Desher Samay
প্রচ্ছদলেটেস্ট নিউজদেশপশ্চিমবঙ্গকলকাতাউত্তরবঙ্গজেলাব্যবসাবিনোদনখেলাআন্তর্জাতিকবাংলাদেশফটো গ্যালারিভ্রমণকাহিনীসম্পাদকের পছন্দসরাসরিইউটিউবই-পেপার
Breaking News

Kalighater Kaku News:অবশেষে কালীঘাটের কাকুর কণ্ঠস্বরের নমুনা ইডির হাতে, কীভাবে হল সেই পরীক্ষা? কী কী প্রশ্ন করা হয়?

deshersamay

Share article:

দেশের সময় কলকাতা : নিয়োগ দুর্নীতি কাণ্ডে অন্যতম অভিযুক্ত সুজয় কৃষ্ণর ভদ্রর কণ্ঠস্বরের নমুনা পরীক্ষা হয়েছে বুধবার। তদন্তকারী সংস্থা ইডি-র দাবি, দুর্নীতির তদন্তে সুজয়ের এই ‘গলার আওয়াজ’ অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। সেই কারণে ‘কাকুর’ কণ্ঠস্বরের নমুনা পরীক্ষা করতে এতটা মরিয়া হয়ে উঠেছিল তদন্তকারী আধিকারিকরা। কিন্তু কীভাবে হয় এই ভয়েস স্যাম্পেল পরীক্ষা? কী কী পরীক্ষা করেই বা দেখা হয়? জানুন

প্রায় সাড়ে চার মাস পর এসএসকেএম হাসপাতালের বাইরে বের হন সুজয়কৃষ্ণ ভদ্র ওরফে ‘কালীঘাটের কাকু’। গত ২২ অগস্ট এসএসকেএম হাসপাতালের কার্ডিওলজি বিভাগে ভর্তি করা হয়েছিল তাঁকে। কার্ডিওলজি ব্লকের তিন তলায় একটি এসি কেবিনে ভর্তি ছিলেন ‘কাকু’।

সুজয়কৃষ্ণের কণ্ঠস্বরের নমুনা নেওয়া নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে টানাপড়েন চলছিল। এর আগে একবার নমুনা নিতে গিয়ে এমএসভিপি-র বাধার মুখে পড়েছিল ইডি। সেই নিয়ে জল আদালত অবধি গড়িয়েছিল।

প্রসঙ্গত, গত বছর ডিসেম্বরের শুরুতে জোকা ইএসআই হাসপাতালের অ্যাম্বুল্যান্স গিয়েও ফিরে এসেছিল। তারপর গতকাল বুধবার রাতে জোকা ইএসআই হাসপাতালে ‘ভয়েস স্যাম্পেল টেস্ট’ এর জন্য নিয়ে যাওয়া হয় কাকুকে। ভোররাতে আবার ফিরিয়েও আনা হয় এসএসকেএম হাসপাতালে। সেখানে পৌঁছেও নাকি দীর্ঘক্ষণ অপেক্ষা করতে হয় তাঁকে।

বুধবার সন্ধে থেকে শুরু হয় তোড়জোড়। এসএসকেএমের কার্ডিওলজি বিভাগের সামনে এসে পৌঁছয় ইএসআই হাসপাতালের অ্যাম্বুল্যান্স। মোতায়েন করা হয় কেন্দ্রীয় বাহিনী। নিরাপত্তার ঘেরাটোপে কালীঘাটের কাকুকে নিয়ে যাওয়া হয় জোকা ইএসআই হাসপাতালে। দীর্ঘ সময় ধরে সেখানে চলে তাঁর ‘ভয়েস স্যাম্পেল টেস্ট’ এর প্রক্রিয়া। সূত্রের খবর, রাত ৩টে ২০ মিনিট নাগাদ আবার তাঁকে ফিরিয়ে আনা হয় এসএসকেএম হাসপাতালে।

সন্ধেবেলা এসএসকেএমের হৃদরোগ বিভাগের কেবিন থেকে খয়েরি রঙের চাদর মুড়ি দিয়ে বের হয়েছিলেন ‘কাকু’। মুখে ছিল মাস্ক। হুইলচেয়ারে করে তাঁকে তোলা হয় অ্যাম্বুলেন্সে। কণ্ঠস্বর পরীক্ষার পরও হুইলচেয়ারে বসেই আবার অ্যাম্বুলেন্সে ওঠেন তিনি। ফেরত আনা হয় এসএসকেএমে। ফেরার পরে নাকি দীর্ঘসময় এসএসকেএমের দরজাতেই অপেক্ষা করতে হয় কাকুকে। কারণ এসএসকেএমের গেট বন্ধ ছিল। ভোররাতে কার্ডিওলজি বিভাগে ফের ঢোকানো হয় তাঁকে।

কালীঘাটের কাকুর কণ্ঠস্বরের নমুনা সংগ্রহ করা নিয়ে চূড়ান্ত নাটকীয়তা হয়েছে। এই ভয়েস স্যাম্পেল টেস্টকে ডাক্তারি ভাষায় বলে ফরেন্সিক ভয়েস অ্যানালিসিস। কণ্ঠস্বরের পিচ বা তীক্ষ্ণতা পরীক্ষা করা হয়। কোনও ব্যক্তি কীভাবে কথা বলছেন, তাঁর ভয়েস বা গলার জোর কতটা, কথা বলার সময় কখন থামছেন সেসব সূক্ষ্ম বিষয়গুলো পরীক্ষা করা হয়। সাধারণত ভয়েস টেস্টের সময় কোনও একটা লেখা পড়তে বলা হয়।  তখন সেই কণ্ঠস্বরকে ডিজিটালি রেকর্ড করা হয়। এরপর অন্য কোনও জায়গা থাকে পাওয়া কণ্ঠস্বরের নমুনার সঙ্গে সেটি মিলিয়ে দেখা হয়। এর একটি বিশেষ প্রক্রিয়াও আছে। এর থেকে বোঝা যেতে পারে দুটি কণ্ঠস্বর এক কিনা।

গত ৩০ মে ১১ ঘণ্টা জিজ্ঞাসাবাদের পর সুজয়কৃষ্ণকে গ্রেফতার করে ইডি। তার পরের দিন তাঁকে ব্যাঙ্কশাল আদালতে পেশ করে ইডি জানিয়েছিল, নিয়োগ দুর্নীতি সংক্রান্ত একাধিক গুরুত্বপূর্ণ তথ্য সুজয়ের কথায় ফোন থেকে মুছে দিয়েছিলেন পেশায় সিভিক ভলান্টিয়ার রাহুল বেরা। ইডি সূত্রে জানা যায়, এই বিষয়ে সুজয়কে জিজ্ঞাসা করা হলে তিনি যাবতীয় অভিযোগ অস্বীকার করেন। কিন্তু তাদের কাছে এই সংক্রান্ত গুরুত্বপূর্ণ ‘কল রেকর্ডিং’ আছে বলে ইডি সূত্রে দাবি করা হয়। হাসপাতাল সূত্রে খবর, ওই কল রেকর্ডিংয়ে থাকা কথোপকথনের মধ্যে নির্দিষ্ট কিছু শব্দ ‘কাকু’কে দিয়ে বার বার বলানো হয়েছে। রাহুলকে তথ্য মোছার নির্দেশ দেওয়া ব্যক্তিটি সুজয়কৃষ্ণই ছিলেন কি না, এতে তা নিশ্চিত ভাবে বোঝা যাবে বলে ইডি সূত্রে খবর।

কণ্ঠস্বরের নমুনা পরীক্ষা কী?

ডাক্তারি পরিভাষায় যাকে বলে ফরেন্সিক ভয়েস অ্যানালিসিস। কণ্ঠস্বরের ‘পিচ’ বা তীক্ষ্ণতা এক এক মানুষেক ক্ষেত্রে এক এক মানুষের ক্ষেত্রে এক এক রকম হয়। ফরেন্সিক ভয়েস অ্যানালিসিসের মাধ্যমে, দুটি কণ্ঠস্বরের নমুনা একই ব্যক্তির কি না,তা বোঝা যায়। যাঁরা এই কণ্ঠস্বরের নমুনা বিশ্লেষণ করেন,তাঁরা কোনও ব্যক্তির কথা বলার ধরন, কীভাবে কথা বলছেন,কথা বলার সময় কোথায় কোথায় থামছেন সেগুলি যাচাই করে দেখেন। এরপর পূর্ববর্তী নমুনার সঙ্গে কতটা মিলছে,তা পরীক্ষা করে দেখা হয়।

সিনিয়র নাক-কান-গলা বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকেদের কথায়,“ভয়েস স্যাম্পেল সংগ্রহের একটি নির্দিষ্ট প্রক্রিয়া রয়েছে। সাধারণত যাঁর নমুনা সংগ্রহ করা হবে, তাঁকে কোনও একটি লেখা পড়তে বলা হয়। তখন সেই কণ্ঠস্বরকে ডিজিটালি রেকর্ড করা হয়। এরপর অন্য কোনও জায়গা থাকে পাওয়া কণ্ঠস্বরের নমুনার সঙ্গে সেটি মিলিয়ে দেখা হয়। এর থেকেই বোঝা যায় দু’টি কণ্ঠস্বর একই ব্যক্তির কি না।”

ভয়েস স্যাম্পেল নেওয়ার পদ্ধতি

কণ্ঠস্বরের নমুনা পরীক্ষার জন্য সর্বপ্রথম তদন্তকারী সংস্থাকে আদালতের দ্বারস্থ হয়ে এই নমুনা পরীক্ষা করার জন্য আবেদন করতে হয়। আদালত যদি অনুমতি দেয়, তাহলে সাউন্ড প্রুফ ও ইকো প্রুফ ঘরে নমুনা নেওয়া হয়ে থাকে।

নমুনা নেওয়ার জন্য ব্যবহার করা হয় ভয়েস রেকর্ডার যন্ত্র। এসডি (SD) কার্ডে সেই নমুনা সংগ্রহ করে ফরেন্সিক বিভাগ। নমুনা নেওয়ার পর ফরেন্সিক দফতরে সেই স্বরের নমুনা নিয়ে আসা হয়। এরপর ভয়েস স্পেক্ট্রমিটার সফটওয়ারের লাইসেন্সড ভার্সনে পরীক্ষা করা হয়ে থাকে।

এই দেশে সেমি অটোমেটিক স্পেকটোগ্রাফিক পদ্ধতির মাধ্যমে রেকর্ড করা হয়।

নমুনা সংগ্রহর সময় কী কী প্রশ্ন করা হয়?

নমুনা নেওয়ার সময় সংশ্লিষ্ট ব্যক্তির নাম পরিচয় জানতে চাওয়া হয়। এর পাশাপাশি আরও অনেক প্রশ্নও থাকে। তবে প্রাথমিকভাবে নাম পরিচয় বলানো হয়। যে কণ্ঠস্বরের সঙ্গে পরীক্ষা করা হবে, সেখানে থাকা কিছু কিছু শব্দ বলিয়ে নেওয়া হয়। কণ্ঠস্বর বাড়াতে-কমাতে কৌশল নেওয়া হয়। মাঝেমধ্যে প্রশ্নের মাধ্যমে ওই ব্যক্তিকে উত্তেজিত করে রাগিয়েও দেওয়া হয়।

নমুনা পরীক্ষার পর সরাসরি তদন্তকারী সংস্থাকে পজিটিভ অথবা নেগেটিভ রিপোর্ট দেয় ফরেন্সিক বিভাগ।

কণ্ঠস্বরের নমুনা পরীক্ষায় কী কী বিষয় দেখা হয়?

কণ্ঠস্বরে ব্যবহৃত শব্দের অ্যাপ্লিটিউড (Amplitude) বা প্রসস্থতা। গলার পিচ কতটা জোরে বা আস্তে হচ্ছে। অর্থাৎ ব্যক্তির গলার স্বর কেমন তাও দেখা হয়।

এই পরীক্ষা নেওয়ার ক্ষেত্রে সমস্যা কোথায়?

যার ‘ভয়েস স্যাম্পেল’ নেওয়া হবে সেই ব্যক্তির যদি ওষুধ চলে তাহলে স্বর বদল হতে পারে। সেক্ষেত্রে নাও মিলতে পারে কণ্ঠস্বর।

যদি ওই ব্যক্তি ঠান্ডা লেগে থাকে তাহলেও স্বর মেলার সম্ভাবনা কম থাকে।

যিনি নমুনা নেবেন তাঁর অভিজ্ঞতার উপরেও পরীক্ষার ফলাফল নির্ভর করে।

সঠিকভাবে নমুনা সংগ্রহ করতে ফরেন্সিক কৌশলও করে

অনেক ক্ষেত্রে দেখা যায়, যে সময় ব্যক্তির কণ্ঠস্বর নেওয়া হবে তিনি নিজেকে বাঁচানোর চেষ্টা করেন। সেই জন্য ফরেন্সিক বিভাগের বিশেষজ্ঞরা স্বরবর্ণ উচ্চারণে বাড়তি গুরুত্ব দেন। কারণ স্বরবর্ণ উচ্চারণের ক্ষেত্রে কারচুপি করা কঠিন।

নমুনা নেওয়ার সময় ফরেন্সিক বিভাগের বিশেষজ্ঞ ও হাসপাতালের তরফে চিকিৎসক থাকতে হয়। কিছু ক্ষেত্রে ম্যাজিস্ট্রেটের সামনেও নমুনা নেওয়া হয়ে থাকে।

প্রসঙ্গত, বুধবার প্রাথমিকে নিয়োগ সংক্রান্ত মামলার শুনানি হয় কলকাতা হাই কোর্টে। বিচারপতি অমৃতা সিংহ রুদ্ধদ্বার শুনানি করেন। এই মামলায় মঙ্গলবারই বিচারপতি ইডির যুগ্ম ডিরেক্টর এবং ইএসআইয়ের মেডিক্যাল দলের প্রধানকে তলব করেছিলেন। রুদ্ধদ্বার শুনানিতে তাঁরা ছিলেন। নিয়োগ মামলার যে রিপোর্ট ইডি আদালতে জমা দিয়েছে, সেখানে ‘লিপ্‌স অ্যান্ড বাউন্ডস’ এবং তার সিইও অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের সম্পত্তি সংক্রান্ত রিপোর্টও ছিল। ওই সংস্থাতেই কাজ করতেন সুজয়।

Advertisement
Tags: featured

একটি মন্তব্য করুন

আপনার ইমেল ঠিকানা প্রকাশ করা হবে না। চিহ্নিত ক্ষেত্রগুলি আবশ্যক *

Home Language Gallery e-Paper
Menu
© 2026 Desher Samay.

Select Language

ভাষা নির্বাচন করুন