

দীর্ঘ প্রতীক্ষা আর জল্পনার অবসান ঘটিয়ে অবশেষে ঘোষণা হয়েছে বাংলার পরবর্তী মুখ্যমন্ত্রীর নাম। শুক্রবার বিকেলে নিউটাউনের বিশ্ব বাংলা কনভেনশন সেন্টারে কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহের উপস্থিতিতে বিজেপির পরিষদীয় দলের বৈঠক বসে। সেই বৈঠকেই সর্বসম্মতিতে নেতা নির্বাচিত করা হয় নন্দীগ্রাম ও ভবানীপুরের জয়ী বিধায়ক। শনিবার ব্রিগেডের ঐতিহাসিক ময়দানে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর উপস্থিতিতে বাংলার প্রথম বিজেপি মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে শপথ নেবেন তিনি।

পরিষদীয় দলনেতা এবং নতুন সরকারের মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে শুক্রবার নির্বাচিত হওয়ার পরেই বিশেষ বার্তা দিলেন শুভেন্দু অধিকারী। দলে গণতান্ত্রিক পদ্ধতিতে মুখ্যমন্ত্রী বেছে নেওয়ার প্রক্রিয়ায় প্রশংসা করেন শুভেন্দু অধিকারী। বিজেপি সরকারে আমিত্ব থাকবে না বলে স্পষ্ট বুঝিয়ে দিলেন শুভেন্দু অধিকারী। তিনি বলেন, ‘আমি নয়, আমরা…নীতিতে ভারতীয় জনতা পার্টির সরকার কাজ করবে।’
দলের দীর্ঘ লড়াইয়ের কথা স্মরণ করে তিনি দলীয় নেতা ও কর্মীদের আশ্বাস দিয়ে বলেন, “এত বছর ধরে যা যা স্বপ্ন আপনারা দেখেছিলেন, এই বিজেপি সরকার তার সব কটি পূরণ করবে। নরেন্দ্র মোদী ও অমিত শাহের নেতৃত্বে বাংলার উন্নয়নের চাকাকে আমরা দ্রুত গতিতে ছোটাব।”

তাঁর আশ্বাস, বাংলার মানুষের স্বপ্নপূরণ করার কাজ করবে বিজেপি। প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী যা যা গ্যারান্টি দিয়েছেন, সব পূরণ করার কাজ করবে বিজেপি সরকার, আশ্বাস ভাবী মুখ্যমন্ত্রীর। ভোটের আগে চার্জশিট প্রকাশ করেছিল বিজেপি। তৃণমূল আমলে কী কী দুর্নীতি হয়েছে, তা নিয়ে ওই চার্জশিট প্রকাশ করেছিল বিজেপি। এ দিন শুভেন্দু অধিকারী বলেন, ‘মহিলাদের উপর যা যা অত্যাচারের ঘটনা ঘটেছে, সব ঘটনার তদন্তের জন্য কমিশন বসবে। যত দুর্নীতি হয়েছে তার তদন্তের জন্য অবসরপ্রাপ্ত বিচারপতিকে দিয়ে কমিশন বসানো হবে। দোষীদের শাস্তি দেওয়া হবে।’

নির্বাচনের আগে যে সংঙ্কল্প পত্র এনেছিল বিজেপি, সেটা সময়ে সময়ে পূরণ করা হবে বলেও জানিয়েছেন শুভেন্দু অধিকারী। আগামী নির্বাচনের লক্ষ্যও বেঁধে দিয়েছেন তিনি। শুভেন্দু অধিকারী বলেন, ‘ইতিবাচক কাজ করে, সঙ্কল্প পত্র কার্যকর করে আগামী নির্বাচনে ৬০ শতাংশের বেশি মানুষকে পাশে আনব।’ পশ্চিমবঙ্গকে নতুন করে নির্মাণের ডাক দিয়েছেন তিনি। কেন্দ্র ও রাজ্য একসঙ্গে কাজ করে বাংলার মানুষের প্রত্যাশা পূরণের কাজ করবে বলে আশ্বাস দিয়েছেন শুভেন্দু অধিকারী।
বাংলার রাজনৈতিক পালাবদলের এই ঐতিহাসিক মুহূর্তে দাঁড়িয়ে শুভেন্দু অধিকারী ভুললেন না দলের আত্মবলিদান দেওয়া কর্মীদের কথা। তিনি তৃণমূল জমানায় ‘শহিদ’ হওয়া ৩২১ জন বিজেপি কর্মীকে স্মরণ করেন এবং তাঁদের প্রতি শ্রদ্ধা জানান। কর্মীদের উদ্দেশে তিনি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করে বলেন, “আপনাদের দিন-রাতের পরিশ্রমেই আজ এই জনসমর্থন মিলেছে।” সেই সঙ্গে তাঁর সাফ কথা, “আমাদের সরকার হবে কথা কম, কাজ বেশির সরকার। পশ্চিমবঙ্গের মানুষের স্বপ্নপূরণে আমরা নিরলসভাবে কাজ করে যাব।”

কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীকে ‘আধুনিক ভারতের চাণক্য’ বলে সম্বোধন করে কৃতজ্ঞতা জানান বাংলার নতুন মুখ্যমন্ত্রী। সাধারণ মানুষের উদ্দেশে তাঁর অভয়বাণী, “রাজ্যে এখন থেকে ভয় আউট, ভরসা ইন।” তিনি স্পষ্ট করে দেন যে, বিজেপির নির্বাচনী ইস্তাহারে দেওয়া প্রতিটি প্রতিশ্রুতি পূরণ করাই হবে তাঁর প্রথম ও প্রধান অগ্রাধিকার। বিশেষ করে মহিলাদের সুরক্ষা ও উন্নয়ন নিয়ে বিজেপি যে রূপরেখা দিয়েছিল, সরকার গঠনের প্রথম দিন থেকেই তা কার্যকর করার ইঙ্গিত দিয়েছেন তিনি।

রাজনৈতিক মহলের মতে, একদিকে বিরোধী তৃণমূল শিবিরের অন্দরে বিদ্রোহের আগুন আর অন্যদিকে বিজেপির এই নিঁখুত সাজানো ঘর – দুই মিলিয়ে শনিবারের ব্রিগেড এক নতুন ইতিহাসের সাক্ষী হতে চলেছে। প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী আগামিকাল সকালেই তিলোত্তমায় পা রাখছেন। সেই মাহেন্দ্রক্ষণের আগে শুভেন্দুর এই ‘ভয় আউট, ভরসা ইন’ স্লোগান সাধারণ মানুষের মনে বড় প্রভাব ফেলে দিয়েছে।

এ দিন বক্তব্যের মাঝেই নরেন্দ্র মোদীকে সম্মান জানাতে সব বিধায়কদের উঠে দাঁড়িয়ে টানা ১ মিনিট হাততালি দিতে বলেন শুভেন্দু অধিকারী।



