

ভোটের আর দু’থেকে আড়াই মাস বাকি। তার আগে বৃহস্পতিবার রাজ্য সরকারের একাধিক প্রকল্পে ভাতা বৃদ্ধির ঘোষণা করা হয়েছে। একইসঙ্গে বেড়েছে সিভিক ভলান্টিয়ার , গ্রিন পুলিশদের বেতনও। এর পাশাপাশি তাঁদের ক্ষতিপূরণের অঙ্কও বাড়িয়েছে রাজ্য সরকার।

বৃহস্পতিবার রাজ্য বাজেটে অর্থমন্ত্রী চন্দ্রিমা ভট্টাচার্য ঘোষণা করেন, সিভিক ভলান্টিয়ার ও গ্রিন পুলিশদের মাসিক বেতন আরও ১ হাজার টাকা বাড়ানো হচ্ছে। এর জন্য বরাদ্দ করা হয়েছে মোট ১৫০ কোটি টাকা। এছাড়াও, কর্মরত অবস্থায় সিভিক ভলেন্টিয়ারদের মৃত্যু হলে তাঁদের পরিবারের জন্য ক্ষতিপূরণের অঙ্ক বাড়িয়ে ৫ লক্ষ টাকা করা হয়েছে। এতদিন এই ক্ষতিপূরণ ছিল ৩ লক্ষ টাকা।

এর আগে ২০২৪ সালে রাজ্য বিধানসভা বাজেটে সিভিক ভলান্টিয়ারদের ভাতা বেড়েছিল ১০০০ টাকা। সেবার ১৮০ কোটি টাকা বরাদ্দ করা হয়েছিল রাজ্য সরকারের তরফে। সেবার রাজ্য পুলিশের ২০ শতাংশ চাকরি সংরক্ষিত রাখা হয়েছিল সিভিক ভলান্টিয়ারদের জন্য। তার আগে পর্যন্ত সেটাই ১০ শতাংশ ছিল।

এর পাশাপাশি ‘লক্ষ্মীর ভান্ডার’ প্রকল্পে উপভোক্তাদের জন্য মাসে ৫০০ টাকা করে বাড়ানোর কথা ঘোষণা করা হয়েছে। রাজ্যের সরকারি কর্মীদের মহার্ঘভাতাও (DA) চার শতাংশ বাড়ানোর ঘোষণা হয়েছে। আশাকর্মী, অঙ্গনওয়াড়ি কর্মী এবং অঙ্গনওয়াড়ি সহায়কদের ভাতাও ১০০০ টাকা করে বৃদ্ধির উল্লেখ রয়েছে বাজেটে।
এবারের বাজেটে সবথেকে বড় ঘোষণা – মাধ্যমিক পাশ বেকারদের জন্য বাংলার যুব সাথী নামে নতুন প্রকল্প।

আগামী ১৫ অগস্ট থেকে এই প্রকল্প চালু হবে। ২১-৪০ বছর বয়সি মাধ্যমিক পাশ যুবক যুবকদের মাসে ১৫০০ টাকা ভাতা দেওয়া হবে। তবে এই ভাতা পাওয়া যাবে সর্বোচ্চ পাঁচ বছরের জন্য।
বাজেট ঘোষণার পর সাংবাদিক বৈঠকে মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় দাবি করেন, তাঁর সরকারের আমলে রাজ্যে বেকারত্ব কমেছে ৪৫.৬৫ শতাংশ। পাশাপাশি প্রায় ১ কোটি ৭২ লক্ষ মানুষকে দারিদ্রসীমার বাইরে এনে দেওয়া সম্ভব হয়েছে।

ভোটের বছরে বাজেট ঘিরে বিরোধীদের কটাক্ষের জবাবেও এদিন কড়া বার্তা দেন মুখ্যমন্ত্রী। তাঁর কথায়, ‘‘ভোট আসছে বলে অনেক কিছু বললাম, আর পরে করলাম না—এটা আমরা করি না। কথা দিলে কথা রাখি। আগেও ভোটের মুখে যে প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলাম, তা রক্ষা করেছি। এটা মানুষের ধর্ম হওয়া উচিত। ’’ মমতার দাবি, এই বাজেট বাংলার মানুষের গর্ব।

উল্লেখযোগ্যভাবে, বর্তমান রাজ্য সরকারের মেয়াদ মধ্য মে পর্যন্ত। ফলে এবার পূর্ণাঙ্গ বাজেট নয়, বৃহস্পতিবার বিধানসভায় ভোট অন অ্যাকাউন্ট পেশ করেন অর্থ প্রতিমন্ত্রী চন্দ্রিমা ভট্টাচার্য। তার পরেই সাংবাদিক বৈঠক থেকে রাজ্যের উন্নয়নের ‘রেকর্ড’ খতিয়ান তুলে ধরেন মুখ্যমন্ত্রীর প্রধান মুখ্য উপদেষ্টা অমিত মিত্র।



