প্রচ্ছদলেটেস্ট নিউজদেশপশ্চিমবঙ্গকলকাতাউত্তরবঙ্গজেলাব্যবসাবিনোদনখেলাআন্তর্জাতিকবাংলাদেশফটো গ্যালারিভ্রমণকাহিনীসম্পাদকের পছন্দসরাসরিইউটিউবই-পেপার
Breaking News

এডমুন্ডের ঐতিহাসিক হ্যাটট্রিক,   মোহনবাগানকে ৪-১-এ হারিয়ে ডুরান্ড চ্যাম্পিয়ন ইস্টবেঙ্গল

deshersamay

Share article:

যুবভারতীতে লাল-হলুদ ঝড়। চিরপ্রতিদ্বন্দ্বী মোহনবাগানকে ৪-১ গোলে চূর্ণ করে ডুরান্ড কাপ চ্যাম্পিয়ন হল ইস্টবেঙ্গল। কলকাতা ডার্বির ইতিহাসে
নিজের নাম উজ্জ্বল অক্ষরে লিখে রাখলেন এডমুণ্ড লালরিনডিকা। প্রথমার্ধেই হ্যাটট্রিক করলেন তিনি। ইস্টবেঙ্গলের অন্য গোলটি বিপিন সিংয়ের। মোহনবাগানের সবেধন গোল দিয়েছেন মনবীর সিং।

শুধু তাই নয়, রবিবাসরীয় সন্ধেয় আরও এক মাইলফলক তৈরি হল কলকাতা ডার্বিতে। যে ম্যাচে প্রথমার্ধ্বেই ইস্টবেঙ্গলের কাছে ৪ গোল খেয়ে গেল মোহনবাগান। ১৯৯৭ সালের ফেডারেশন কাপ সেমিফাইনালে বাইচুং ভুটিয়ার হ্যাটট্রিকে মোহনবাগানকে ৪-১ গোলে হারিয়েছিল ইস্টবেঙ্গল। ২৯ বছর পর সেই একই স্কোরলাইনে ফের সবুজ-মেরুনকে হারাল তারা। এবার হ্যাটট্রিকের নায়ক এডমুণ্ড।

জয়ের সুবাদে ১৭তম বার ডুরান্ড কাপ ঘরে তুলল ইস্টবেঙ্গল। একই সঙ্গে সর্বাধিক ১৭ বার এই প্রতিযোগিতা জেতার মোহনবাগানের রেকর্ডও ছুঁয়ে ফেলল লাল-হলুদ।
 

ফাইনালের আগে অবশ্য সাম্প্রতিক ডার্বির ফল আত্মবিশ্বাস জোগাচ্ছিল মোহনবাগানকেই। এবারের ডুরান্ড কাপের উদ্বোধনী ম্যাচে ইস্টবেঙ্গলকে হারিয়েছিল সবুজ-মেরুন। কিন্তু খেতাবের লড়াইয়ে সেই হারের হিসাব সুদে-আসলে মিটিয়ে দিল আন্তোনিয়ো লোপেজ হাবাসের দল।
ম্যাচের শুরুতে বলের দখল এবং আক্রমণ তৈরির ক্ষেত্রে কিছুটা এগিয়ে ছিল মোহনবাগান। কিন্তু গোলের মুখ খুলতেই বদলে যায় ছবিটা। ১০ মিনিটে বিপিন সিংয়ের গোলে এগিয়ে যায় ইস্টবেঙ্গল। বক্সের বাঁ দিক থেকে শুভাশিস বসুকে কাটিয়ে বিপিনের মাটি ঘেঁষা শট বিশাল কাইথকে পরাস্ত করে জালে জড়িয়ে যায়।

মোহনবাগান সেই ধাক্কা সামলে ওঠার আগেই দ্বিতীয় গোল। মাত্র দু’মিনিট পর বক্সের বাইরে থেকে শট নেন এডমুণ্ড। বলের নাগাল পেতে ঝাঁপিয়েও শেষরক্ষা করতে পারেননি বিশাল। ১২ মিনিটের মধ্যেই ২-০ এগিয়ে যায় লাল-হলুদ।

২২ মিনিটে মোহনবাগানের রক্ষণকে ফের ছিন্নভিন্ন করেন এডমুণ্ড। ড্যানিয়েল রামিরেজের পাস ধরে বক্সে ঢুকে প্রথমে এক ডিফেন্ডার এবং পরে গোলকিপার বিশালকে কাটিয়ে ফাঁকা জালে বল পাঠান তিনি। স্কোরলাইন হয়ে যায় ৩-০।

৩৩ মিনিটে ব্যক্তিগত দক্ষতায় একটি গোল শোধ করেন মনবীর সিং। ডান দিক দিয়ে বক্সে ঢুকে জয় গুপ্তকে কাটিয়ে তাঁর শট আনোয়ার আলির পায়ের ফাঁক দিয়ে জালে জড়িয়ে যায়। গোলরক্ষক প্রভসুখন গিল বল স্পর্শ করলেও তা আটকাতে পারেননি।

মোহনবাগানের প্রত্যাবর্তনের আশা অবশ্য বেশিক্ষণ স্থায়ী হয়নি। প্রথমার্ধের ৪৪ মিনিটে ফের গোল এডমুণ্ডের। মহম্মদ রশিদের ফ্রি-কিক থেকে বল পান জয় গুপ্ত। তাঁর বাড়ানো বল জালে ঠেলে নিজের হ্যাটট্রিক পূর্ণ করেন এডমুণ্ড। বিরতিতে ৪-১ ব্যবধানে এগিয়ে যায় ইস্টবেঙ্গল।
বরং প্রতি-আক্রমণ থেকে ব্যবধান আরও বাড়ানোর সুযোগ পেয়েছিল ইস্টবেঙ্গল।

এমন সুযোগ যে রবিবাসরীয় ডার্বিতে মোহনবাগানকে হাফ ডজন গোল দিয়ে পঞ্চাশ বছরের রেকর্ডও ভেঙে দিতে পারত। এমনকী এডমুণ্ডের সামনে চতুর্থ গোল করার সুযোগও এসেছিল। পরে পরিবর্ত হিসেবে নামা জেসিন একবার বিশালকে একা পেয়েও গোল করতে পারেননি। তবে ততক্ষণে ম্যাচের ভাগ্য কার্যত লেখা হয়ে গিয়েছে।

শেষ বাঁশি বাজতেই উৎসবে ফেটে পড়ে যুবভারতীর লাল-হলুদ গ্যালারি। মরশুমের প্রথম ডার্বিতে হারের হতাশা মুছে সবচেয়ে বড় মঞ্চে মোহনবাগানকে বিধ্বস্ত করল ইস্টবেঙ্গল। আর বাইচুংয়ের ঐতিহাসিক হ্যাটট্রিকের স্মৃতি ফিরিয়ে লাল-হলুদ সমর্থকদের নতুন নায়ক হয়ে উঠলেন এডমুণ্ড লালরিনডিকা। ডার্বির ইতিহাসে যুক্ত হল আরও একটি অবিস্মরণীয় অধ্যায়।
 

Tags: খেলা

একটি মন্তব্য করুন

আপনার ইমেল ঠিকানা প্রকাশ করা হবে না। চিহ্নিত ক্ষেত্রগুলি আবশ্যক *

Home Language Gallery e-Paper
Menu
© 2026 Desher Samay.

Select Language

ভাষা নির্বাচন করুন