

‘আমার ভাইয়ের রক্তে রাঙানো একুশে ফেব্রুয়ারি, আমি কি ভুলিতে পারি…’।
শনিবার আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস উদযাপিত হচ্ছে গোটা বিশ্বে। দিনটিকে স্মরণে রেখে দিল্লিতে কর্মরত বিভিন্ন দেশের রাষ্ট্রদূতেরা ইংরেজি অনুবাদ সহ নিজের দেশের ভাষায় শুভেচ্ছা বার্তা পোস্ট করেছেন এক্স হ্যান্ডেলে।

অন্যদিকে শুক্রবার বাংলাদেশে ঘড়ির কাঁটা রাত ঠিক ১২টা বেজে এক মিনিটে পৌঁছতেই লাউড স্পিকারের বেজে উঠল গানটি সেই সময় ধীর পায়ে ও নতমস্তকে এগিয়ে শহিদ মিনারের বেদিতে ফুলের স্তবক দিয়ে শ্রদ্ধা জানান রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবউদ্দিন ও প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান । একে একে মন্ত্রী–পরিষদের সদস্যরা, ঢাকায় কর্মরত বিদেশি কুটনীতিক, সেনাপ্রধানের নেতৃত্বে অপর দুই বাহিনীর প্রধান, রাজনীতিবিদ ও শিক্ষাবিদ-সহ বিভিন্ন পেশার মানূষ তাদের শ্রদ্ধার্ঘ্য অর্পণ করেন।
শুক্রবার রাত ৮টার পরেই সরকারি কর্তারা দলে-দলে হাজির হয়েছিলেন শহিদ মিনারের অদূরে জিমনাশিয়াম গ্রাউন্ডে।

ঢাকায় একুশে ফেব্রুয়ারি ভাষা আন্দোলনে কেন্দ্রীয় শহিদ মিনার ঘিরে গত বারের চেয়ে কিছুটা উদ্দীপনা ফিরলেও আগের আবহ অনুপস্থিত। একুশের প্রথম প্রহর ঘিরে গোটা দেশে যে আবেগ তৈরি হয়, তাতেও যেন ঘাটতি ছিল এ বার। তবে আগের মতো এ বারও একুশে ফেব্রুয়ারি ঢাকার কেন্দ্রীয় শহীদ মিনার প্রাঙ্গণে আঁকা হয়েছে ন’টি আলপনা।
https://www.facebook.com/share/1AuXwAvKkD/
একুশের চেতনা যে বাঙালি সংস্কৃতি ও চেতনার ভিত্তিমূল, জাগরণের জিয়নকাঠি— তা এ বারের ভোটের ফলাফলে আবারও উঠে এসেছে। একুশে হচ্ছে বাংলাভাষীদের অহঙ্কার, শুদ্ধ চেতনার বিস্ফোরণ, তা মনে রেখেই বিএনপি সরকার ইউনূস জমানার চিন্তা সরিয়ে দিয়েছে। গত বছর ইউনূস ও তাঁর অনুগতরা ভাষা আন্দোলনে শহিদ মিনারের আলপনায় ‘জুলাই অভ্যুত্থানের’ চিত্রগাথা আঁকতে বাধ্য করেছিলেন। তা-ও তাদের বলে দেওয়া তিন রং— সাদা, কালো এবং লাল ব্যবহার করেই। মাতৃভাষার দাবিতে হওয়া আন্দোলনের সঙ্গে কোনও যোগ না থাকলেও ‘জুলাই অভ্যুত্থান’-এর গ্রাফিতি আঁকতে বাধ্য করা হয়েছিল ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের।

এ বার, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের চত্বরে অবস্থিত কেন্দ্রীয় শহিদ মিনারের সংযোগকারী প্রতিটি সড়কে গত কয়েক রাত ধরে আলপনা এঁকেছেন কমপক্ষে ৫০০ শিক্ষার্থী। সেই আলপনাতেও রঙ নিয়ে নিষেধাজ্ঞা ঘুচিয়ে ফেলা হয়েছে।
তবে সরকারি ভাবে আওয়ামি লিগের কার্যক্রমের উপর নিষেধাজ্ঞা বলবৎ থাকায় ওই দলের কর্মীরা শহিদ মিনারের আশেপাশেও আসতে পারেননি। তবে, এই প্রথম কেন্দ্রীয় শহিদ মিনারে শ্রদ্ধা জানিয়েছে জামায়াতে ইসলামি। দলের আমির শফিকুর রহমান মধ্যরাতে শহিদ মিনারে শ্রদ্ধা জানান। বাহান্নর ভাষা আন্দোলনে জামায়াত প্রধান গোলাম আজমও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রনেতা হিসাবে অংশ নিয়েছিলেন। তবে পরে ১৯৭০-এ এই কাজের জন্য ভুল স্বীকার করেছিলেন।

বিদেশে অবস্থিত বাংলাদেশের দূতাবাসগুলিতেও মর্যাদার সঙ্গে ভাষা দিবস পালিত হচ্ছে। দিল্লিতে অবস্থিত প্রায় ৬০টি দেশের রাষ্ট্রদূতেরা শুক্রবার ইংরেজি অনুবাদ সহ তাদের মাতৃভাষায় আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবসের শুভেচ্ছা বিনিময় করেছেন। এক্স হ্যান্ডেলে তাদের পোস্টগুলি ট্যাগ করেন দিল্লিতে দায়িত্বপ্রাপ্ত বাংলাদেশের হাইকমিশনার রিয়াজ হামিদুল্লাহকে। কয়েকজন রাষ্ট্রদূত তার দেশের কবিতা, গল্প উপন্যাসের উল্লেখযোগ্য লাইন শৈল্পিক অক্ষরে এবং গান পোস্ট করেছেন এক্স হ্যান্ডেলে। জানা গিয়েছে দিল্লির বাংলাদেশের হাইকমিশনারের প্রস্তাবের প্রেক্ষিতে এটি ছিল রাষ্ট্রদূতদের সম্মিলিত সিদ্ধান্ত, যা প্রশংসিত হচ্ছে।
বাংলাদেশের হাইকমিশনার রিয়াজ হামিদুল্লাহ তাঁর পোস্টে বলেছেন বহুভাষাবাদকে একটি চ্যালেঞ্জ হিসাবে দেখা যায় না। দেশজুড়ে ভাষাগত বৈচিত্র্যকে শক্তি এবং সুযোগ হিসাবে উদযাপন করা উচিত।এই দিনটি, দয়া করে আপনার নিজের মাতৃভাষায় কথা বলুন। যেমন আমি করি…ম মানে মা, মাতৃভাষা, মাতৃভূমি।




