প্রচ্ছদলেটেস্ট নিউজদেশপশ্চিমবঙ্গকলকাতাউত্তরবঙ্গজেলাব্যবসাবিনোদনখেলাআন্তর্জাতিকবাংলাদেশফটো গ্যালারিভ্রমণকাহিনীসম্পাদকের পছন্দসরাসরিইউটিউবই-পেপার
Breaking News

শান্তনু ও অশোকের দ্বন্দ্বের জেরে বন্ধ পেট্রাপোলের লোডিং ও আনলোডিং , প্রভাব পড়েছে আন্তর্জাতিক বাণিজ্যেও

deshersamay

Share article:

পালাবদলের পর থেকেই পেট্রাপোল সীমান্তে
ভারতীয় মজদুর সঙ্ঘের শ্রমিক সংগঠনের দখলদারি নিয়ে কেন্দ্রীয় জাহাজ প্রতিমন্ত্রী শান্তনু ঠাকুর এবং খাদ্যমন্ত্রী অশোক কীর্তনিয়ার মধ্যে বিবাদ চলছিল বলে অভিযোগ উঠেছে দলের অন্দরেই।

বিজেপির এই দুই নেতার হাত ধরে ভারতীয় মজদুর সঙ্ঘের শ্রমিকদের মধ্যেও দ্বন্দ্ব প্রকাশ্যে এসেছে। পেট্রাপোল সীমান্তে ভারতীয় মজদুর সঙ্ঘের অন্দরে গোষ্ঠীদ্বন্দ্বের জেরেই গত ২৪ ঘণ্টা ধরে আন্তর্জাতিক সীমান্তে পণ্য লোডিং ও আনলোডিং বন্ধ রয়েছে। তার প্রভাব পড়েছে আন্তর্জাতিক বাণিজ্যের ক্ষেত্রে।

বিষয়টি জানার পরেই সোমবার এই সংক্রান্ত বিষয় নিয়ে পেট্রাপোল স্থল বন্দরের ম্যানেজারের সঙ্গে বৈঠক করেন কেন্দ্রীয় জাহাজ প্রতিমন্ত্রী শান্তনু ঠাকুর। বৈঠকের শেষে ভারতীয় মজদুর সঙ্ঘের শ্রমিকদের মধ্যে বিভাজন করে লোডিং এবং আনলোডিং কাজের পার্সেন্টেজ ঠিক করে দেন শান্তনু। মঙ্গলবার থেকে কাজ শুরু করার নির্দেশও দিয়েছেন তিনি।কিন্তু এই বিভাজনে শান্তনুর এক্তিয়ার নিয়েই সরব হয়েছেন খাদ্যমন্ত্রীর ঘনিষ্ঠ বিএমএস নেতৃত্ব।

তৃণমূলের সময়ে পেট্রাপোল সীমান্তে পণ্য লোডিং ও আনলোডিংয়ের কাজের একচেটিয়া দখলদারি ছিল তৃণমূল শ্রমিক সংগঠনের হাতে।পালাবদলের পর ভারতীয় মজদুর সঙ্ঘের এখন একচেটিয়া দখল রয়েছে সীমান্তে। কিন্তু পেট্রাপোল সীমান্তে ভারতীয় মজদুর সঙ্ঘের অধীনে শ্রমিকদের মধ্যে এবং পণ্য লোডিং এবং আনলোডিংয়ের ক্ষেত্রে দখলদারি নিয়েই শান্তনু এবং অশোক কীর্তনিয়ার মধ্যে শুরু হয় বিবাদ। এই বিবাদ ছড়িয়ে পড়ে বিএমএসের অন্দরেও।

পেট্রাপোল এলাকা বনগাঁর ছয়ঘরিয়া পঞ্চায়েতের মধ্যে পড়ে। সেটি অশোক কীর্তনিয়ার নির্বাচনী ক্ষেত্র। গত ২৬ অক্টোবর পেট্রাপোল সীমান্তে গিয়েছিলেন খাদ্যমন্ত্রী। ল্যান্ড পোর্ট অথরিটির ম্যানেজার–সহ বিএমএস শ্রমিক সংগঠনের নেতৃত্বদের সঙ্গে বৈঠক করেন অশোক। বৈঠকের পর তিনি লোডিং, আনলোডিং কাজে বিএমএস শ্রমিকদের ৭৮ পার্সেন্টেজ কাজের সিদ্ধান্তের কথা জানিয়েছেন। বাকি ২২ শতাংশ বিহারি শ্রমিকদের দেওয়ার কথাও জানিয়ে আসেন অশোক। এর পরেই আসরে নামেন শান্তনু ঠাকুর। পেট্রাপোল সীমান্তে বিএমএসের একটি অনুষ্ঠানে যোগ দিয়ে খাদ্যমন্ত্রীর নাম না করে হুঁশিয়ারি দিয়ে আসেন তিনি।

দলের দুই নেতার এই দ্বন্দ্বের জেরেই গত ২৪ ঘণ্টা ধরে পেট্রাপোল সীমান্তে পণ্য লোডিং এবং আনলোডিং বন্ধ। সোমবার পেট্রাপোল সীমান্তে আসেন শান্তনু। বৈঠক করেন ল্যান্ড পোর্ট অথরিটির ম্যানেজার কমলেশ সাহানির সঙ্গে। বৈঠকের শেষে বিএমএসকে দু’টি ভাগে ভাগ করে লোডিং, আনলোডিংয়ের কাজের পার্সেন্টেজ ঠিক করে দেন তিনি।

শান্তনু বলেন, ‘এটি কেন্দ্রের ইস্যু। কেন্দ্রের প্রতিনিধি হিসেবে সমস্যা সমাধানের চেষ্টা করেছি। বিএমএসকে দু’টি ভাগ করে কাজের ভাগ করা হয়েছে। কয়েকজন সেটা মানতে নারাজ। কিন্তু এই সিদ্ধান্ত তাদের মানতেই হবে।’ মঙ্গলবার থেকে পণ্য লোডিং, আনলোডিং শুরু হবে বলেও তিনি জানিয়েছেন। কিন্তু এই সিদ্ধান্ত মানতে নারাজ বিএমএসের নগর কমিটির সম্পাদক তথা খাদ্যমন্ত্রীর ঘনিষ্ঠ নেতা রাজীব গোস্বামী। তিনি বলেন, ‘বিএমএস-১ কে ২০ শতাংশ এবং বিএমএস- ২ কে ৫০ শতাংশ কাজের ভাগের কথা বলেছেন শান্তনু ঠাকুর। এ ভাবে বিভাজন করার এক্তিয়ার নেই তাঁর।’

এই প্রসঙ্গে অশোক কীর্তনিয়া বলেন, ‘এ দিন কে বা কারা গিয়ে বিএমএসের মধ্যে বিভাজন করে এসেছেন। এই ভাগের অধিকার কার রয়েছে? আমি শ্রমিকদের রক্ত ঝরানো অর্থ কাউকে খেতে দেব না।’

Tags: জেলা

একটি মন্তব্য করুন

আপনার ইমেল ঠিকানা প্রকাশ করা হবে না। চিহ্নিত ক্ষেত্রগুলি আবশ্যক *

Home Language Gallery e-Paper
Menu
© 2026 Desher Samay.

Select Language

ভাষা নির্বাচন করুন