প্রচ্ছদলেটেস্ট নিউজদেশপশ্চিমবঙ্গকলকাতাউত্তরবঙ্গজেলাব্যবসাবিনোদনখেলাআন্তর্জাতিকবাংলাদেশফটো গ্যালারিভ্রমণকাহিনীসম্পাদকের পছন্দসরাসরিইউটিউবই-পেপার
Breaking News

‘ফোন করলেই পারমিশন, চিঠি যায় পরে’ মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দুর সঙ্গে বন্ধুত্বের গল্পও বলে দিলেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী শাহ

deshersamay

Share article:

রাজ্যে বিজেপি সরকারের ১০০ দিন পূর্তি। বিধানসভা নির্বাচনের আগে বাংলায় কার্পেট বম্বিং করেছিলেন কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ। ক্ষমতায় আসার পরও তিনি রাজ্যে সফরে এসেছিলেন। এবার এসএসবি-র অনুষ্ঠানে যোগ দিতে উত্তরবঙ্গে এলেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী শাহ। সেই অনুষ্ঠান থেকে ভূয়সী প্রশংসা করলেন রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর। তিনি দায়িত্ব গ্রহণের পর রাজ্যের জন্য কী কী পরিবর্তন হয়েছে, কেন্দ্রের কী সুবিধা হয়েছে-তাও ব্যাখ্যা দিলেন।

শুক্রবার শিলিগুড়িতে এসএসবি-র একটি অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখতে গিয়ে শুধু প্রশাসনিক সিদ্ধান্তের গতি নয়, শুভেন্দু অধিকারীর সঙ্গে তাঁর ব্যক্তিগত সম্পর্কের কথাও প্রকাশ্যে আনলেন শাহ।

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর বক্তব্যে উঠে এল এমন এক সমীকরণের ছবি, যেখানে সরকারি কাজের প্রয়োজনে ফোন করলেই দ্রুত অনুমোদন পাওয়া যায়, আনুষ্ঠানিক চিঠি পরে পৌঁছয়।

এসএসবি-র অনুষ্ঠানে বাংলার মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে শুভেন্দু অধিকারীর উপস্থিতির প্রসঙ্গ টেনে শাহ বলেন, সীমান্ত সুরক্ষার মতো বিষয়ে রাজ্য সরকারের সহযোগিতা পেতে তাঁর সঙ্গে যোগাযোগ করলেই দ্রুত সাড়া পাওয়া যাচ্ছে।
শাহর কথায়, “শুভেন্দুজির প্রশংসা করতে চাই। উনি আসার পর সীমা সুরক্ষা নিয়ে আমাদের যখনই কোনও সহযোগিতার প্রয়োজন হয়েছে, ফোন করলেই পারমিশন পাওয়া যায়। চিঠি তো পরে যায়।”

শুভেন্দু সরকারের প্রশাসনিক তৎপরতার উদাহরণ দিতে গিয়ে বিএসএফ ও এসএসবির জন্য জমি দেওয়ার প্রসঙ্গও সামনে আনেন শাহ। তিনি জানান, দীর্ঘদিন ধরে কেন্দ্রের পক্ষ থেকে চাওয়া ১১২৯ একর জমি নতুন সরকার গঠনের মাত্র ৪৫ দিনের মধ্যেই বিএসএফ ও এসএসবির জন্য দেওয়া হয়েছে। তবে আরও ২৯ একর জমি তখনও বাকি ছিল বলে জানান তিনি। সেই জমির প্রসঙ্গই এ দিন সকালে মুখ্যমন্ত্রীর সঙ্গে আলোচনায় তুলেছিলেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী।

শাহর বর্ণনা অনুযায়ী, মুখ্যমন্ত্রী তাঁকে জানিয়েছেন, ওই ২৯ একর জমির জন্য প্রয়োজনীয় অর্থ পেলেই পরের দিন অনুমোদন দেওয়া হবে। এই ঘটনাকে শুভেন্দু অধিকারী সরকারের কাজের গতির উদাহরণ হিসেবেই তুলে ধরেছেন শাহ।

এ দিন অবশ্য শুধু মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে শুভেন্দুর প্রশাসনিক ভূমিকার প্রশংসাতেই থামেননি অমিত শাহ। প্রকাশ্যে আনলেন তাঁদের ব্যক্তিগত সম্পর্কের কথাও। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, শুভেন্দু অধিকারী শুধু বিজেপির মুখ্যমন্ত্রী বলেই তাঁর সঙ্গে এমন সমন্বয় তৈরি হয়নি। তাঁর কথায়, “শুভেন্দুজি আমার বন্ধু, আমি ওঁকে বুঝি।”

দু’জনের মধ্যে দীর্ঘ সময় ধরে বাংলার উন্নয়ন এবং রাজ্যের বিভিন্ন সমস্যা নিয়ে আলোচনা হয় বলেও জানান তিনি। শাহর দাবি, শুভেন্দু বোঝেন যে অনুপ্রবেশ বন্ধ না করলে পশ্চিমবঙ্গ তথা দেশের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা সম্ভব নয়। সীমান্ত সুরক্ষার জন্য কাঁটাতারের প্রয়োজনীয়তার কথাও মুখ্যমন্ত্রী উপলব্ধি করেন বলে জানান তিনি।

বর্তমান সরকারের ভূমিকার প্রশংসা করতে গিয়ে আগের তৃণমূল সরকারকেও আক্রমণ করেন কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী। শাহ বলেন, এসএসবি বা বিএসএফ কোনও রাজনৈতিক দলের সংগঠন নয়। এগুলি দেশের সীমান্ত রক্ষায় নিয়োজিত বাহিনী। তাই দলমত নির্বিশেষে জওয়ানদের সঙ্গে রাজ্য সরকারের সুসম্পর্ক থাকা প্রয়োজন। মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে শুভেন্দু অধিকারী এসএসবির অনুষ্ঠানে এসেছেন—এটি উল্লেখ করে শাহ দাবি করেন, আগের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কেও এই ধরনের অনুষ্ঠানে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছিল। তাঁর অভিযোগ, তিনি সেই আমন্ত্রণ গ্রহণ করেননি।

সীমান্ত সুরক্ষার জন্য জমির প্রসঙ্গ টেনে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের বিরুদ্ধেও সরব হন শাহ। তাঁর দাবি, বিএসএফের জন্য প্রয়োজনীয় জমি দেওয়ার বিষয়ে আগের সরকারের কাছে বারবার আবেদন করা হয়েছিল। এমনকী তিনি নিজে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের দফতরে গিয়ে জমি দেওয়ার অনুরোধ করেছিলেন বলেও জানান। শাহর বক্তব্য, মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় সম্মতি জানালেও শেষ পর্যন্ত জমি দেওয়া হয়নি। এরপরই বাংলার ভোটারদের ধন্যবাদ জানিয়ে শাহ বলেন, রাজ্যের মানুষ এমন একটি দলকে ক্ষমতায় এনেছেন যারা রাষ্ট্রীয় নিরাপত্তাকে গুরুত্ব দেয়।

শুভেন্দু অধিকারী সরকারের ১০০ দিন পূর্তির সময় অমিত শাহর এই বক্তব্যকে রাজনৈতিক ও প্রশাসনিক—দুই দিক থেকেই তাৎপর্যপূর্ণ বলে মনে করা হচ্ছে। একদিকে সীমান্ত নিরাপত্তা ও কেন্দ্র-রাজ্য সমন্বয়ের বিষয়টি সামনে এসেছে, অন্যদিকে মুখ্যমন্ত্রীর সঙ্গে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর ব্যক্তিগত ঘনিষ্ঠতার বার্তাও প্রকাশ্যে এসেছে।
বিশেষ করে ‘ফোন করলেই পারমিশন, চিঠি যায় পরে’—শাহর এই মন্তব্যে শুভেন্দু সরকারের প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত নেওয়ার গতি নিয়ে বিজেপির কেন্দ্রীয় নেতৃত্বের মনোভাব স্পষ্ট হয়েছে বলেই মনে করা হচ্ছে।

একটি মন্তব্য করুন

আপনার ইমেল ঠিকানা প্রকাশ করা হবে না। চিহ্নিত ক্ষেত্রগুলি আবশ্যক *

Home Language Gallery e-Paper
Menu
© 2026 Desher Samay.

Select Language

ভাষা নির্বাচন করুন