খাদ্যমন্ত্রীর অনুগামীদের ‘আরশোলা’ বলে কটাক্ষ ! পেট্রাপোলে কাজ শুরু হলেও অশোক-শান্তনু দ্বন্দ্ব জারি
deshersamay

সাময়িক অচলাবস্থা কাটিয়ে পেট্রাপোল বন্দরের ভিতরে লোডিং, আনলোডিংয়ের কাজ সোমবার রাতে চালু হয়েছে ঠিকই। কিন্তু ভারতীয় মজদুর সঙ্ঘের অন্দরে শ্রমিক অসন্তোষ মঙ্গলবারও অব্যাহত । স্থলবন্দরে কেন্দ্রীয় জাহাজ প্রতিমন্ত্রী শান্তনু ঠাকুরের ঘনিষ্ঠ বিএমএস-এর নেতৃত্ব সাংবাদিক সম্মেলন করে রাজ্যের খাদ্যমন্ত্রী অশোক কীর্তনিয়ার অনুগামী শ্রমিকদের কটাক্ষ করেছেন। বিশৃঙ্খলার অভিযোগ তুলে অশোকের অনুগামীদের ককরোচ জনতা পার্টির সঙ্গে তুলনা করা হয়েছে।

এ দিকে, বিএমএস-এর একটি অংশের দাবি, সংগঠনের কেউ সাংবাদিক সম্মেলন করেননি। পারিবারিক সম্পত্তির মতো ভারতীয় মজদুর সঙ্ঘের মধ্যে বিভাজন তৈরি করার এক্তিয়ার নেই বলেও শান্তনুকে নিশানা করেছেন অশোকের অনুগামীরা।

এ দিন সাংবাদিক সম্মেলন করে বিএমএস-এর লোডিং-আনলোডিং কমিটির সদস্য গৌতম মণ্ডল বলেন, ‘শান্তনু ঠাকুর এসে সমাধান করে যান। কিন্তু কিছু শ্রমিক বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি করেছেন। তবুও বিএমএস-এর কর্মীরা সোমবার রাত জেগে কাজ করেছেন। বাইরে যাঁরা আন্দোলন করেছেন, তাঁরা ককরোচ জনতা পার্টি। ভারত সরকারের কর্মকাণ্ডে অচলাবস্থা তৈরি করতে দেব না।’
পাল্টা অশোক ঘনিষ্ঠ বিএমএস-এর নগর কমিটির সম্পাদক রাজীব গোস্বামী বলেন, ‘গৌতম মণ্ডল বিএমএস-এর কেউ নন। বিএমএস-এর পক্ষ থেকে এ দিন কোনও সাংবাদিক সম্মেলনও করা হয়নি। যিনি আমাদের আরশোলা বলছেন, তিনি আরশোলা কি না, সেটা দেখতে হবে।’ রাজীব আরও বলেন, ‘পারিবারিক সম্পত্তির মতো কেন্দ্রীয় মন্ত্রী এসে বিএমএসকে ভাগ করে গেলেন। ভাগ করার অধিকার মন্ত্রীকে কে দিয়েছেন? এটা আমরা মেনে নেব না। এর বিরুদ্ধে আমরা বৃহত্তর আন্দোলন করব।’

পালাবদলের পরে পেট্রাপোল বন্দরে ভারতীয় মজদুর সঙ্ঘই চালকের আসনে। লোডিং-আনলোডিংয়ের কাজকর্মের নিয়ন্ত্রণ বিএমএস-র হাতে। কিন্তু গত কয়েক মাস ধরে বিএমএস-এর দখলদারি নিয়ে বিবাদ শুরু হয় শান্তনু এবং অশোকের মধ্যে। অন্তত তেমনই অভিযোগ। এই বিবাদের জেরে আড়াআড়ি বিভাজন তৈরি হয় বিএমএস-এর অন্দরে। দাবি, লোডিং-আনলোডিংয়ের কাজের ভাগ নিয়েও দুই বিজেপি নেতা ও তাঁদের ঘনিষ্ঠদের মধ্যে গোষ্ঠীদ্বন্দ্ব বাড়তে থাকে। এই শ্রমিক অসন্তোষের জেরে খাদ্যমন্ত্রীর ঘনিষ্ঠ শ্রমিকরা লোডিং-আনলোডিংয়ের কাজ বন্ধ করে দেন। ফলে বাণিজ্যে তার প্রভাব পড়তে শুরু করে।

সোমবার শান্তনু বিএমএস-এর মধ্যে দু’টি ভাগ করে কাজের পার্সেন্টেজ ঠিক করে দেওয়ার পরে খাদ্যমন্ত্রী ঘনিষ্ঠদের মধ্যে ক্ষোভ আরও বৃদ্ধি পায়। পরিস্থিতি বেগতিক বুঝেই সোমবার রাতেই বিএমএস-এর একাংশ লোডিং-আনলোডিংয়ের কাজ শুরু করেন। অন্য দিকে, বিএমএস-এর অন্য গোষ্ঠীর শ্রমিকরা স্থলবন্দরের বাইরে বিক্ষোভ দেখান। কাজ শুরু হলেও মঙ্গলবার বিএমএস-এর অন্দরে শ্রমিক অসন্তোষ বজায় থেকেছে।

এই পরিস্থিতিতে পরিস্থিতি ড্যামেজ কন্ট্রোল করতে আসরে নামেন শান্তনু ঘনিষ্ঠ বিএমএস নেতৃত্ব ও সাধারণ শ্রমিকেরা।
