জনপ্রিয় প্রকল্পগুলি যে নির্বাচনী বৈতরণী পেরতে শাসক দলকে অনিবার্য ভাবে সহায়তা করতে পারে, তা বলার অপেক্ষা রাখে না!

এই প্রকল্প ঘিরে অবশ্য হালে কিছু বিতর্কও জট বেঁধেছে। যেমন, গত ডিসেম্বর বা সেপ্টেম্বরে দুয়ারে সরকার শিবিরগুলিতে যারা লক্ষীর ভান্ডারে নাম লিখিয়েছিলেন তাদের টাকা পাওয়া নিয়ে দেখা দিয়েছে জটিলতা। কয়েকমাস মাস কেটে যাওয়ার পরও লক্ষ্মীর ভান্ডারে টাকা উপভোক্তাদের ব্যাংক অ্যাকাউন্টে ঢোকার ক্ষেত্রে দেরি হচ্ছে বলেই অভিযোগ উঠছে। এই বিষয়ে অবশ্য রাজ্য সরকারের তরফ থেকে আশ্বস্ত করা হয়েছে যে টাকা মিলবে, চিন্তার কোনো কারণ নেই। আর কারো কারো অধার কার্ড কেন্দ্রের তরফে ” নিষ্ক্রিয় ” করে দিলেও টাকা পেতে অসুবিধা হবে না।

কৃষক বন্ধু প্রকল্পটি রাজ্য সরকার কৃষিজীবীদের কল্যানে ২০১৯ সালে চালু করেছিল। কৃষি বিভাগ দ্বারা পরিচালিত এই প্রকল্পে বছরের ২ টি সময় (খারিফ ও রবি) কৃষকদের দুটি সমান কিস্তিতে সর্বাধিক ₹১০,০০০/- টাকার আর্থিক সহায়তা প্রদান করা হয়ে থাকে। আর প্রকল্পে উপভোক্তা কৃষকের অকাল মৃত্যুতে পরিবারকে এককালীন ২ লক্ষ টাকার আর্থিক সহায়তাও প্রদান করা হয়। এই প্রকল্পে ৯০ লক্ষেরও বেশী কৃষক উপকৃত হয়েছেন।

রাজ্যে প্রান্তিক মানুষদের জন্য পেনশন প্রকল্পও শুরু হয়েছে।২০২০ সালের আগে পেনশন প্রকল্পগুলি বিভিন্ন নামে চলছিল।কিন্তু ২০২০ সালে পশ্চিমবঙ্গ সরকার সমস্ত বিভাগের পেনশনের জন্য একটি সর্বাঙ্গীন বা সামগ্রিক প্রকল্প শুরু করেছে। এটি জয় বাংলা প্রকল্পের আওতায়। এর নোডাল বিভাগ হল পশ্চিমবঙ্গ সরকারের অর্থ দপ্তর। পশ্চিমবঙ্গ জয় বাংলা প্রকল্পের অধীনে ৯ টি উপ-প্রকল্পের মধ্যে রয়েছে, বয়স্ক ও বিধবাদের জন্য ভাতা, তপশিলি বন্ধু ভাতা ও জয় জোহর প্রকল্প, মানবিক পেনশন ইত্যাদি ।

Advertisement
Tags: featured

একটি মন্তব্য করুন

আপনার ইমেল ঠিকানা প্রকাশ করা হবে না। চিহ্নিত ক্ষেত্রগুলি আবশ্যক *

Home Language Gallery e-Paper
Menu
© 2026 Desher Samay.

Select Language

ভাষা নির্বাচন করুন