স্বাধীনতা দিবসে লালকেল্লায় প্রথমবার গাওয়া হবে ‘বন্দে মাতরম্’! কর্মসূচিতে বিশেষ গুরুত্ব দেশের তরুণদের
deshersamay

স্বাধীনতা দিবসে লালকেল্লার মূল সরকারি আয়োজনে এ বার যুক্ত হতে চলেছে এক নতুন অধ্যায়। ইতিহাস তৈরি করে প্রথম বার লালকেল্লার জাতীয় মঞ্চে গাওয়া হবে জাতীয় গান ‘বন্দে মাতরম্’। প্রতিরক্ষামন্ত্রকের এক বিবৃতিতে এই সিদ্ধান্তের কথা জানানো হয়েছে। একই সঙ্গে ২০২৬ সালের লালকেল্লার উদযাপনের মূল বিষয়বস্তু বা থিম হিসেবে নির্বাচিত হয়েছে ‘যুব শক্তি’—সম্প্রতি দেশ জুড়ে চলা ব্যপক ছাত্র আন্দোলনের পটভূমিতে যা অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ বলে মনে করছে রাজনৈতিক মহল।

প্রতি বছর ১৫ অগস্ট প্রধানমন্ত্রী লালকেল্লায় জাতীয় পতাকা উত্তোলনের পর প্রথা অনুযায়ী কেবল জাতীয় সঙ্গীত ‘জনগণমন’ গাওয়া হত। তবে এ বছর থেকে সেই বিধিতে বদল আসছে। নতুন সূচি অনুযায়ী, জাতীয় পতাকা উত্তোলনের মুখেই প্রথমে গাওয়া হবে জাতীয় গান ‘বন্দে মাতরম্’ এবং তার পরেই বাজানো হবে জাতীয় সঙ্গীত। ঋষি বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায় রচিত এই কালজয়ী দেশাত্মবোধক রচনার ১৫০ বছর পূর্তি উপলক্ষে জাতীয় গানের মর্যাদা পুনর্প্রতিষ্ঠায় কেন্দ্র নানা পদক্ষেপ গ্রহণ করেছে। খবর অনুযায়ী, এ বারের স্বাধীনতা দিবসের প্রাতিষ্ঠানিক নিমন্ত্রণপত্রেও ‘বন্দে মাতরম্’-এর ছ’টি স্তবককেই অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে।

উল্লেখ্য, ২০২৬ সালের ফেব্রুয়ারি মাসে সরকারি অনুষ্ঠানে ‘বন্দে মাতরম্’ পরিবেশনের সুনির্দিষ্ট সময়সীমা ও বিধিনিষেধ জারি করেছিল কেন্দ্র। সেই নিয়ম অনুযায়ী, ৩ মিনিট ১০ সেকেন্ড বা ১৯০ সেকেন্ডে গানটির ছ’টি স্তবক গাইতে হবে। জাতীয় পতাকার মতো জাতীয় গানের অবমাননাকেও কঠোর শাস্তিযোগ্য অপরাধ হিসেবে গণ্য করতে সম্প্রতি সংসদে বিশেষ বিল পাস করিয়েছে মোদী সরকার।

‘বিকশিত ভারত’ গঠনে তরুণ প্রজন্মের ভূমিকাকে স্বীকৃতি দিতেই এ বারের মূল ভাবনা ‘যুব শক্তি’। সম্প্রতি দেশজুড়ে প্রশ্নফাঁস কাণ্ডের জেরে গড়ে ওঠা ব্যাপক ছাত্র বিক্ষোভের মুখে পড়ে পদত্যাগ করতে হয়েছিল তৎকালীন কেন্দ্রীয় শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধানকে। নরেন্দ্র মোদীর নেতৃত্বাধীন আমলে এই প্রথম কোনও পূর্ণ কেন্দ্রীয় মন্ত্রীকে চাপের মুখে পদ ছাড়তে হয়। উদ্ভূত পরিস্থিতিতে তরুণ সমাজকে স্পষ্ট বার্তা দিতেই কেন্দ্র দেশগঠনে ছাত্র-যুবদের গুরুত্ব তুলে ধরতে চাইছে। সেই কর্মসূচির অঙ্গ হিসেবেই পদার্থবিদ্যা, রসায়ন, জীববিদ্যা ও গণিত অলিম্পিয়াডে এ বছর পদকজয়ী ১৯ জন কৃতী পড়ুয়া এবং দিল্লির বিভিন্ন সরকারি স্কুলের শিক্ষার্থীদের লালকেল্লায় বিশেষ আমন্ত্রিত হিসেবে উপস্থিত রাখা হচ্ছে।

অন্য দিকে, প্রতিরক্ষাসচিব আর কে সিং নিশ্চিত করেছেন যে, লোকসভার বিরোধী দলনেতা রাহুল গান্ধীকেও এই অনুষ্ঠানে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে। আইন অনুযায়ী বিরোধী দলনেতার পদটি ক্যাবিনেট মন্ত্রীর সমতুল হওয়ায়, পদমর্যাদার প্রটোকল মেনে ক্যাবিনেট মন্ত্রীদের ঠিক পরেই তাঁর আসন সংরক্ষিত রাখা হচ্ছে।

