খাদ্য মন্ত্রীর আশ্বাসের পরই বনগাঁয় যশোর রোডের ধারে থাকা মৃত গাছ কাটা শুরু হল
deshersamay

অবশেষে শুরু হল রাস্তার দু’পাশে বিপজ্জনকভাবে থাকা মরা গাছগুলিকে কাটা। জাতীয় সড়ক কর্তৃপক্ষ এই কাজ শুরু করেছে। পেট্রাপোল সীমান্ত থেকে বনগাঁ পুরসভা এলাকা সহ গাইঘাটা পর্যন্ত প্রায় ২৫ কিলোমিটার পর্যন্ত যশোর রোডের পাশের একাধিক মরা বিপদজ্জনক গাছ কেটে ফেলা হবে।

বনগাঁ: অবশেষে শুরু হল যশোর রোডের দু’পাশে বিপজ্জনকভাবে থাকা মরা গাছগুলি কাটার কাজ। জাতীয় সড়ক কর্তৃপক্ষ এই কাজ শুরু করেছে। পেট্রাপোল সীমান্ত এলাকা থেকে বনগাঁ পুরসভা এলাকা সহ গাইঘাটা পর্যন্ত প্রায় ২৫ কিলো মিটার পর্যন্ত যশোর রোডের পাশের ১১১টি মরা বিপদজ্জনক গাছ কেটে ফেলা হবে বলে জানা গেছে প্রশাসন সূত্রে।
যশোহর রোড সম্প্রসারণের ক্ষেত্রে অন্যতম বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে রাস্তার ধারে দাঁড়িয়ে থাকা মৃত গাছগুলি। সেই সব গাছের শুকনো ডাল ভেঙে মাঝে মধ্যেই দুর্ঘটনা ঘটছে। তাতে অনেকে জখমও হচ্ছে। সেই সব ‘বিপজ্জনক’ গাছ কী ভাবে কাটা হবে, তার রণনীতি তৈরি করতে সম্প্রতি বনগাঁর মহকুমাশাসকের অফিসে একটি বৈঠকও অনুষ্ঠিত হয়। সেখানে হাজির ছিলেন রাজ্যের খাদ্যমন্ত্রী অশোক কীর্তনিয়া, এসডিও, পুরসভার আধিকারিক এবং ন্যাশনাল হাইওয়ে অথরিটি অফ ইন্ডিয়ার প্রতিনিধিরা।

জুলাই মাসের প্রথম সপ্তাহে প্রশাসনের আধিকারিকরা মরা গাছগুলিকে চিহ্নিত করেন। বর্ষার আগেই এই বিপজ্জনকভাবে থাকা গাছগুলি কাটার জন্য বনগাঁর বিধায়ক তথা খাদ্য ও সমবায় মন্ত্রী অশোক কীর্তনিয়া উদ্যোগ নিয়েছিলেন । তার ভিত্তিতে জাতীয় সড়ক কর্তৃপক্ষ, বনদপ্তর ও পূর্তদপ্তরের আধিকারিক ও পুর কর্তৃপক্ষ বৈঠকে বসে। আলোচনায় ঠিক হয়, বিপজ্জনক গাছগুলি দ্রুত কেটে ফেলা হবে। সেই অনুসারে ওই গাছগুলি কাটা শুরু হয়েছে।
বনগাঁ শহরে দীর্ঘদিন ধরে জাতীয় সড়কের পাশে বিপজ্জনকভাবে ছিল একাধিক শতাব্দী প্রাচীন গাছ। অতীতে গাছগুলির মরা, শুকনো ডাল ভেঙে একাধিক দুর্ঘটনা ঘটেছে। গাছের ডাল ভেঙে মৃত্যু পর্যন্ত হয়েছে বেশ কয়েকজনের। তাই এমন দুর্ঘটনা এড়াতে সতর্কতা অবলম্বন করেছে প্রশাসন। শুরু হয়েছে গাছ কাটা।
সম্প্রতি বনগাঁর সিকদারপল্লী এলাকার বাসিন্দা, বছর ২৫ বয়সের যুবকের মাথার উপর একটি শুকনো ডাল ভেঙে পড়ায় মৃত্যু হয় বাপন বিশ্বাস নামে ওই যুবকের। বনগাঁর যুবকের এই মর্মান্তিক মৃত্যুর ঘটনার খবর পেয়ে যুবকের বাড়িতে যান খাদ্যমন্ত্রী অশোক কীর্তনীয়া। মৃত যুবকের পরিবারকে সমবেদনা জানিয়ে রাজ্য সরকারের তরফে

পাশাপাশি, ওই বাড়িতে বসেই উত্তর ২৪ পরগনার জেলা শাসক সহ রাজ্যের বন দপ্তর এবং অন্যান্য সংশ্লিষ্ট দপ্তরের উচ্চপদস্থ আধিকারিকদের সঙ্গে কথা বলে যেভাবেই হোক সাত দিনের মধ্যে বিপজ্জনক গাছ বা গাছের ডাল কাটার ব্যবস্থা করার নির্দেশ দেন। সেই মত সোমবার সকাল থেকে ছয়ঘরিয়ার খলিতপুর এলাকায় গাছ কাটার কাজ শুরু করল প্রসাসন ।
এবিষয়ে বনগাঁ পুরসভার চেয়ারম্যান দিলীপ মজুমদার বলেন, রাস্তার দু’পাশে একাধিক মরা গাছ বিপজ্জনকভাবে রয়েছে। এর ফলে যে কোনও সময়ে দুর্ঘটনা ঘটে যেতে পারে। আমরা বারবার জাতীয় সড়ক কর্তৃপক্ষকে সেগুলি কেটে ফেলার জন্য বলেছিলাম। এবার খাদ্য মন্ত্রীর উদ্যোগে সেই কাজ শুরু হয়েছে ।
সূত্রের খবর, ওই বৈঠকে যশোহর রোডের ধারে সমস্ত মৃত গাছ কাটার পাশাপাশি বনগাঁ শহরের যানজট এড়াতে ফ্লাইওভার নির্মাণের বিষয়েও আলোচনা হয়েছে। মৃত গাছ কেটে নেওয়ার জন্য সরকারি নির্দেশনামাও বেরিয়েছে।
বনগাঁর যশোহর রোড ধরেই পেট্রাপোল স্থলবন্দর হয়ে বাংলাদেশে ঢোকে হাজার হাজার ট্রাক। বাংলাদেশ থেকে আসা পণ্যবোঝাই ট্রাকগুলিও যশোহর রোড দিয়েই যাওয়া-আসা করে। তার গুরুত্বের কথা মাথায় রেখে বনগাঁর জয়ন্তীপুর থেকে পেট্রাপোল পর্যন্ত যশোহর রোড সম্প্রসারিত হয়ে দুই লেনের হয়েছে।
কিন্তু বারাসত থেকে বনগাঁ হয়ে জয়ন্তীপুর পর্যন্ত যশোহর রোড সম্প্রসারণের কাজ এখনও শুরুই হয়নি। তাতে বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে যশোহর রোডের ধারে অবস্থিত শতাব্দীপ্রাচীন গাছগুলি। বহু গাছ মরে গিয়েছে। তাতে বিপদ আরও বেড়েছে। বিগত সরকারের আমলে একবার গাছ কেটে যশোহর রোড সম্প্রসারণের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছিল। কিন্তু গাছপ্রেমিদের আপত্তিতে সেই পরিকল্পনা ভেস্তে যায়। হাইকোর্টে মামলা হয়ে যাওয়ায় গাছ কাটা সম্ভব হয়নি।

পালাবদলের পরে সম্প্রতি যশোহর রোড সম্প্রসারণের কাজ শুরু করার কথা ঘোষণা করেন বনগাঁ উত্তরের বিধায়ক তথা রাজ্যের খাদ্যমন্ত্রী অশোক কীর্তনিয়া।
সম্প্রতি একটি বৈঠকে তার সিলমোহরও পড়েছে বলে জানা গেছে। অশোক কীর্তনিয়া বলেন, ‘যশোহর রোড সম্প্রসারণের জন্য মৃত গাছ কাটার প্রক্রিয়া অতি দ্রুত শুরু করার কথা বলেছিলাম। যশোহর রোড সম্প্রসারণ না হওয়ায় গাড়ি চলাচলে সমস্যা হচ্ছে। এ বার মৃত গাছ কাটা শুরু হল। উন্নয়নের ক্ষেত্রে কোনও বাধা মানা হবে না। গাছ কাটার অর্ডারও বেরিয়ে গিয়েছে।’

যশোর রোডের দু’পাশে থাকা শতাব্দী প্রাচীন একাধিক গাছ কাটা নিয়ে অতীতে প্রশাসনের সঙ্গে বৃক্ষপ্রেমীদের আইনি লড়াই হয়েছে। প্রথম থেকেই বৃক্ষপ্রেমীরা দাবি জানিয়ে আসছিলেন যে, মরা গাছ কাটা হোক। তবে তাঁদের আবেদন, মরা গাছের আড়ালে যেন জীবিত গাছ কাটা না হয়।
