এবার কলকাতার ইসকনের রথে টান দেবেন মুখ্যমন্ত্রী, রথ যাবে ময়দানে, প্রস্তুতি তুঙ্গে
deshersamay


অতীতে মুখ্যমন্ত্রী থাকাকালীন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় প্রতি বছরই ইসকনের রথযাত্রার শুভ সূচনা করতেন এবং প্রথম রশিতে টান দিতেন। কিন্তু বাংলায় রাজনৈতিক ক্ষমতা বদলের পর এবার প্রতিষ্ঠিত হয়েছে নতুন সরকার। প্রথা মেনে এবারও রাজ্য প্রশাসনের প্রধান হিসেবেই রথযাত্রায় উপস্থিত থাকছেন মুখ্যমন্ত্রী। শুধু নামটা শুভেন্দু অধিকারী ।

আগামী ১৬ জুলাই, বৃহস্পতিবার উদযাপিত হতে চলেছে এই রথযাত্রা। ইসকন সূত্রে খবর, সেদিন বেলা ১১টা ৪৫ মিনিট নাগাদ সভাস্থলে উপস্থিত হবেন মুখ্যমন্ত্রী। সেখানে একাধিক দেববিগ্রহ দর্শন, বিশেষ আরতি ও শাস্ত্রীয় আচার-অনুষ্ঠান সম্পন্ন করার পর তাঁর হাত ধরেই টান পড়বে রথের রশিতে, গড়াবে জগন্নাথ দেবের চাকা।

বরাবরের মতোই দক্ষিণ কলকাতা থেকে যাত্রা শুরু করবে ইসকনের এই বর্ণাঢ্য ও সুবিশাল শোভাযাত্রা। কলকাতার দীর্ঘ পথ অতিক্রম করে বলরাম, সুভদ্রা এবং প্রভু জগন্নাথ দেবের রথ এসে থামবে কলকাতার ব্রিগেড প্যারেড গ্রাউন্ড বা ময়দান চত্বরে। সেখানেই দীর্ঘদিনের ঐতিহ্য মেনে তৈরি করা হয়েছে জগন্নাথ দেবের অস্থায়ী ‘মাসির বাড়ি’। সোজা রথ থেকে উল্টো রথ পর্যন্ত দেবতারা সেখানেই অবস্থান করবেন এবং ভক্তদের দর্শন দেবেন।

এই রথযাত্রা উপলক্ষে কলকাতার ইসকন মন্দিরে এক উচ্চপর্যায়ের সাংবাদিক বৈঠকের আয়োজন করা হয়েছিল। সেখানে উপস্থিত ছিলেন কলকাতা ইসকনের অধ্যক্ষ দয়ারাম দাস, সহ-অধ্যক্ষ বল্লভ চৈতন্য দাস, রথযাত্রা কমিটির চেয়ারম্যান অনঙ্গ মোহন দাস এবং সচিব অনন্ত ভগবান দাস।

সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে তাঁরা জানান, কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহকে এই উৎসবে শামিল হওয়ার জন্য আমন্ত্রণ জানানোর কথা ভাবা হচ্ছে। ইসকন নেতৃত্বের কথায়, “আমরা জানতে পেরেছি যে রথযাত্রা উৎসবের মধ্যবর্তী সময়ে কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী কলকাতায় অবস্থান করতে পারেন। তাই তাঁকে এই পুণ্য উৎসবে সশরীরে উপস্থিত থাকার জন্য একটি আনুষ্ঠানিক আমন্ত্রণপত্র পাঠানোর চিন্তাভাবনা করা হচ্ছে।”

গত বছর সোজা রথ থেকে উল্টো রথ পর্যন্ত প্রায় ৩০ লক্ষ ভক্তের মহাসমাগম হয়েছিল কলকাতায়। এবার সেই রেকর্ডও ভেঙে যাবে বলে আশা করছেন উদ্যোক্তারা। কলকাতার রথযাত্রায় অংশ নিতে এবার ভারত ছাড়াও চিন, ইউক্রেন, রাশিয়া, আমেরিকা ও অস্ট্রেলিয়ার মতো একাধিক দেশ থেকে বহু বিদেশি ভক্ত কলকাতায় আসছেন। ফলে কড়া নিরাপত্তা বলয় ও নিখুঁত ব্যবস্থাপনায় উৎসবকে সর্বাঙ্গীণ সুন্দর করে তুলতে এখন থেকেই কোমর বেঁধে নামছে পুলিশ প্রশাসন ও ইসকন কমিটি।
