বাংলার ভোট (West Bengal Assembly Election 2026) উত্তাপের মাঝেই ফের একবার সুজিত বসু (Sujit Basu) এবং রথীন ঘোষকে (Rathin Ghosh) তলব ইডির (ED)। জানা গিয়েছে, আগামী ২৪ এপ্রিল দু’জনকেই ডেকে পাঠিয়েছে ইডি। এর আগে তলব করলেও হাজিরা এড়িয়ে গিয়েছিলেন সুজিত বসু। তাঁর বদলে দমকল মন্ত্রীর ছেলে সমুদ্র বসু ইডি-র দফতরে গিয়ে জানিয়ে দেন, অসুস্থতার কারণে হাজিরা দিতে পারবেন না সুজিত বসু।
বিধানসভা নির্বাচনের আবহে পুর নিয়োগ দুর্নীতি মামলায় (Municipal Recruitment Scam) অস্বস্তি বাড়ছে রাজ্যের বিদায়ী দমকলমন্ত্রী সুজিত বসুর। ইডির তলবে সাড়া দিয়ে সল্টলেকের সিজিও কমপ্লেক্সে হাজির হন দমকলমন্ত্রী সুজিত বসুর ছেলে সমুদ্র বসু। পুর নিয়োগ দুর্নীতি মামলার তদন্তে দ্বিতীয়বার নোটিশ গিয়েছিল সুজিত বসুর নামে, তবে নির্বাচনী ব্যস্ততার কারণে তিনি নিজে হাজিরা দিতে না পারায় তাঁর পরিবর্তে দফতরে আসেন ছেলে। সিজিও থেকে বেরিয়ে সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে সমুদ্র বলেন, “বাবা নির্বাচনী কাজে ব্যস্ত, তাই আমি এসেছি । তদন্তে সম্পূর্ণ সহযোগিতা করতেই এখানে আসা । নির্বাচনের পর যেদিন ডাকবে, বাবা নিশ্চয়ই হাজিরা দেবেন।”
এরপরেই এই মাসের শুরুতেই ফের তাঁকে তলব করে তৃতীয় নোটিস পাঠায় ইডি (ED)। এবারও হাজিরা এড়ালে আইনি ব্যবস্থা নেওয়ার কথাও ভাবছে তদন্তকারীরা। সুজিত বসু ইডির বিরুদ্ধে হেনস্থার অভিযোগ এনে চিঠি পাঠিয়েছিলেন। ভোটের পর মে মাসে যাওয়ার কথাও জানিয়েছিলেন তিনি।
জমি দখল সংক্রান্ত মামলায় বিদায়ী খাদ্যমন্ত্রী রথীন ঘোষকেও (Rathin Ghosh) ডেকে পাঠানো হয়েছিল। কিন্তু সেদিন কেউই সিজিও কমপ্লেক্সে হাজিরা দেননি।
সুজিত বসু এবং রথীন ঘোষের পাশাপাশি রাসবিহারীর তৃণমূল প্রার্থী দেবাশিস কুমারকেও (Debasish Kumar ED Raid) বার বার ডেকে পাঠিয়েছে কেন্দ্রীয় সংস্থা। পাশাপাশি, দেবাশিস কুমারের বাড়ি এবং মতিলাল নেহরু রোডের পার্টি অফিসেও হানা দেন আধিকারিকরা। সম্প্রতি জমি সংক্রান্ত একটি মামলায় ইডি (ED) একাধিকবার তলব করেছিল দেবাশিসকে। তার পরেই এ দিন আয়কর দফতরের এই তৎপরতা বিশেষ তাৎপর্যপূর্ণ বলে মনে করা হচ্ছে।
কেন্দ্রীয় সংস্থার এই অভিযানের খবর ছড়াতেই কুমার সাহার বাড়ির সামনে জড়ো হন তৃণমূল কর্মী-সমর্থকরা। ভোটের মুখে কেন এই তৎপরতা, তা নিয়ে প্রশ্ন তুলে বিক্ষোভ দেখাতে শুরু করেন তাঁরা। তাঁদের অভিযোগ, রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত ভাবেই কেন্দ্রীয় এজেন্সিকে ব্যবহার করছে বিজেপি।



