
বনগাঁ: মনে পড়ে সাহিত্যিক বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়ের লেখা উপন্যাসের সেই “রাধারাণী”র কথা । উপন্যাসটি রথযাত্রার সময়কালের পটভূমিতে রচিত। গল্পটি মাহেশের রথযাত্রার প্রেক্ষাপটে লিখেছিলেন লেখক ।
এবারের প্রেক্ষাপট বনগাঁর রথযাত্রা – তবে এবার কোন লেখক নন । একজন চিত্র সাংবাদিক তাঁর ক্যামেরায় একটি ক্লিকে তুলে ধরেছেন “রাধারাণী”র কথা । যা ইতি মধ্যেই ভাইরাল হয়েছে সোশ্যাল মিডিয়ায় ।
শিশু শ্রমে মলিন হয়ে যাওয়া এক শৈশব ধরা পড়ল বনগাঁর রথের মেলায়। বয়স মাত্র সাত বছর। এই বয়সে আর পাঁচটা মেয়ের হাতে থাকে খেলনা,পড়ার বই। বাবা মায়ের কাছে আবদার জুড়ে রথের মেলায় যাওয়াটাই দস্তুর। রথের মেলা থেকে পাপর,জিলিপি খাওয়ার পাশাপাশি বায়না ধরে রকমারি হাতের চুড়ি কিনে দেওয়ার। কিন্তু এর বিপরীত পথে হাঁটতে দেখা গেল মাত্র সাত বছরের মেয়েটিকে। তাঁর হাতে খেলনা নেই। নেই জিলিপিও। তার পরিবর্তে বনগাঁ রথের মেলায় ঘুরে ঘুরে বাদাম আর ঝুড়ি ভাজা বিক্রি করতে দেখা গেল সাত বছরের ওই শৈশবকে। দেখুন ভিডিও
রথের মেলায় হাজারো ভিড়ে শিশু শ্রমের এই ছবি এখন সোশ্যাল মিডিয়ায় ভাইরাল হতেই নড়েচড়ে বসেছেন বনগাঁ পুরসভার চেয়ারম্যান।
রবিবার উত্তর২৪ পরগনার বনগাঁর দেবগড়ের বাড়িতে গিয়ে নাবালিকার পড়াশুনোর ব্যবস্থা করার আশ্বাস দিয়েছেন পুরসভার চেয়ারম্যান গোপাল শেঠ।
শুক্রবার গোটা রাজ্যের সর্বত্রই ছিল রথযাত্রার উন্মাদনা।বনগাঁ শহরেও এর ব্যতিক্রম ছিল না।ভবানীপুরের গৌড়ীয় মঠ থেকে শিমুলতলার গৌড়ীয় মঠ পর্যন্ত ছিল রথের পরিক্রমা। রথের ভিড়ে শহর জুড়ে ছিল হাজারো মানুষের ভিড়। সেই ভিড়ে খালি পায়ে সাদার উপরের কালো ফুটি ফুটি জমা পরে বনগাঁর কোর্ট রোড ও বিচালী হাটা সংলগ্ন রাস্তায় ঘুরে ঘুরে বাদাম,ঝুড়ি বাজা বিক্রি করছিল বনগাঁর ১১ নম্বর ওয়ার্ডের দেবগড়ের একেবারেই প্রান্তিক পরিবারের মাত্র সাত বছরের মেয়েটি। ওর নাম প্রিয়া হালদার (৭), মা রাখি হালদার পরিচারিকার কাজ করেন। বাবা বাবু রাম হালদার দিন মজুর ।
হালদার পরিবারে ৩ ভাই এর সঙ্গে বড় হচ্ছে প্রিয়া ।
শিশু শ্রমে মলিন হয়ে গিয়েছিল বাচ্চা মেয়েটির মুখ। শিশু শ্রমের বিরুদ্ধে সেমিনার হয়। মঞ্চ আলো করে এর বিরুদ্ধে বক্তব্য পেশ করেন প্রশাসনের কর্তারা।কিন্তু বনগাঁ রথের মেলায় শিশু শ্রমের এই ছবি সোশ্যাল মিডিয়ায় ভাইরাল হতেই নড়েচড়ে বসেছেন বনগাঁ পুরসভার চেয়ারম্যান।
এই প্রসঙ্গে পুরসভার চেয়ারম্যান গোপাল শেঠ বলেন, বিষয়টি খুব বেদনাদায়ক। খোঁজ নিয়ে দেখেছি,ওই মেয়েটির মা অন্যের বাড়িতে পরিচারিকার কাজ করেন।তাঁর ছোট একটি ভাই আছে।অভাবের সংসারে সাত বছরের বাচ্চা মেয়েটিকে রথের মেলায় রাস্তায় ঘুরে ঘুরে বাদাম বিক্রি করতে হচ্ছে। সেই দৃশ্য ধরা পড়েছে চিত্র সাংবাদিক পার্থ সারথি নন্দী’র ক্যামেরায় । তিনি ছবিটি তুলে সোশ্যাল মিডিয়ায় পোষ্ট করেন এবং আমাদের মনে পড়ে যায় সাহিত্যিক বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়ের লেখা উপন্যাসের সেই “রাধারাণী”র কথা । আজ ছবির পিছনের সেই গল্প আমাদের ছোট্ট প্রিয়া “রাধারাণী”।
আমি রবিবার প্রিয়ার বাড়িতে গিয়ে ওর পড়াশুনোর জন্য যাবতীয় ব্যবস্থা করব। ওর জন্য খেলার পুতুল কিনে দেব। রথের মেলায় বাচ্চা মেয়েটি আমাদের কাছে জগন্নাথ। এখানে প্রিয়া একটি নিষ্পাপ, সরল ও সহানুভূতিশীল মেয়ের চরিত্রে চিত্রিত হয়েছে। তার চরিত্রের মাধ্যমে কিশোর মনের কোমল দিকটি ফুটিয়ে তুলেছেন চিত্র গ্রাহক । এমন বিড়ল মুহুর্ত্ত কে ক্যামেরাবন্দী করে সমাজের সামনে তুলে ধরার জন্য চিত্র সাংবাদিকে শুভেচ্ছা জানাই ।



