অনুব্রতর কলার ধরে শাসানি, নেতার কার্যালয়ে ভাঙচুর তিন যুবকের
deshersamay

বীরভূমের একসময়ের দোর্দণ্ডপ্রতাপ তৃণমূল নেতা
অনুব্রত মণ্ডলের উপস্থিতিতেই সিউড়ির পার্টি অফিসে চলল তাণ্ডব। বুধবার দলীয় কার্যালয়ে অনুব্রত মণ্ডল বসে থাকার সময়েই লাঠি, রড ও বাঁশ হাতে ঢুকে পড়ে তিনজন যুবক। তাঁরা কেষ্টর সামনেই চোখের নিমেষে অফিসের চেয়ার-টেবিল ও আসবাবপত্র ভাঙচুর করে এবং দলীয় পতাকা ছিঁড়ে ফেলে। শুধু তাই নয়, অনুব্রতের দিকে সরাসরি আঙুল উঁচিয়ে, তাঁর কলার ধরে তীব্র চিৎকার করে। নেতাকে হুমকি দিতেও দেখা যায় তাঁদের।

বিজেপি ক্ষমতায় আসার পর এই প্রথম সিউড়ির পার্টি অফিসে এসেছিলেন অনুব্রত মণ্ডল। তিনি আসার কিছু সময় পরই এই তিন যুবক পার্টি অফিসে ঢোকেন। তারপর অনুব্রত মণ্ডল যে ঘরে বসেছিলেন সেই ঘরে সটান চলে যান তাঁরা। তারপরই নেতাকে দেখে শুরু হয় লাগাতার হুমকি এবং ভাঙচুর। অনুব্রতকে প্রাণে মেরে ফেলার হুমকিও দেওয়া হয় বলে অভিযোগ উঠছে। ঘটনায় ৩ যুবককে আটক করেছে পুলিশ।

ঘটনার ভিডিও ভাইরাল হয়েছে। তাতে দেখা যাচ্ছে, এক যুবক বলছেন, ‘সিউড়িতে যেন আর না দেখি।’ এমনকী বুকে লাঠি ঠেকিয়ে অনুব্রত মণ্ডলকে হুমকি দিতেও দেখা যায় ওই যুবকদের। অন্তত ২০ মিনিট পর ঘটনাস্থলে পুলিশ আসে এবং অভিযুক্তদের আটক করে নিয়ে যায়। পুলিশের গাড়িতে ওঠার সময়ে এক যুবককে বলতে শোনা যায়, ১৫ বছরে অনেক অত্যাচার তাঁরা সহ্য করেছেন। এখন আর এসব কিছু সহ্য করবে না।

অভিযুক্তদের পরিচয় এখনও জানা না গেলেও তাঁরা স্থানীয় বাসিন্দা বলেই দাবি করা হচ্ছে। কারও রাজনৈতিক পরিচয়ও জানা যায়নি তবে পুলিশের গাড়িতে ওঠার আগে তাঁরা জয় শ্রীরাম স্লোগান দেয়।
অভিযুক্ত যুবকরা বলতে থাকেন, গত ১৫ বছরে বীরভূমবাসীর উপর প্রচুর অত্যাচার করেছেন কেষ্ট। ‘গরুচোর’ বলে কটাক্ষও করা হয় তাঁকে। তবে গোটা ঘটনার সময়ে মুখে হাসি ধরে রেখে বসে থাকেন অনুব্রত মণ্ডল। তাঁকে বলতে শোনা যায়, ‘‘আমার একটা কথা শোন।’’ এক যুবক জবাবে বলেন, ‘‘আর একটা কথাও না।’’ বেশ কিছুক্ষণ এই তাণ্ডব চলার পর তিন যুবক বেরিয়ে যান। তবে পার্টি অফিসের বাইরে আসতেই পুলিশ তাঁদের আটক করে।

ঘটনার পরেই তিন যুবককে গ্রেপ্তার করেছে সিউড়ি থানার পুলিশ। তবে পার্টি অফিসে ভাঙচুরের ঘটনার সঙ্গে নিজেদের দূরত্ব তৈরি করে বিজেপির বীরভূম সাংগঠনিক জেলা সভাপতি উদয়শঙ্কর বন্দ্যোপাধ্যায় বলেন, ‘এর সঙ্গে বিজেপির কোনও যোগ নেই। মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর নেতৃত্বে রাজ্যে আইনের শাসন প্রতিষ্ঠা হয়েছে।’ একই সঙ্গে অনুব্রতকেও কটাক্ষ করতে ছাড়েননি তিনি। উদয়ের কথায়, ‘ভোটের পরে তিনি হয়তো প্রথমবার সিউড়িতে এলেন। তাঁর উপরে সাধারণ মানুষের ক্ষোভ ছিল।’ এই নিয়ে তৃণমূলের কোনও প্রতিক্রিয়া এখনও পাওয়া যায়নি।

অনুব্রতর উপরে হামলার ঘটনা সাজানো বলে দাবি করলেন কাজল শেখ। তাঁর দাবি, ‘অনুব্রতর নিরাপত্তা তুলে নেওয়া হয়েছে। সেটা ফিরে পেতেই তিনি এই ঘটনা সাজিয়েছেন।’ একই সঙ্গে তাঁর প্রশ্ন, ‘না হলে যখন ওই যুবকরা যখন হামলা চালায়, তখন তিনি কেন বসে বসে হাসছিলেন?’

