প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রী জেলবন্দি, নির্বাচনে লড়ার অধিকার নেই পাকিস্তান তেহরিক-ই-ইসলামের অনেক নেতারই। অশান্তির আশঙ্কায় বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে ইন্টারনেট পরিষেবাও। আর্থিক দুরাবস্থা, চরম ডামাডোলের মাঝেই আজ, ৮ ফেব্রুয়ারি পাকিস্তানে অনুষ্ঠিত হবে জাতীয় নির্বাচন। এবারের নির্বাচনে লড়তে পারছেন না প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রী ইমরান খান। আপাতত প্রধানমন্ত্রী হওয়ার দৌড়ে এগিয়ে রয়েছেন নওয়াজ শরিফ। নির্বাচন ঘিরে ব্য়াপক অশান্তির আশঙ্কা করছে প্রশাসন।


দেশের সময় ওয়েবডেস্ক: আজ বৃহস্পতিবার পাকিস্তানে অনুষ্ঠিত হচ্ছে জাতীয় নির্বাচনের ভোটগ্রহণ। স্থানীয় সময় সকাল ৮টা থেকে শুরু হওয়া এই ভোটগ্রহণ একটানা চলবে বিকাল ৫টা পর্যন্ত।

এদিকে, কারাগার থেকেই নিজের ভোটাধিকার প্রয়োগ করেছেন দেশটির প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রী ইমরান খান। তবে তাঁর স্ত্রী বুশরা বিবি ভোট দিতে পারেননি।

গণমাধ্যমের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রী ইমরান খান এবং অন্যান্য বিশিষ্ট রাজনৈতিক বন্দিরা আদিয়ালা জেল থেকে পোস্টাল ব্যালটের মাধ্যমে ভোট দিয়েছেন। তবে ইমরান খানের স্ত্রী বুশরা বিবি ভোটে অংশ নিতে পারেননি। কারণ পোস্টাল ভোটিং প্রক্রিয়া শেষ হওয়ার পরে তাঁকে দোষী সাব্যস্ত এবং গ্রেপ্তার করা হয়। সামগ্রিকভাবে আদিয়ালা কারাগারের ১০০ জনেরও কম বন্দি ভোট দিতে সক্ষম হয়েছেন, যা এই কারাগারের ৭ হাজার বন্দির মধ্যে মাত্র এক শতাংশ।

কারাগার সূত্র জানায়, ইমরান খানের স্ত্রী ও সাবেক ফার্স্ট লেডি বুশরা বিবিও পোস্টাল ব্যালটের মাধ্যমে ভোট দিতে চেয়েছিলেন, কিন্তু তাঁকে আটক করার সময় এভাবে ভোট দেওয়ার প্রক্রিয়াটি সম্পন্ন হওয়ার কারণে তাঁর অনুরোধ গ্রহণ করা যায়নি।

বুশরা বিবির মুখপাত্র মাশাল ইউসুফজাই জানিয়েছেন, প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রীর স্ত্রীকে কারাগার থেকে পোস্টাল ব্যালটের মাধ্যমে ভোট দিতে দেওয়া হয়নি।

এ দিন সকাল ৮টা থেকে শুরু হয়েছে ভোট গ্রহণ, চলবে বিকেল ৫টা অবধি। তবে প্রয়োজন হলে নির্বাচনের সময়সীমা বাড়ানো হতে পারে। মোট ১২.৮ কোটি নাগরিক ভোট দেবেন নির্বাচনে। হিংসা, অশান্তি, প্রতিকূল পরিস্থিতি এড়াতেই সকাল থেকে পাকিস্তানে ইন্টারনেট পরিষেবা বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে।

এবারের নির্বাচনে মূল প্রতিদ্বন্দ্বী হলেন পাকিস্তানের সেনা প্রধান আসিম মুনীর, নওয়াজ শরিফ ও বিলাওয়াল ভুট্টো জারদারি। গত ২০১৮ সালের নির্বাচনে সবথেকে বেশি সংখ্যক ভোট পেয়ে জয়ী হয়েছিল ইমরান খানের দল পাকিস্তান তেহরিক-ই-ইনসাফ। তবে এবারের নির্বাচনে পিটিআই-র স্বীকৃতিও বাতিল করে দিয়েছে কমিশন।

দুর্নীতি থেকে শুরু করে নিয়ম বিরুদ্ধ বিয়ে-একাধিক মামলায় হাজতবাস করছেন পাকিস্তানের প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রী ইমরান খান। জল্পনা ছিল, এবার হয়তো জেল থেকেই নির্বাচনে লড়বেন তিনি। কিন্তু নির্বাচন কমিশনের তরফে সাফ জানিয়ে দেওয়া হয় ভোটে লড়তে পারবেন না ইমরান। তাঁর দলের একাধিক নেতাকেও অনুমতি দেওয়া হয়নি।  পিটিআই-র কর্মীরা  যে কয়েকজন অনুমতি পেয়েছেন, তারা বেগুন প্রতীক নিয়ে লড়ছেন। জেলবন্দি নেতা ইমরান খান দলীয় কর্মী ও সমর্থকদের অনুরোধ করেছেন, তারা যেন ভোট দিয়েই চলে না আসেন, নির্বাচনের ফল ঘোষণা না হওয়া অবধি বুথের বাইরেই অপেক্ষা করেন।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here