৫৮ জন তৃণমূল বিধায়কের সমর্থনে বিধানসভার বিরোধী দলনেতা হিসেবে মনোনীত ঋতব্রত ,‘নতুন তৃণমূলে’ কোন কোন বর্ষীয়ান হেভিওয়েটরা?
deshersamay


বিধানসভায় বিরোধী দলনেতা হিসেবে মনোনীত হলেন ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়। তৃণমূলের ৫৮ জন বিধায়ক তাঁকে সমর্থন করেছেন বলে সূত্রের খবর। সূত্র জানিয়েছে, মুখ্য সচেতক মনোনীত হলেন মুর্শিদাবাদের রঘুনাথগঞ্জের বিধায়ক আখরুজ্জামান। এন্টালির বিধায়ক সন্দীপন সাহা, কসবার বিধায়ক জাভেদ খানের নাম উপ-নেতা হিসেবে প্রস্তাবিত হয়েছে।

তৃণমূলের অন্দরে আড়াআড়ি ফাটল। শুধু সই সংবলিত চিঠি জমা দেওয়া নয়, বুধবার একেবারে সশরীরে বিধানসভায় উপস্থিত হয়ে নিজেদের শক্তির আস্ফালন দেখাচ্ছেন তৃণমূলের বিক্ষুব্ধ বিধায়করা। সব মিলিয়ে ৩০ থেকে ৩৫ জন বিধায়ক এদিন দুপুরে বিধানসভায় পৌঁছে গিয়েছেন। তাঁরা নৌশের আলি কক্ষে রুদ্ধদ্বার বৈঠক শেষ করে মোট ৫৮ জনের সই সহ অধ্যক্ষের কাছে গিয়েছেন তৃণমূল বিধায়করা এমনটাই জানা গিয়েছে।
সাদা কাগজে যে চিঠি জমা পড়েছে অধ্যক্ষের কাছে সেখানে পরিষ্কার লেখা রয়েছে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় দলনেত্রী। কিন্তু সেই সঙ্গে লেখা রয়েছে পরিষদীয় দলনেতা হিসেবে তাঁরা ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়ের নাম নমিনেট করছেন। উপ দলনেতা হিসেবে জাভেদ খান, শিউলি সাহা, সন্দীপন সাহা এবং সাবিনা ইয়াসমিনের নাম প্রস্তাব করা হয়েছে। মুখ্য সচেতক হিসেবে কোনও নাম জমা দেওয়া হয়েছে আখরুজ্জামানের।

বুধবার বেলা গড়াতেই বিধানসভা চত্বর নাটকীয় মোড় নেয়। দেখা যায়, বহিষ্কৃত তৃণমূল বিধায়ক ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায় ও সন্দীপন সাহার নেতৃত্বে একে একে বিধানসভায় ঢুকছেন বিরোধী শিবিরের একঝাঁক বিধায়ক। ঋতব্রতের সঙ্গেই বিধানসভায় প্রবেশ করেন শিউলি সাহা, রিয়াজ হুসেন, ইমানি বিশ্বাস এবং সাবিনা ইয়াসমিন। হাওড়া জেলার তিন বিধায়ককেও এদিন তাঁদের সঙ্গে দেখা গিয়েছে। এছাড়াও বিধানসভায় এসেছেন অরুণাভ সেন।
অন্যতম তাৎপর্যপূর্ণ উপস্থিতি হল মধ্যমগ্রামের বিধায়ক তথা রাজ্যের প্রাক্তন মন্ত্রী রথীন ঘোষের। উল্লেখ্য, পুর নিয়োগ দুর্নীতি মামলায় সম্প্রতি রথীন ঘোষকে তলব করেছিল কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থা ইডি। তাঁর উপস্থিতি বিক্ষুব্ধ শিবিরের হাত শক্ত করল বলেই মনে করা হচ্ছে।
বিধানসভার অন্দরে গুঞ্জন, তৃণমূলের এই বিক্ষুব্ধ গোষ্ঠীটি এদিন স্পিকারের কাছে একটি চিঠি জমা দিতে চলেছে। সেই চিঠিতেই রয়েছে বেশিরভাগ বিধায়কের সই। সূত্রের খবর, তাঁরা ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়কেই তাঁদের পরিষদীয় নেতা হিসেবে তুলে ধরছেন।

বহিষ্কৃত বিধায়ক সন্দীপন সাহা এদিন বিধানসভায় ঢোকার মুখে অত্যন্ত আত্মবিশ্বাসের সঙ্গে দাবি করেন, “আমাদের সঙ্গে তৃণমূলের জয়ী বিধায়কদের দুই-তৃতীয়াংশের বেশি সদস্যের সমর্থন রয়েছে।”
নৌশের আলি কক্ষের বৈঠকে পরবর্তী রণকৌশল ঠিক করেছেন বিক্ষুব্ধরা। সেখান থেকে তাঁরা সরাসরি স্পিকার রথীন্দ্র বোসের ঘরে গিয়েছেন তাঁরা। সব মিলিয়ে বুধবার বিধানসভা চত্বর সরগরম তৃণমূলের এই ঘরোয়া বিদ্রোহে।
ঋতব্রতকে ‘অনুসরণ’ করলেন কারা কারা?
রয়েছেন হাওড়া মধ্যর বিধায়ক অরূপ রায়
ডোমজুড়ের বিধায়ক তাপস মাইতি

মহেশতলার বিধায়ক শুভাশিস দাস
কুলপির বিধায়ক বর্ণালী ধারা
কেশপুরের বিধায়ক শিউলি সাহা
সামসেরগঞ্জের বিধায়ক মহম্মদ নূর আলম
হরিহরপাড়ার বিধায়ক নিয়ামত শেখ
রয়েছেন লালগোলার বিধায়ক আব্দুল আজিজ। তিনি এনামুক হকের জামাই।
ভগবানগোলার বিধায়ক রেয়াত হোসেন
সুতির বিধায়ক ইমানি বিশ্বাস
রঘুনাথগঞ্জের বিধায়ক আক্রুজ্জামান
খড়্গপুরের বিধায়ক দিনেন রায়
সুজাপুরের বিধায়ক সাবিনা ইয়াসমিন
রতুয়ার বিধায়ক সমর মুখোপাধ্যায়
রথীন ঘোষ
সন্দীপন সাহা
চন্দ্রনাথ সিনহা
পাথরপ্রতিমার বিধায়ক সমীর জানা। রয়েছেন হাওড়া জেলার তিন বিধায়ক। রয়েছেন অরুণাভ সেন, সমীর পাঁজাও। রয়েছেন আরও অনেক পরিচিত মুখ! তবে প্রত্যেকেই মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে নেত্রী হিসাবে মানছেন।

তবে রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের কাছে এটা স্পষ্ট, মমতা অভিষেক নিয়ন্ত্রণ ভেঙে বেরিয়ে এসেছেন তাঁরা। দুই তৃতীয়াংশ সমর্থন নিয়ে আত্ম প্রকাশ নব তৃণমূলের।

Leave a Reply