বিশ্বকাপ ফুটবলে খেলার সুযোগ পেল ভারত!
deshersamay


সালটা ১৯৫০, প্রথমবার ফিফা বিশ্বকাপে খেলার সুযোগ পেয়েছিল ভারতীয় ফুটবল দল । কিন্তু খেলতে পারেননি ভারতীয় ফুটবলাররা। কেন? অনেকেই বলেন, খালি পায়ে ফুটবল খেলার অনুমতি ফিফা না দেওয়ার ফলে বিশ্বকাপে খেলেনি ভারত। তবে, শুধু এটাই আসল কারণ ছিল না, এর পিছনে ছিল গুরুত্বরও বিষয় কারণ ভারত খুব একটা গুরুত্ব দেয়নি বিশ্বকাপকে। ফলে, তারা এই বিষয়ে উদাসীন ছিল এবং দল পাঠায়নি বিশ্বকাপে।

তারপর অপেক্ষা করতে হয়েছিল ২০১৭ সাল অবধি, যখন ভারত খেলেছিল অনুর্ধ্ব-১৭ বিশ্বকাপ। সেই বিশ্বকাপে ভারতের দলে ছিলেন কোমল থাটাল, ধীরাজ সিং, আনোয়ার আলি, প্রভসুখন গিলরা। সেই বিশ্বকাপে খেলতে এসেই কলকাতার মাঠে পা পড়েছিল কিশোর ফিল ফডেন, ফেরান তোরেসদের। আজ দেখুন, তাঁরা বিশ্ব ফুটবলের মঞ্চ মাতাচ্ছেন। আর আমরা? তবে সেই আক্ষেপ মেটানোর সুযোগ হয়ত এল এবার।

আজারবাইজানে আগামী ২২ অক্টোবর শুরু হতে চলেছে অনুর্ধ্ব-১৫ বিশ্বকাপ। সেখানেই খেলার সুযোগ পেয়েছে ভারত। ফিফার কাউন্সিলর ব্যুরো জানিয়েছে, ২২ থেকে ৩১ অক্টোবর পর্যন্ত হবে এই বিশ্বকাপ। এই প্রথমবার অনুর্ধ্ব-১৫ বিশ্বকাপ আয়োজন করছে ফিফা। তাই উদ্বোধনী বছরে ফিফা সবকটি দেশ অর্থাৎ ২১০টি ফিফা সদস্য দেশকে খেলার সুযোগ করে দিয়েছে। সেই সুবাদেই সুযোগ পেয়েছে ভারতও। তবে এখানেই গলদ। ভারতের এই বিভাগের কোনও দল তৈরীই নেই। ফলে, আদৌ ভারত বিশ্বকাপ খেলতে যাবে কি না, সেই প্রশ্নের উত্তর কারও কাছেই নেই।

এমতাবস্থায় এগিয়ে এসেছেন মিনার্ভা অ্যাকাডেমির প্রতিষ্ঠাতা, কোচ ও যুব ফুটবল নিয়ে অন্যতম উৎসাহী ব্যক্তিত্ব রঞ্জিত বাজাজ। দিন কয়েক আগে তাঁর তত্ত্বাবধানেই মিনার্ভা অ্যাকাডেমি হেলসিঙ্কি কাপে চ্যাম্পিয়ন হয়েছিল। তিনি একটি ভিডিও প্রকাশ করে অনুরোধ করেন, যদি তাঁকে বিশ্বকাপের অনুর্ধ্ব-১৫ দলের কোচ করা হয়, তাহলে তিনি একমাসের মধ্যে দলের জন্য উপযুক্ত খেলোয়াড় খুঁজে বার করবেন । ভিডিওতে বাজাজ বলেন, “মিস্টার কল্যাণ চৌবে, আমাকে শুধু একটা সুযোগ দিন। আমার সঙ্গে আপনাদের যা মতপার্থক্য রয়েছে, সব দূরে সরিয়ে রেখে আমাকে একটা সুযোগ দিন। আমি আপনাদের জোর গলায় বলছি, আমি দেশকে ট্রফি জেতাব। যদি না পারি, তাহলে আমাকে কোনওদিন আর কোনও সুযোগ দিতে হবে না। বিশ্বকাপ শুরু হতে এখনও আড়াই মাস বাকি। আমি একমাসের মধ্যে সেরা দল বানাব ও তাদের এই বিশ্বকাপের মঞ্চে খেলার জন্য প্রস্তুত করব।”

চলতি পুরুষদের বিশ্বকাপে ভারত সুযোগ পায়নি। ৩২টির বদলে দল বেড়ে ৪৮টি দল হলেও কপালে শিকে ছেঁড়েনি ভারতের। শোনা যাচ্ছে, আগামী বিশ্বকাপে ৪৮টির বদলে ৬৪টি দেশকে বিশ্বকাপে খেলার সুযোগ দিতে পারে ফিফা। কিন্তু, তবুও কি বিশ্বমঞ্চে নিজেদের প্রমাণ করার সুযোগ পাবে ভারত? যদিও, ২০১৭ সালে ভারতে অনুষ্ঠিত অনুর্ধ্ব ১৭ বিশ্বকাপে খেলেছিল ভারত। তাও, আয়োজক দেশ হিসেবে সুযোগ পেলেও তারপর অপেক্ষা করতে হল আরও ৯ বছর। তবে, যেভাবে রঞ্জিত বাজাজ বারবার সাফল্যের একটা স্বপ্ন দেখাচ্ছেন, তাতে যদি তাঁর কথা শোনে এআইএফএফ, তাহলে রঞ্জিতের পাশাপাশি কোনও একদিন বিশ্বকাপের মূল স্রোতের জল গায়ে লাগানোর সুযোগ তো ভারতীয়রাও পাবে। হোক না বয়সভিত্তিক, বিশ্বকাপ তো!

