Desher Samay
প্রচ্ছদকলকাতাজেলাপশ্চিমবঙ্গউত্তরবঙ্গদেশবাংলাদেশআন্তর্জাতিকই-পেপারফটো গ্যালারিসম্পাদকের পছন্দসরাসরিইউটিউব

Mamata-Abhishek: ‘বাইরে কেউ কিছু দিলে খাবেন না, গণনার শেষপর্যন্ত থাকতে হবে’, কাউন্টিং এজেন্টদের  আর কি কি নির্দেশ মমতা-অভিষেকের

deshersamay

Share article:

কাউন্টডাউন শুরু। আর মাত্র কয়েকঘণ্টা। মানুষ তাঁর রায় জানিয়ে দিয়েছে। এবার শুধু সেই রায় ঘোষণার পালা। কে জিতবে বাংলা, পরিবর্তন না প্রত্যাবর্তন হবে, জানা যাবে ৪ মে। তবে, তার আগে গণনাকেন্দ্রে এজেন্টদের দায়িত্ব কী হবে, কোন কোন দিকে খেয়াল রাখবে, তার পাঠ দিলেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় ও অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়।

শনিবার  তৃণমূলের সব কাউন্টিং এজেন্টদের সঙ্গে ভার্চুয়াল বৈঠক করেন তৃণমূল সুপ্রিমো ও দলের সেকেন্ড ইন কমান্ড। গণনাকেন্দ্রে এজেন্টের কী কাজ হবে, কোন দিকে নজর থাকবে, কী কী খাবেন তাঁরা, এজেন্টদের একাধিক নির্দেশ দিয়েছেন তাঁরা।

বৈঠকের শুরুতেই মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের বার্তা, তৃণমূল বড় ব্যবধানে জিতছে। ২০০-র বেশি আসনে জিতবেন তাঁরা। যাঁরা দিন-রাত পরিশ্রম করেছেন তাঁদের পুরষ্কৃত করারও বার্তা দিয়েছেন। একইসঙ্গে তাঁর নির্দেশ, গণনা শেষের আগে কাউন্টিং ছাড়া যাবে না। রাত ২টো বাজলেও যেন কোনও এজেন্ট গণনাকেন্দ্র না ছাড়েন। কখন কী পদক্ষেপ করতে হবে এজেন্টদের, কী খেতে হবে, গাইডলাইন বাতলে দিয়েছেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়।এক্সিট পোল কিছু না। স্টক মার্কেট বাঁচাতে বলা হচ্ছে।

অভিষেক কী নির্দেশ দিলেন? রাত ২ টো বাজলেও কাউন্টিং সেন্টার ছাড়বেন না। যতক্ষণ না আমি বলব। যেগুলো মার্জিনাল সিট সেগুলো রিকাউন্টিং করতে বলবেন। যদি দেখেন, ২০০-৩০০ ভোটের ব্যবধানে ওদের জিতিয়ে দিচ্ছে রিকাউন্টিং করতে বলবেন।

কাউন্টিং এজেন্টরা খাবার বাড়ি থেকে নিয়ে যাবেন। দুপুরের খাবার হালকা খাবেন। আগের দিন থেকে কেউ পান জর্দা বা অন্য কিছু খাবেন না। বাইরের খাবার নেবেন না। কেউ কিছু মিশিয়ে দিতে পারে।
স্ট্রং রুম থেকে কাউন্টিংয়ের জন্য মেশিন নিয়ে যাওয়ার সময় মেশিন বদলাতে পারে। ভোর ৫টার মধ্যে গণনাকেন্দ্রে পৌঁছে যান।

নির্বাচনের পরদিন থেকেই বিজেপির নানা ন্যারেটিভ চলে। আগেও দেখেছি। এক্সিট পোল করে প্রভাবিত করার চেষ্টা করে। এটা ১০-১২ বছর ধরে চলছে। যে অত্যাচার কেন্দ্রীয় বাহিনী করেছে, মানুষের বাড়িতে গিয়ে মেরেছে, মহিলা, শিশুদের মেরেছে। তৃণমুলের কর্মীদের গ্রেফতার করেছে। পরশু দুপুর পর্যন্ত এটা চলবে। কাউন্টিং এজেন্টরা পুরো শেষ পর্যন্ত থাকবেন।

মেশিন আনার পর ফর্ম 17c-এর সঙ্গে সিরিয়াল নম্বর মেলাতে হবে। যদি না মেলে খোলা যাবে না। তখন ভিভিপ্যাট কাউন্টিংয়ের দাবি জানাতে হবে। মিলে গেলে পরের ধাপগুলো হল সিল বাটারি তারিখ সময় মিলিয়ে নিতে হবে। এরপর কন্ট্রোল ইউনিটের সুইচ অন করবেন টোটাল কাউন্টিং করবেন। তখন বুঝবেন মেশিন ও ফর্ম মিলে যাচ্ছে। এরপর মেশিন খোলা হবে।

আপনারা ডায়েরি নিয়ে যাবেন। প্রত্যেক মেশিনের সিরিয়াল নম্বর থেকে আমাদের প্রার্থী অন্য প্রার্থী কত ভোট পেয়েছে নোট করবেন। মনে রাখবেন এরা কিন্তু মহারাষ্ট্রে, বিহার, মধ্যপ্রদেশে করেছে। এই জায়গাটা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।

আত্মতুষ্টিতে ভুগলে চলবে না। শেষ চুরি ও কামড় দেবে ওইদিন। বিজেপি নিজেও ভালো করে জানে ওরা জিতবে না। এক্সিট পোল করানো হয়েছে। দিদি বলেছে ২০০ র বেশি হবে। গতবার ২১৫ পেয়েছিল। এবার একটা হলেও বাড়বে। ভোটের পার্সেন্টেজও বাড়বে।

আগামিকাল একটা ট্রেনিং মডেল দেওয়া হবে। দশ মিনিটের একটা ভিডিও পাঠাব। সেখানে প্রার্থী এজেন্টদের দায়িত্ব কী সবটা বলা থাকবে।

নন্দীগ্রামের ঘটনার কথাও উল্লেখ করেন অভিষেক। তিনি বলেন, “গতবার নন্দীগ্রামের ঘটনা আপনাদের মনে আছে। বিশেষ করে পূর্ব মেদিনীপুর, পুরুলিয়া বিভিন্ন আসন। যেখান থেকে কারেন্ট সাপ্লাই হয়, সেই জায়গা ঘিরে রাখবেন। পুলিশ অবজার্ভারের কোনও অধিকার নেই। এগুলো ভয় দেখানোর কৌশল। পুলিশ অবজার্ভারের কোনও অধিকার নেই ডেকে থানায় নিয়ে যাবে। যদি বলে যাবেন না। এগুলো ভয় দেখানোর কৌশল। যদি অনৈতিক ভাবে একজনের গায়েও লাঠির পড়ে বাংলার মানুষ জবাব দেবে

গণনার আগে তৃণমূলের জেলা-ভিত্তিক দায়িত্ব বণ্টন তালিকা

গণনার আগে তৃণমূলের জেলা-ভিত্তিক দায়িত্ব বণ্টন তালিকা

দক্ষিণ ২৪ পরগনা — অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়
উত্তর ২৪ পরগনা — সৌগত রায়, পার্থ ভৌমিক
বারাসত — রথীন ঘোষ
কলকাতা উত্তর — সুদীপ বন্দ্যোপাধ্যায়, কুণাল ঘোষ, বিবেক গুপ্ত, স্বপন সমাদ্দার
কলকাতা দক্ষিণ — অরূপ বিশ্বাস, ফিরহাদ হাকিম
হাওড়া — পুলক রায়, অরূপ রায়, কৈলাস মিশ্র, গৌতম চক্রবর্তী
হুগলি — কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায়
পূর্ব বর্ধমান — কীর্তি আজাদ, রাসবিহারী হালদার
পশ্চিম বর্ধমান — পার্থ দে, বাবুল সুপ্রিয়
মেদিনীপুর সাংগঠনিক — জুন মালিয়া, দেব
পূর্ব মেদিনীপুর — সায়নী ঘোষ, রিজু দত্ত
রানাঘাট — শংকর সিং, দেবাশিস গঙ্গোপাধ্যায়
বিষ্ণুপুর — জীবন সাহা
বীরভূম — শতাব্দী রায়-সহ একজন
বাঁকুড়া — সুশান্ত ঘোষ
ঝাড়গ্রাম — অরূপ চক্রবর্তী-সহ একজন
মুর্শিদাবাদ, জঙ্গিপুর — আসিফ ইকবাল
বহরমপুর — প্রতিকু রহমান, সুখেন্দুশেখর রায়
মালদহ — দোলা সেন, পলিটেকনিক কলেজ- নাদিমুল হক
দক্ষিণ দিনাজপুর — জয়প্রকাশ মজুমদার
ইসলামপুর — শান্তনু সেন
দার্জিলিং সমতল — গৌতম দেব
আলিপুরদুয়ার, জলপাইগুড়ি — সামিরুল ইসলাম

Tags: News

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Home Search Gallery e-Paper
Menu
© 2026 Desher Samay.