Desher Samay
প্রচ্ছদকলকাতাজেলাপশ্চিমবঙ্গখেলাউত্তরবঙ্গদেশবাংলাদেশআন্তর্জাতিকই-পেপারফটো গ্যালারিসম্পাদকের পছন্দসরাসরিইউটিউব
Breaking News

শোভন সব্যসাচীদের ভূমিকা নিয়ে বিজেপির অন্দরেই প্রশ্ন উঠতে শুরু করেছে

deshersamay

Share article:

দেশের সময়: -এ রাজ্যে লোকসভা নির্বাচনে চোখ ধাঁধানো সাফল্য পেযেছে বিজেপি।এক ধাক্কায় ২ থেকে ১৮টা আসন পেয়ে একেবারে তৃণমূলের ঘাড়ের কাছে নিঃশ্বাস ফেলতে শুরু করেছিল তারা।মনে করা হয়েছিন এবার এ রাজ্যে বিজেপি একেবারে অলআউট ঝাঁপাবে।মমতার রাতের ঘুম কেড়ে নেবে।

বস্তুত সে সময় মনে হচ্ছিল এ রাজ্যে বিজেপির আসাটা শুধু সময়ের অপেক্ষা।কিন্তু এই ৬-৭ মাসের মধ্যে চিত্রটা একেবারে পাল্টে গেছে।এখন সবাই মনে করছে এ রাজ্যে বিজেপির আর কোন সম্ভাবনা নেই।বিজেপির রাজ্য নেতাদের এ কাংশ এর জন্য কেন্দ্রীয় নেতাদের এআরসি ও সিএএ নিয়ে বাড়াবাড়িকে দায়ী করলেও রাজ্য বিজেপির অপদার্থতা ও নেতৃ্ত্বহীনতা এর জন্য অনেকাংশে দায়ী বলে অনেকেই মনে করছেন।

কেউ কেউ বলছেন এ রাজ্যের নেতাদের রাজ্য জয়ের কোন লক্ষ্যই নেই,শুধু নিজেদের ধান্দা গোছাতেই এরা ব্যস্ত।এ ব্যপারে রাজ্য নেতাদের একটা বড় অংশের ক্ষোভ রাজ্য সভাপতি দিপীপ ঘোষের উপর।হাওয়া গরম করা মন্তব্য করা ছাড়া এই লোকটার কোন মুরোদ নেই বলেই রাজ্য নেতাদের অনেকের মত।এদিকে আরএসএসের মদত নিয়ে দালীপবাবু দিব্যি রাজ্য বিজেপির মাথায় চড়ে বসে আছেন অথচ লোকসভার অতবড় সাফল্যের পর দলকে আর বৃহত্তর লড়াইয়ে উজ্জীবিত করার কোন পরিকল্পনাই তিনি করতে পারেন নি।দিনের পর দিন রাজ্য বিজেপির কোন নির্দিষ্ট কর্মসূচি নেই।

রাজ্যে নানা দুর্মীতি,সরকারি কর্মীদের উপর হয়ে চলা বঞ্চনা,জিনিসপত্রের দাম বাড়া কোনকিছুতেই বিজেপি কোন বড় আন্দোলন গড়ে তোলার কথা ভাবে নি।ফলে রাজ্যের শাসক দল তাদের ঘর ঘুছিয়ে নেওয়ার সুযোগ পেয়ে গেছে।কোন জোরদার সংগঠনও গড়ে তুলতে পারেনি বিজেপি এই কমাসে।

ফলে যে বা যারা বিজেপিতে এসেছিল তারা হতাশ হয়ে আবার শাসক তৃণমূল শিবিরে ফিরে গেছে।একের পর এক পুরসভা যা কিনা লোকসভা নির্বাচনের পর বিজেপির দিকে এসে গেছিল সেগুলো আবার শাসক তৃণমূল দখল করে নিতে সমর্থ হয়েছে।এসবই হয়েছে রাজ্য বিজেপির কর্মসূচির অভাবে ও সংগঠনকে ধরে না রাখতে পারার কারণে।

এর দায় রাজ্য সভাপতি হিসেবে দিলীপ ঘোষকে অবশ্যই নিতে হবে বলে বিজেপির রাজ্য নেতাদের একাংশের দাবি।

আর আকটা বিষয় নিয়ে রাজ্য বিজেপির অন্দরে তীব্র অসন্তোষ তৈরি হচ্ছে তা হল তৃণমূল থেকে যেসব হেবিওয়েট নেতাদের দলে নেওয়া হল তাঁদের ভূমিকা নিয়ে।অনেক ঢাকঢোল পিটিয়ে শোভন ও বৈশাখীকে বিজেপিতে নেওয়া হল।কিন্তু দলে তাদের ভূমিকা কী কেউ জানেন না।বিজেপির হয়ে কোন দায়িত্ব শোভন পালন করছেন তা নিয়েও ধন্দ্ব আছে সবার মধ্যে।শোভন তৃণমূলে আছেন না বিজেপিতে আছেন তা নিয়েও ধোঁয়াশা যথেষ্ট।

আবার বিধাননগরের প্রাক্তন মেয়র সব্যসাচী দত্ত তাঁরই বা কী ভূমিকা দলে কেউ জানেন না।এরা এসে দলের কোন কাজে লাগছেন তা নিয়ে বিজেপির রাজ্য স্তরের একাধিক নেতা প্রশ্ন তুলতে শুরু করেছেন।কেন এদের দলে এনে বসিয়ে রাখা হয়েছে সে প্রশ্নও কেউ কেউ করছেন। কেউ কেউ বলছেন শোভন ও সভ্যসাচী যথেষ্ট পরিণত রাজনীতিক এদের ব্যবহার করলে দলের উপকার হোত,কিন্তু দিলীপ ঘোষ ও তাঁর অনুগামীরা দলে নিজেদের মৌরসীপাট্টা বজায় রাখতে এঁদের কাজে লাগাচ্ছে না।বসিয়ে রেখে এদের কার্যকারিতাকে নষ্ট করে দেওয়া হচ্ছে।

যে ভাবে মুকুল রায়ের মত কৌশলী রাজনীতিককে কাজ করতে পদে পদে বাঁধা দিয়ে দিলীপ ঘোষের মত মাথা মোটা বাচাল নেতা এ রাজ্যে বিজেপির সাজানো বাগানকে নষ্ট করে দিচ্ছেন তাতে অনেকেই বিজেপি সম্পর্কে আস্থা হারাচ্ছেন।কেন লোকসভার সাফল্যকে রাজ্যের উপনির্বাচনে ধরে রাখা গেল না সে বিষয়ে এখনও কোন যুতসই উত্তর দিতে পারেন নি এ রাজ্যের বিজেপির রাজ্য সভাপতি।

সব মিলিয়ে শোভন সব্যসাতচীকে নিয়ে বিজেপির অন্দরে যেমন প্রশ্ন উঠতে শুরু করেছে তেমনি এঁদের কাজ করতে না দেওয়ার পেছনে রাজ্য সভাপতি ও তাঁর অনুগামীদের বিরুদ্ধেও ক্ষোভ ক্রমশ চড়ছে।

বিজেপি এ রাজ্যে ৃতৃণমূলকে আদৌ হারাতে চায় কিনা তা নিয়েও চর্চা শুরু হয়ে গেছে বিজেপিরই অন্দর মোহলে।কেউ কেউ তো এমনটাও বলছে দিলীপ ঘোষ এ্যন্ড কম্পানি আসলে মমতাদিদির হয়েই খেলতে নেমেছেন তাই মমতা নয় দিলীপবাবুর বেশী শত্রু মুকুল রায়।রাজ্য ক্ষমতা না পাই তো কী হয়েছে মুকুল রায় ও তার অনুগামীদের কিছুতেই বিজেপির অন্দরে ছড়ি ঘোরাতে দেবো না এটাই নাকি দিলীপ ঘোষদের একমাত্র ভাবনা।

সেই জন্যই শোভন সব্যসাচী সহ দলে সবাই শোভাবর্ধন ছাড়া আর কিছু করতে পারছেন না।বিজেপির অন্দরে তাই কেউ কেউ ঠাট্টা করে বলছেন লোকসভার পরে এ রাজ্য থেকে মমতার যখন বিদায় ঘন্টা বেজে গেছিল তখন দিলীপ ঘোষরাই নাকি মমতাকে অভয় দিয়ে বলেছিলেন যেতে নাহি দিব।নিজের নির্বোধ অহঙ্কার আর মাথামোটা মন্তব্য দিয়ে দিলীপবাবুর এই মমতা সেবা বিজেপি যদি বরদাস্ত করতেই থাকে তাহলে তো বুঝতেই হবে পার্দার আড়ালে এক অন্য খেলা চলছে।সেই খেলা রাজ্য বিজেপির সকলে কতদিন মেনে নেন সেটাই এখন দেখার।

Advertisement

একটি মন্তব্য করুন

আপনার ইমেল ঠিকানা প্রকাশ করা হবে না। চিহ্নিত ক্ষেত্রগুলি আবশ্যক *

Home Search Gallery e-Paper
Menu
© 2026 Desher Samay.