মন্ত্রীর সামনে ওঠবস করেও রেহাই নেই! দুর্নীতির অভিযোগে গ্রেপ্তার রেশন ডিলার, ‘ফিঙ্গার প্রিন্ট নিয়ে মাল দিচ্ছে না, সাহসটা পায় কী করে? জেলে ভরেননি কেন?’, হুঁশিয়ারি খাদ্যমন্ত্রীর
deshersamay

মন্ত্রীর সামনে ওঠবস করেও রেহাই নেই! দুর্নীতির অভিযোগে গ্রেপ্তার রেশন ডিলার, ‘ফিঙ্গার প্রিন্ট নিয়ে মাল দিচ্ছে না, সাহসটা পায় কী করে? জেলে ভরেননি কেন?’, হুঁশিয়ারি খাদ্যমন্ত্রীর

মন্ত্রীর দায়িত্ব পাওয়ার পর থেকেই দুরন্ত অ্যাকশন মোডে দেখা যাচ্ছে খাদ্যমন্ত্রী অশোক কীর্তনিয়াকে। রেশন দোকানগুলিতে সারপ্রাইজ ভিজিট দিয়ে তিনি একে একে দুর্নীতি খুঁড়ে বের করছেন। তাঁর অভিযোগের ভিত্তিতে ইতিমধ্যে বেশ কিছু গ্রেপ্তার, মামলা চলছে। এবার গ্রাহকদের সঙ্গে দুর্ব্যবহার ও বেআইনি কার্যকলাপের অভিযোগ পেয়ে হাবড়ার গুমায় এক গুদামে হাজির হলেন মন্ত্রী। তাঁর সামনে কেঁদেকেটে কান ধরে ওঠবস করেও রেহাই পেলেন না রেশন ডিলার। মন্ত্রীর অভিযোগ পেয়ে তাঁকে গ্রেপ্তার করল অশোকনগর থানার পুলিশ।
অভিযুক্তের নাম শ্যামল সাহা। অশোকনগর বিধানসভার গুমা এলাকায় একটি রেশন দোকানের ডিলার। তাঁর বিরুদ্ধে দীর্ঘদিন ধরে নানা অভিযোগ উঠেছিল। সেসব জানতে পেরে সোমবার সকালে আচমকাই তাঁর গুদামে হানা দেন রাজ্যের খাদ্যমন্ত্রী অশোক কীর্তনীয়া। অভিযোগ, রেশন ডিলার শ্যামল সাহা এলাকার বহু উপভোক্তাকে চার, পাঁচদিন এমনকী ছ’মাস ধরেও রেশন দেন না। আটকে রাখেন রেশন কার্ডও।

আচমকা গুমার রেশন ডিলারের গোডাউনে অভিযান চালালেন খাদ্যমন্ত্রী অশোক কীর্তনিয়া। স্থানীয় সূত্রে খবর, এই রেশন ডিলারের বিরুদ্ধে বারবার উঠেছে দুর্নীতির অভিযোগ। সেই সব অভিযোগ খতিয়ে দেখতে দফতরের আধিকারিকদের সঙ্গে নিয়ে আজ আচমকা রেশন ডিলারের গোডাউনে পৌঁছে যান খাদ্যমন্ত্রী। প্রশাসন সূত্রে খবর, এলাকার একটি গোডাউন সিল করে সেখানের চাল, ডাল-সহ খাদ্যশস্য বাজেয়াপ্ত করা হয়েছে।

রেশন ডিলারের গোডাউনে সারপ্রাইজ ভিজিট। গ্রাহকদের অভিযোগ পেয়ে সরেজমিনে পরিস্থিতি দেখে চরম ক্ষুব্ধ হলেন খাদ্যমন্ত্রী অশোক কীর্তনীয়া। রেশন ডিলারের বিরুদ্ধে ওঠা দুর্নীতির অভিযোগ খতিয়ে দেখতে, সোমবার উত্তর ২৪ পরগনার গুমায় রেশন ডিলারের গোডাউনে সটান চলে যান খোদ খাদ্যমন্ত্রী। সঙ্গে ছিলেন কয়েকজন আধিকারিকরাও। ডিলারের বিরুদ্ধে হাতের ছাপ নিয়েও রেশন সামগ্রী না দেওয়ার অভিযোগ তুলেছেন গ্রাহকদের একাংশ।
এলাকাবাসীদের এই সমস্ত অভিযোগ পেয়ে এদিন সোজা গোডাউনে পৌঁছে যান খাদ্যমন্ত্রী অশোক কীর্তনীয়া। ধমক দেন আধিকারিকদেরকেও। ভবিষ্যতে এমন সারপ্রাইজ ভিজিট যে চলবে, তাও স্পষ্ট করে দিয়েছেন খাদ্যমন্ত্রী। ইতিমধ্যেই রেশন ডিলারের একটি গোডাউন সিল করে দেওয়া হয়েছে। বাজেয়াপ্ত করা হয়েছে গম ও চালের বস্তা।
এক রেশন গ্রাহকের অভিযোগ, ‘৪ মাসের মাল পাই। এমাসে আসলাম। তারপর বলছে পরে এসো। খালি মালটা দিল। আমাকে ১ বছর ধরে ঘোরাচ্ছে। আমি চাই ওনার শাস্তি হোক।’ আরেক রেশন গ্রাহকের কথায়, ‘বলত আমাদের যদি ১ তারিখে হয়, সামনের মাসের ১ তারিখে দেবে। ৫-৭ বছর ধরে এরকম করছে।’

এলাকায় গিয়ে ক্ষুব্ধ খাদ্যমন্ত্রী বলেন, ‘আপনি সাসপেন্ড করেননি কেন এনাকে? ফিঙ্গার প্রিন্ট নিয়ে উনি মাল দিচ্ছে না। সাহসটা পায় কী করে? জেলে ভরেননি কেন এনাকে? আর ১৩ হাজার কার্ড দিয়ে রেখেছেন কেন আপনি? ১৩ হাজার কার্ড কেন দিয়ে রেখেছেন আপনি?’ অভিযুক্ত রেশন ডিলারের উদ্দেশে খাদ্যমন্ত্রী এও বলেন, ‘ভুল দেখে লাভ নেই আমার। আমার কথা শুনুন। আপনার বিরুদ্ধে কয়েক হাজার লিখিত কমপ্লেন এসেছে।’
খাদ্যমন্ত্রী আরও বলেছেন, ‘যেটা আমার কাছে অভিযোগ ছিল, হিমশৈলের চূড়ামাত্র। তার থেকেও অনেক বড় কীর্তিকলাপ আছে এখানে। এখনও ভেবে রেখেছে তৃণমূলের জমানা চলছে পশ্চিমবঙ্গে। কোথায় যাব, কোথায় কী করব কাউকে বলে যাব না। সে নিয়ে পুলিশ প্রশাসনও আগের দিন জানতে পারবে না। অন দ্য স্পটে ১০ মিনিট আগে জানতে পারবে আমি যাচ্ছি।’
এদিন মন্ত্রী গুদামঘরে মজুত থাকা খাদ্যসামগ্রী নিজে পরীক্ষা করে দেখেন। অন্যান্য নথিপত্রও খতিয়ে দেখা হয়। এরপরই ডিলার শ্যামল সাহাকে ডেকে রীতিমতো ধমক দেন অশোক কীর্তনিয়া। বলেন, ‘‘মন্ত্রী নই, সাধারণ লোকের মতো আমিও একজন লোক। আমি তো দেখছি আপনার এখানে চারমাসের পুরনো সব জিনিস। আপনি ঠিকমতো রেশন দেন না কেন?” তাতেই কান ধরে মন্ত্রীর সামনে ওঠবস করেন শ্যামল সাহা, ক্ষমাও চান। কিন্তু তাতেও রেহাই মেলেনি। মন্ত্রীর অভিযোগের ভিত্তিতে অশোকনগর থানার পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে গ্রেপ্তার করেন ডিলার শ্যামল সাহাকে। গ্রেপ্তারির পর তাঁর গুদামটি সিল করে দেওয়া হয়।
দেশের সময়

