ক্লাস ওয়ান থেকে পুরো বদলে যাবে সিলেবাস,পড়াশোনায় ফের ফিরবে মন, স্কুল পড়ুয়াদের জন্য বড় উদ্যোগ সরকারের! জানিয়ে দিলেন শিক্ষামন্ত্রী
deshersamay

পশ্চিমবঙ্গে জাতীয় শিক্ষানীতি কার্যকর করার আগেই আগেই জানিয়েছে রাজ্য সরকার। এবার সিলেবাস পরিবর্তনের কথা জানিয়ে দিলেন রাজ্যের স্কুল শিক্ষামন্ত্রী দীপক বর্মণ। প্রথম শ্রেণি থেকে শুরু করে পুরো সিলেবাস আমুল বদলে যাবে বলে বৃহস্পতিবার এক সাংবাদিক বৈঠকে জানিয়েছেন মন্ত্রী।

সিলেবাস সংশোধন ও পরিবর্তনের জন্য ইতিমধ্যেই সিলেবাস কমিটি তৈরি করেছে রাজ্য সরকার। সেই কমিটির সুপারিশ অনুযায়ী, বদল করা হবে সিলেবাস। ২০২৭-এ যে পাঠ্যক্রম শুরু হবে, তাতেই পরিমার্জন করা সিলেবাস পাবে পড়ুয়ারা। অর্থাৎ বইতে আসবে বদল। আর ২০২৮ থেকে রাজ্যে জাতীয় শিক্ষানীতি কার্যকর হলে, সেই নীতিকে সামনে রেখে প্রথম শ্রেণি থেকে বদলে যাবে সিলেবাস। বদলে যাবে বই।

দীপক বর্মণ বলেন, “আজকের উপযোগী করে গড়ে তোলার জন্য যে সিলেবাস প্রয়োজন, সেটা করা হবে। মাঝে মাঝেই এভাবে রিভিউ কমিটি তৈরি করা হয়ে থাকে, সেরকমই কমিটি তৈরি করা হয়েছে। কমিটির প্রথম পরিকল্পনা, ২০২৭-এ যে বই বেরবে, সেগুলি রিভিউ করা হবে। ২০২৮-এ শিক্ষানীতি অনুযায়ী সিলেবাস তৈরি হবে। কমিটি যা সুপারিশ করবে, সেই অনুযায়ী সিলেবাস তৈরি হবে।” দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা করেই ওই কমিটি সিলেবাস তৈরি করছে বলে জানিয়েছেন মন্ত্রী।
স্কুলের ক্ষেত্রে একাধিক বদল ইতিমধ্যেই এনেছে রাজ্য সরকার। স্কুল ইউনিফর্ম থেকে বাদ দেওয়া হচ্ছে বিশ্ব বাংলা লোগো। অতীত ঐতিহ্য ফিরিয়ে আনার জন্য ইউনিফর্মের রং পরিবর্তন করার কথাও আগেই ঘোষণা করা হয়েছে। নীল নয়, প্রতিটি স্কুল নিজের মতো রঙ পছন্দ করতে পারবে।

রাজ্যে স্কুলছুটের হার কমানো এবং প্রতিটি শিশুর শিক্ষার অধিকার সুনিশ্চিত করতে বড় পদক্ষেপ নিল রাজ্য শিক্ষা দপ্তর। বৃহস্পতিবার বিকাশ ভবনে পশ্চিমবঙ্গ সমগ্র শিক্ষা মিশন (PBSSM) এবং ন্যাশনাল ইনস্টিটিউট অব ওপেন স্কুলিং (NIOS)-এর মধ্যে একটি গুরুত্বপূর্ণ সমঝোতা চুক্তি (MoU) স্বাক্ষর হয়েছে। এই উদ্যোগের ফলে পরিযায়ী শ্রমিকদের সন্তান, স্কুলছুট পড়ুয়া এবং বিভিন্ন কারণে পড়াশোনা মাঝপথে ছেড়ে দেওয়া শিক্ষার্থীরা নতুন করে শিক্ষার মূল স্রোতে ফিরতে পারবেন।
শিক্ষামন্ত্রী দীপক বর্মন জানিয়েছেন জাতীয় শিক্ষানীতি ও শিক্ষার অধিকার আইনের মূল লক্ষ্য হলো কোন শিশু যেন স্কুল ছুট না হয় সকল শিশুরা পড়াশোনার মধ্যে থাকে শিক্ষার বাইরে না থাকে। তিনি বলেন, কেউ যেন শিক্ষার বাইরে না থাকে। মূল লক্ষ্য সেটাই।
মন্ত্রী জানান, এখন একজন শিক্ষার্থী যদি একটি রাজ্যে NIOS-এ ভর্তি হয়ে পরে অন্য রাজ্যে চলে যায়, তাহলেও পড়াশোনা বন্ধ হবে না। উদাহরণ হিসেবে তিনি বলেন, কেরালায় NIOS-এ নথিভুক্ত হওয়ার পর কোনও শিক্ষার্থী যদি ওড়িশায় চলে যায়, তবে ওড়িশার নির্দিষ্ট কেন্দ্রে বসেই নিজের ভাষায় পড়াশোনা ও পরীক্ষা দিতে পারবে। একই সঙ্গে যাঁরা বিভিন্ন কারণে আগে পড়াশোনা শেষ করতে পারেননি, তাঁরাও এই ব্যবস্থার মাধ্যমে আবার শিক্ষাজীবনে ফিরতে পারবেন।

তিনি বলেন, ‘বর্তমান আর্থ-সামাজিক পরিস্থিতির পরিপ্রেক্ষিতে অনেকসময় বাবা-মায়েদের বাইরে চলে যেতে হয়। একসময় এক স্কুলে ভর্তি হওয়ার পর, বাবা অন্যত্র চলে যেতে বাধ্য হলেন শিশুকে সিঙ্গে নিয়ে, তাতে শুধু পড়াশোনা বিঘ্নিত হয় না, অনেক সময় বিদ্যালয়ের বাইরে চলে যায়। এই পরিবেশ থেকে, পরিস্থিতি থেকে তাদের কীভাবে বিদ্যাঙ্গনে আনা যায়, তার জন্য NIOS খুব ভাল ব্যবস্থা করেছে।’
এই পরিষেবা যাতে গ্রামের শেষ প্রান্তের মানুষও পান, তার জন্যও ভাবনা বিশেষ। NIOS-এর স্টাডি সেন্টার ধাপে ধাপে প্রতিটি গ্রাম পঞ্চায়েত স্তর পর্যন্ত সম্প্রসারণের পরিকল্পনার কথাও জানান শিক্ষামন্ত্রী। চুক্তিতে NIOS-এর পক্ষে স্বাক্ষর করেন শাকিল আহমেদ এবং পশ্চিমবঙ্গ সমগ্র শিক্ষা মিশনের পক্ষে স্বাক্ষর করেন বিভু গোয়েল।

এই ব্যবস্থার আওতায় প্রথম থেকে অষ্টম শ্রেণি, মাধ্যমিক এবং উচ্চমাধ্যমিক স্তর পর্যন্ত পড়াশোনার সুযোগ থাকবে। প্রচলিত বিদ্যালয়ের মতো নির্দিষ্ট এক বছরের মধ্যে কোর্স শেষ করার বাধ্যবাধকতা থাকছে না। শিক্ষার্থীরা নিজেদের সুবিধামতো সময়ে পড়াশোনা ও পরীক্ষা সম্পন্ন করতে পারবে। NIOS-এর পাঠক্রম ছাড়াও, এই বিষয়ে একাধিক গুরুত্বপূর্ণ তথ্যও তুলে ধরেন মন্ত্রী।
