Desher Samay
প্রচ্ছদকলকাতাজেলাপশ্চিমবঙ্গউত্তরবঙ্গদেশবাংলাদেশআন্তর্জাতিকই-পেপারফটো গ্যালারিসম্পাদকের পছন্দসরাসরিইউটিউব

শুভেন্দুর সহকারী খুনের ষড়যন্ত্রের এপিসেন্টার বারাসতের ১১ নম্বর রেলগেট ? লাইভ আপডেট চলত হোয়াটসঅ্যাপে!

deshersamay

Share article:

শুভেন্দু অধিকারীর  আপ্ত সহায়ক চন্দ্রনাথ রথ খুনের তদন্তে যত সময় এগোচ্ছে, ততই পরতে পরতে উঠে আসছে চাঞ্চল্যকর সব তথ্য। তদন্তকারীদের প্রাথমিক অনুমান, এই অপারেশন কোনও আনাড়ি হাতের কাজ নয়, বরং এর নেপথ্যে ছিল অন্তত ৭-৮ জন দুষ্কৃতীর এক সুপরিকল্পিত চক্র। নিখুঁত নিশানার জন্য ২ জন শার্প শ্যুটার এবং গতিবিধিতে নজর রাখার জন্য অন্তত ১ জন ‘টিপার’ বা চর নিয়োগ করা হয়েছিল বলেই মনে করছে পুলিশ ।

বারাসতের ১১ নম্বর রেলগেট: ষড়যন্ত্রের এপিসেন্টার?
তদন্তের অভিমুখ এখন বারাসতের ১১ নম্বর রেলগেট এলাকা। পুলিশ জানতে পেরেছে, যে নিসান মাইক্রা গাড়িটি দিয়ে পথ আটকানো হয়েছিল, সেটি খুনের আগের গোটা দিন এই রেলগেটের কাছেই দাঁড়িয়ে ছিল। শুধু গাড়ি নয়, এবার ওই এলাকা থেকেই উদ্ধার হয়েছে খুনে ব্যবহৃত দ্বিতীয় বাইকটি। উল্লেখ্য, প্রথম বাইকটি মিলেছিল এয়ারপোর্টের আড়াই নম্বর গেটের কাছ থেকে। গোয়েন্দাদের ধারণা, বারাসাতের এই এলাকাটিকেই অস্থায়ী ডেরা হিসেবে ব্যবহার করে খুনের চূড়ান্ত নীল নকশা তৈরি করেছিল আততায়ীরা।

ডিজিটাল ক্লু: খুনের আগে হোয়াটসঅ্যাপ গ্রুপ
তদন্তে উঠে এসেছে এক আধুনিক অপরাধচক্রের হদিশ। পুলিশ সূত্রে খবর, হামলার আগে নিজেদের মধ্যে সমন্বয় রাখতে একটি হোয়াটসঅ্যাপ গ্রুপ তৈরি করেছিল দুষ্কৃতীরা। চন্দ্রনাথ রথের গতিবিধি থেকে শুরু করে তাঁর গাড়ির অবস্থান— প্রতি মুহূর্তের আপডেট আদান-প্রদান করা হত সেখানে। এই ডিজিটাল পদচিহ্ন বা ‘ফুডপ্রিন্ট’ অনুসরণ করেই এখন মূল পাণ্ডাদের নাগাল পেতে চাইছে লালবাজার বা সিআইডি-র তদন্তকারীরা।

লাল গাড়ির রহস্য ও উত্তরপ্রদেশ যোগ
সিসিটিভি ফুটেজে একটি রহস্যময় লাল গাড়ির উপস্থিতি নতুন ধোঁয়াশা তৈরি করেছে। গোয়েন্দাদের সন্দেহ, হামলার পর দুষ্কৃতীদের একটি অংশ ওই গাড়িতে চেপেই গা-ঢাকা দেয়। গাড়ির মালিকানা ও গতিবিধি খতিয়ে দেখা হচ্ছে।

অন্যদিকে, খুনে ব্যবহৃত মাইক্রা গাড়িটির সূত্র ধরে পুলিশের একটি বিশেষ দল পৌঁছে গিয়েছে উত্তরপ্রদেশে। জানা গিয়েছে, গাড়িটি বিক্রির জন্য আগে একটি বিজ্ঞাপন দেওয়া হয়েছিল। সেই বিজ্ঞাপন দেখে উত্তরপ্রদেশ থেকে কারা যোগাযোগ করেছিল এবং তাদের সঙ্গে এই খুনের কোনও যোগসূত্র রয়েছে কি না, তা খতিয়ে দেখতেই এই ভিনরাজ্য সফর।

পেশাদারি ঘাতক বাহিনী
তদন্তকারীদের দাবি, গোটা অপারেশনটি চালানো হয়েছে অত্যন্ত ‘প্রফেশনাল’ কায়দায়। রাস্তা আটকে নির্দিষ্ট লক্ষ্যে গুলি চালানো এবং নিমেষের মধ্যে চম্পট দেওয়া, প্রশিক্ষিত অপরাধী ছাড়া সম্ভব নয়। এই মুহূর্তে পুলিশ শুধু শ্যুটারদের খোঁজে নয়, বরং এই খুনের পেছনে থাকা গোটা নেপথ্য নেটওয়ার্ক এবং মূল ষড়যন্ত্রকারীকে চিহ্নিত করতে কোমর বেঁধে নেমেছে। খুনের মোটিভ এবং মাস্টারমাইন্ড কে, তা নিয়ে বারাসাত থেকে উত্তরপ্রদেশ, সর্বত্রই এখন জাল বিছিয়েছে পুলিশ।

Tags: News

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Home Search Gallery e-Paper
Menu
© 2026 Desher Samay.