প্রচ্ছদলেটেস্ট নিউজদেশপশ্চিমবঙ্গকলকাতাউত্তরবঙ্গজেলাব্যবসাবিনোদনখেলাআন্তর্জাতিকবাংলাদেশফটো গ্যালারিভ্রমণকাহিনীসম্পাদকের পছন্দসরাসরিইউটিউবই-পেপার
Breaking News
•পবিত্র মাটি, অথচ সম্মানে বৈষম্য: দুর্গাপুজোর বিশেষ ফটো সিরিজে সমাজের দ্বিচারিতা নিয়ে প্রশ্ন তুললেন হেমশ্রী ভদ্র •সপ্তমীতে সুর চড়িয়ে নাম না করে খাদ্যমন্ত্রীকে হুঁশিয়ারি কেন্দ্রীয় জাহাজ প্রতিমন্ত্রী শান্তনুর •চোরবাগানের পর আপাতত বন্ধ হয়ে গেল শহরের একের পর এক বড় পুজোর দরজা ,আহতদের দেখতে হাসপাতালে শাহ •চোরবাগানে বিপর্যয়:পুজো কমিটির সম্পাদক সহ গ্রেফতার ৭! ব্যারিকেড নির্মাণ থেকে VIP পাস বিলিতে গাফিলতির অভিযোগ •সপ্তমীর সন্ধ্যায় চোরবাগানের পুজোমণ্ডপে ১৯ জনের মৃত্যু!  মৃতদের পরিবারকে ২৫ লক্ষ টাকা ক্ষতিপূরণ, হাইকোর্টের বিচারপতির তত্ত্বাবধানে তদন্ত, ঘোষণা শুভেন্দুর

গ্রেপ্তারের পর দেশের সময়- এর ক্যামেরার সামনে মুখ খুললেন বনগাঁ উত্তরের প্রাক্তন তৃণমূল বিধায়ক বিশ্বজিৎ দাস:দেখুন ভিডিও

deshersamay

Share article:

দেশের সময়.বনগাঁ:সোমবারই আগ্নেয়াস্ত্র সহ তৃণমূল নেতা বিশ্বজিৎ দাসকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। এরপর তার গাড়ির চালককে জেরা করে মঙ্গলবার সকালে বিশ্বজিৎ দাসের বাড়ি থেকে ফের উদ্ধার হল আগ্নেয়াস্ত্র ।

পুলিশ সূত্রে জানা গেছে সোমবার রাতে ধৃত বিশ্বজিৎ দাসের গাড়ির চালক কেরামত মন্ডলকে আটক করে জেরা করে পুলিশ। জেরায় বিশ্বজিতের গাড়ির চালকের বয়ান অনুযায়ী তাকে নিয়ে পুলিশ বিশ্বজিৎ দাসের বাড়িতে অনুসন্ধান চালিয়ে বাড়ির পেছন থেকে আরও একটি আগ্নেয়াস্ত্র ও এক রাউন্ড গুলি উদ্ধার করেছে। মঙ্গলবার বিকালে বনগাঁ মহকুমা আদালত চত্বরে ” দেশের সময়-এর ক্যামেরার সামনে প্রথম মুখ খুললেন । ঠিক বললেন বিশ্বজিৎ দাস ? 

পুলিশ সূত্রে গেছে, বিশ্বজিৎ দাস কে পুলিশ গাড়িতে করে থানায় নিয়ে যাওয়ার সময় অভিযুক্ত চালক কেরামত মন্ডল গাড়িটি দ্রুতগতিতে চালিয়ে বিশ্বজিৎ দাসের বাড়িতে নিয়ে যায়। দ্রুত তালা চাবি দিয়ে সে বাড়ি থেকে বেরিয়ে যায়। অভিযোগ কেরামত গাড়ির ড্যাশবোর্ডে রাখা আগ্নেয়াস্ত্র ও গুলি বিশ্বজিৎ দাসের বাড়ির পাশে বাগানের মধ্যে ছুঁড়ে ফেলে দেয় বলে জেরায় স্বীকার করে কেরামত।  দেখুন ভিডিও

পুলিশ ধৃত তৃণমূল নেতা ও তার চালককে সাত দিনের পুলিশি হেফাজতের আবেদন জানিয়ে মঙ্গলবার সকালে বনগাঁ মহকুমা আদাতলাতে পাঠিয়েছে। এ বিষয়ে বনগাঁর প্রবীণ আইনজীবী সমীর কুমার ঘোষ বলেন দীর্ঘ দিনের অভিযোগ মানুষের মধ্যে জমেছিল । যেভাবে অত্যাচার চালিয়েছে সাধারণ মানুষের উপর তার ফল ভোগ করতে হবে এবার । সমস্ত অসামাজিক কার্যকলাপে যুক্ত এই প্রাক্তন তৃণমূলনেতা তথা বিশ্বজিৎ দাস । মঙ্গলবার ফের তাঁর বাড়ি থেকে অস্ত্র উদ্ধার করেছে গোপাল নগর থানার পুলিশ এবং এদিনই বনগাঁ মহাকুমা আদালতে তোলা হয় । ধৃত তৃণমূল নেতা ও তার চালককে সাত দিনের পুলিশি হেফাজতের আবেদন জানিয়েছে ।

বিশ্বজিৎ বনগাঁ উত্তরের প্রাক্তন বিধায়ক। তৃণমূল ছেড়ে বিজেপি, আবার বিজেপি থেকে তৃণমূলে যোগদান করেছিলেন। ২০২৪ সালের লোকসভা ভোট এবং ২০২৬ সালের বিধানসভা ভোটে তৃণমূলের প্রার্থী ছিলেন। ভোটের ফলঘোষণার পরে ঋতব্রত তৃণমূল শিবিরের সঙ্গে তাঁর ঘনিষ্ঠতা দেখা গিয়েছে।

প্রাক্তন বিধায়কের গ্রেফতারি নিয়ে হাবড়ার বিজেপি বিধায়ক দেবদাস মণ্ডলের মন্তব্য, ‘‘আরও আগে গ্রেফতার হওয়া উচিত ছিল ওর। লেট (দেরি) হয়েছে।’’ বনগাঁ পুরসভার প্রাক্তন কাউন্সিলরের কথায়, ‘‘যা অপকর্ম করেছে, তার শাস্তি তো পেতেই হবে। বিধায়ক এবং তৃণমূলের জেলা সভাপতি থাকাকালীন প্রচুর মানুষকে অত্যাচার করেছে। বোমা-গুলির রাজনীতি করত ও।’’ ঋতব্রত তৃণমূলের তরফে কারও প্রতিক্রিয়া মেলেনি। বনগাঁ পুলিশ জেলার সুপার বিদিশা কলিতা দাশগুপ্ত বলেন, ‘‘অভিযোগের ভিত্তিতে ওঁকে গ্রেফতার করা হয়েছে। তদন্ত চলছে।’’

মে রাজ্যে পালাবদলের পর পশ্চিমবঙ্গে প্রথমবার সরকার গঠন করেছে বিজেপি। রাজ্যের নবম সরকার এবং বিজেপির প্রথম সরকারের মুখ্যমন্ত্রী হয়েছেন শুভেন্দু অধিকারী।

শপথ গ্রহণের দিন থেকেই তোলাবাজি, দুর্নীতি-সহ যাবতীয় বেআইনি কাজের বিরুদ্ধে জিরো টলারেন্স নীতি নিয়েছেন তিনি। শুধু মুখ্যমন্ত্রী নন, রাজ্যের অন্যান্য মন্ত্রী বলা ভাল নতুন সরকারের তরফেই এই নীতি নেওয়া হয়েছে। আর তার ফলে একে একে গ্রেফতার হয়েছেন অনেক তৃণমূল নেতা, প্রাক্তন বিধায়ক এবং প্রাক্তন মন্ত্রী, প্রাক্তন কাউন্সিলর-সহ অনেকেই।

জানা গিয়েছে, ২০১৯ সালে লোকসভা ভোটের পর তৃণমূল ছেড়ে বিজেপিতে যোগ দেন বিশ্বজিৎ দাস। এরপর ২০২১ সালে তৃণমূল বিপুল ভোটে জিতে ক্ষমতায় ফিরতেই, বিজেপি ছেড়ে তৃণমূলে ফেরেন বিশ্বজিৎ। তারপর ২০২৬ সালে রাজ্যে পালাবদলের পর কালীঘাট-তৃণমূল থেকে যোগ দেন ঋতব্রত-তৃণমূল শিবিরে। গত ১৭ জুলাই বিধানসভায় বিরোধী দলনেতার ঘরে যান বিশ্বজিৎ দাস। সেই দিনই বিরোধী দলনেতার ঘরে গিয়ে ‘আমার নেতা’ বলে ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়কে সম্বোধন করেন বিশ্বজিৎ দাস। 

এই প্রথম নয়। রাজ্যে পালাবদলের পর থেকে আগ্নেয়াস্ত্র সমেত গ্রেফতার হয়েছেন অনেক তৃণমূল নেতাই। কেউ পুলিশ দেখে পালাতে গিয়ে ধরা পড়েছেন। কারও বাড়ির পুকুর থেকে উদ্ধার হয়েছে আগ্নেয়াস্ত্র। রাজ্যে পালাবদলের পর গুন্ডা দমন আইন চালু করেছে শুভেন্দু অধিকারীর সরকার। এই আইনের আওতায় একাধিক তৃণমূল নেতা গ্রেফতার হয়েছেন। কারও বিরুদ্ধে তোলাবাজি, কারও বিরুদ্ধে দুর্নীতি তো কারও বিরুদ্ধে ভোট পরবর্তী হিংসা ছড়ানোর অভিযোগ উঠেছে। অনেক তৃণমূল নেতার নামে থাকা পুরনো মামলা নতুন করে শুরু হয়েছে এবং তদন্ত এগনোর ফলে তাঁদের গ্রেফতারও করা হয়েছে। সরকার স্পষ্ট ভাবে বার্তা দিয়ে জানিয়ে দিয়েছে রাজ্যে কোনওরকম বেআইনি কাজ করলেই তার মাশুল গুনতে হবে। 

Tags: জেলা

একটি মন্তব্য করুন

আপনার ইমেল ঠিকানা প্রকাশ করা হবে না। চিহ্নিত ক্ষেত্রগুলি আবশ্যক *

Home Language Gallery e-Paper
Menu
© 2026 Desher Samay.

Select Language

ভাষা নির্বাচন করুন