Desher Samay
প্রচ্ছদদেশপশ্চিমবঙ্গকলকাতাউত্তরবঙ্গজেলাব্যবসাবিনোদনখেলাআন্তর্জাতিকবাংলাদেশফটো গ্যালারিভ্রমণকাহিনীসম্পাদকের পছন্দসরাসরিইউটিউবই-পেপার
Breaking News

ভূমিকম্পের মতো ঝাঁকুনি, বিস্ফোরণের মতো শব্দ!’  প্রত্যক্ষদর্শীদের ভয়াল বর্ণনা,  প্ল্যানেই গলদ ছিল’, তারাতলা কাণ্ডে ক্ষুব্ধ মুখ্যমন্ত্রী!

deshersamay

Share article:

বুধবার দুপুরের ভয়াবহ মুহূর্তের কথা মনে করে এখনও শিউরে উঠছেন কলকাতা বন্দর এলাকার ট্রান্সপোর্ট ডিপো রোডের এলাকাবাসী। দুপুর গড়িয়ে যখন ব্যস্ততা চরমে, ঠিক তখনই আচমকা প্রবল বিস্ফোরণের মতো শব্দে কেঁপে ওঠে গোটা ট্রান্সপোর্ট ডিপো। অনেকেই ভেবেছিলেন বড় কোনও বোমা বিস্ফোরণ বা মারাত্মক ভূমিকম্প হয়েছে। কিন্তু ধুলোর মেঘ সরতেই সামনে আসে আসল সত্যিটা।

ভূমিকম্প বা বিস্ফোরণ নয়, বরং তারাতলার ব্রেসব্রিজ সংলগ্ন ট্রান্সপোর্ট ডিপো রোডের ওপর হুড়মুড় করে ভেঙে পড়েছে একটি ৫ তলা নির্মীয়মাণ বিশালাকার চায়ের
গোডাউন । এই ভয়াবহ ও মর্মান্তিক দুর্ঘটনার পর এখন রাজ্যজুড়ে একটাই বড় প্রশ্ন – নির্মাণকাজে ব্যবহৃত মালমশলার গলদ নাকি কাঠামোগত নকশার মারাত্মক ত্রুটিতে ঘটল এত বড় বিপর্যয়?

দুর্ঘটনাস্থলে উপস্থিত এক প্রত্যক্ষদর্শী আতঙ্কের সুরে সংবাদমাধ্যমের সামনে জানান, “হঠাৎ করে মনে হল যেন তীব্র মাত্রার কোনও ভূমিকম্প এসে পায়ের তলার মাটি কাঁপিয়ে দিল! একটা প্রবল ঝাঁকুনি হল গোটা এলাকায়। আর তার ঠিক কয়েক সেকেন্ডের মধ্যেই একটা বিকট বিস্ফোরণের মতো আওয়াজ পেলাম। কিছু বুঝে ওঠার আগেই চোখের সামনে দেখলাম ওই বিশাল ৫ তলা গুদামটা তাসের ঘরের মতো হুড়মুড় করে ধসে পড়ল। চারদিক মুহূর্তে কালো ধুলোয় ঢেকে গেল আর শুরু হল আটকে পড়া মানুষদের বাঁচার জন্য তীব্র চিৎকার।”

তারাতলার ব্রেসব্রিজে নির্মীয়মাণ গোডাউন বিপর্যয়ের  জেরে এবার কড়া পদক্ষেপের কথা ঘোষণা করলেন মুখ্যমন্ত্রী। ‘নির্মাণের প্ল্যানেই গুরুতর ত্রুটি ছিল’, পুরসভার ইঞ্জিনিয়ারদের প্রাথমিক রিপোর্টের ভিত্তিতে একথা স্পষ্ট জানিয়ে দিলেন তিনি। একই সঙ্গে আগামী ৩১ জুলাই পর্যন্ত গোটা কলকাতা পুরসভা (KMC) এলাকায় সমস্ত রকম বাণিজ্যিক ও সন্দেহজনক বহুতলের নির্মাণকাজ সম্পূর্ণ বন্ধ রাখার নির্দেশ দিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী। এই সময়ের মধ্যে প্রতিটি সাইটে চলবে পুঙ্খানুপুঙ্খ অডিট।

সাংবাদিক সম্মেলনে মুখ্যমন্ত্রী সাফ জানান, গত ১৭ জানুয়ারি ২০২৬ তারিখে এই বিল্ডিং প্ল্যান অনুমোদন পেয়েছিল। জমিটি লিজ নিয়েছিলেন শম্ভুনাথ বেহরা নামে এক ব্যক্তি। গোটা কেএমসি এলাকায় নির্মিয়মান যত সাইট রয়েছে বিশেষ করে কমার্শিয়াল সেসব জায়গায় কাজ বন্ধ থাকবে ৩১ জুলাই পর্যন্ত। আগের জমানায় বহুক্ষেত্রে জলাশয় বুজিয়ে বা নিয়ম ভেঙে প্ল্যান অনুমোদন করানো হয়েছে। সব কমার্শিয়াল সাইট খতিয়ে দেখা হবে। পিডব্লিউডি, সিভিল ডিফেন্স, ফায়ার, কলকাতা পুলিশ এবং কেএমডিএ-র বিশেষজ্ঞদের নিয়ে একটি যৌথ টিম তৈরি করা হচ্ছে। এই টিম আগামী ৩১ জুলাইয়ের মধ্যে অডিট রিপোর্ট জমা দেবে। যাদের সব কাগজ ও পরিকাঠামো ঠিক থাকবে, তারা ১ আগস্ট থেকে ফের কাজ শুরু করতে পারবে। তবে জরুরি পরিষেবা এই নিয়মের আওতার বাইরে থাকবে। মেট্রো ও পোর্ট ট্রাস্ট এলাকার ক্ষেত্রেও তাদের সহযোগিতা নিয়ে অডিট করা হবে। আইনি পদক্ষেপ ও ক্ষতিপূরণের বিষয়ে আগামীকাল বিধানসভার পরে সরকারিভাবে বিবৃতি দেওয়া হবে।

উদ্ধারকাজের খতিয়ান দিতে গিয়ে মুখ্যমন্ত্রী কলকাতা পুলিশ, দমকল এবং সিভিল ডিফেন্সের কর্মীদের ধন্যবাদ জানান। তিনি বলেন, “তারাই একটা মর্মান্তিক ঘটনা আরও বড় হওয়া থেকে আটকেছেন। তবে ঘটনাস্থলে সলিড লোহার চাঙ্গড় পড়ে রয়েছে। ক্রেন দিয়ে সরাতে গেলে ভেতরে আটকে থাকাদের ক্ষতি হতে পারে। তাই ড্রিল করা দরকার। এই আধুনিক যন্ত্র সেনাবাহিনী ও এনডিআরএফ (NDRF)-এর কাছে থাকায় অফিশিয়াল নির্দেশের আগেই সেনা অত্যন্ত সংবেদনশীলতার সঙ্গে সাহায্যের হাত বাড়িয়ে দিয়েছে।”

মুখ্যমন্ত্রী জানান, এখনও পর্যন্ত ২১ জনকে ধ্বংসস্তূপ থেকে বের করা সম্ভব হয়েছে, যার মধ্যে ১৮ জন জীবিত। ভেতরে এখনও ১২ থেকে ১৫ জন আটকে রয়েছেন। তবে স্বস্তির খবর, তাঁদের সঙ্গে যোগাযোগ করা সম্ভব হয়েছে এবং ভেতরে জল ও অক্সিজেন পৌঁছানো হচ্ছে।

এদিকে স্থানীয় বাসিন্দাদের কাছ থেকে এই নির্মাণকাজ নিয়ে উঠে এসেছে এক চাঞ্চল্যকর তথ্য। ব্রেসব্রিজের কাছে এই বিশাল গুদামটি তৈরির কাজ গত প্রায় দেড় বছর ধরে একটানা চলছিল। আজ সকাল থেকেই গোডাউনের মূল লোহার কাঠামোটি অস্বাভাবিকভাবে দুলছিল।

সেই নড়বড়ে কাঠামোটি ঠিক কী অবস্থায় রয়েছে, তা পরখ করতে বা পরীক্ষা করতেই ছাদের ওপর ও নীচে জড়ো হয়েছিলেন বেশ কয়েকজন শ্রমিক। আর ঠিক তখনই তাসের ঘরের মতো আচমকা সম্পূর্ণ লোহার ছাদ ও ভারী বিম হুড়মুড় করে ধসে পড়ে। ফলে পরখ করতে যাওয়া ও নীচে কর্মরত সমস্ত শ্রমিকরা মুহূর্তের মধ্যে লোহার চাঁইয়ের তলায় চাপা পড়ে যান। প্রশাসনের তরফে জানানো হয়েছে, এই গাফিলতির নেপথ্যে কারা রয়েছে, তা খতিয়ে দেখে কড়া আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে।  

প্রাথমিক তালিকা অনুযায়ী, মৃতদের মধ্যে রয়েছেন ৪০ বছরের রোহিত চৌধুরী, ৩০ বছরের কৃষ্ণা চৌধুরী এবং বছর তিরিশের এক অজ্ঞাতপরিচয় ব্যক্তি। আর আহতদের মধ্যে রয়েছেন ৫৬ বছরের দুর্বাসা মল্লান, ২২ বছরের মণি চাঁদ কুমার, ২৬ বছরের সাহিদ কুমার, ২৫ বছরের রাজেশ রুইদাস, ২৮ বছরের বিশ্ব প্রকাশ, ২৮ বছরের বোদান মুন্ডা, ৫৫ বছরের রাজেন্দ্র রাও এবং ২১ বছরের রামপ্রসাদ চৌধুরী।

Advertisement

একটি মন্তব্য করুন

আপনার ইমেল ঠিকানা প্রকাশ করা হবে না। চিহ্নিত ক্ষেত্রগুলি আবশ্যক *

Home Search Gallery e-Paper
Menu
© 2026 Desher Samay.