

রাজ্য জুড়ে চলছে SIR-এর কাজ। বিভিন্ন এলাকা থেকে অশান্তি, ভাঙচুরের অভিযোগ উঠছে। এই পরিস্থিতিতে আইনশৃঙ্খলা নিয়ে কোনও ঝুঁকি নিতে চাইছে না কেন্দ্রীয় সরকার। তাই ভোটের দিনক্ষণ ঘোষণার আগেই কেন্দ্রীয় বাহিনী মোতায়েনের সিদ্ধান্ত নিল স্বরাষ্ট্র মন্ত্রক । শনিবার একটি নির্দেশিকা জারি করে অমিত শাহের মন্ত্রক জানিয়েছে, মার্চেই পশ্চিমবঙ্গে মোতায়েন করা হবে ৪৮০ কোম্পানি কেন্দ্রীয় বাহিনী।নয়াদিল্লি থেকে এই সংক্রান্ত চিঠি পাঠানো হয়েছে রাজ্যের মুখ্যসচিব, স্বরাষ্ট্রসচিব এবং রাজ্য পুলিশের ডিজিকে।

চিঠিতে জানানো হয়েছে, ভোট সংক্রান্ত যাবতীয় দায়িত্ব যেমন – এলাকাভিত্তিক টহল, আস্থা গড়ে তোলা, ইলেকট্রনিক ভোটযন্ত্রের পাহারা, শক্ত ঘাঁটি পাহারা এবং গণনাকেন্দ্রের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতেই এই মোতায়েন।
বাহিনী পাঠানোর সূচিও নির্দিষ্ট করে দেওয়া হয়েছে। ১ মার্চ প্রথম দফায় ২৪০ কোম্পানি পৌঁছবে। এর মধ্যে কেন্দ্রীয় রিজার্ভ পুলিশ বাহিনীর (CRPF) ১১০, সীমান্ত নিরাপত্তা বাহিনীর (BSF) ৫৫, সিআইএসএফ ২১, তিব্বত সীমান্ত পুলিশ বাহিনীর (ITBP) ২৭ এবং সশস্ত্র সীমা বলের (SSB) ২৭ কোম্পানি থাকবে।
দ্বিতীয় দফায় ১০ মার্চ আরও ২৪০ কোম্পানি আসবে। সেখানে কেন্দ্রীয় রিজার্ভ পুলিশ বাহিনীর (CRPF) ১২০, সীমান্ত নিরাপত্তা বাহিনীর (BSF) ৬৫, সিআইএসএফ ১৬, তিব্বত সীমান্ত পুলিশ বাহিনীর (ITBP) ২০ এবং সশস্ত্র সীমা বলের (SSB) ১৯ কোম্পানি মোতায়েন করা হবে। সব মিলিয়ে মোট ৪৮০ কোম্পানি বাহিনী রাজ্যে দায়িত্ব নেবে।

চিঠিতে আরও বলা হয়েছে, নির্বাচন পর্ব শেষ হলে ধাপে ধাপে এই বাহিনী প্রত্যাহার করা হবে। তবে তার সময়সূচি পরে জানানো হবে।

রাজ্য সরকারকে (State Govt) বিস্তারিত মোতায়েন পরিকল্পনা তৈরির নির্দেশও দেওয়া হয়েছে। সংশ্লিষ্ট বাহিনীর প্রধানদের সঙ্গে সমন্বয় রেখে কোথায় কত বাহিনী থাকবে, কীভাবে চলাচল করবে, তার রূপরেখা স্থির করতে বলা হয়েছে। প্রতিটি কোম্পানিতে আটটি বিভাগ থাকবে। তার মধ্যে ছয়টি ভোটকেন্দ্র ও সংশ্লিষ্ট দায়িত্বে নিয়োজিত থাকবে। বাকি একটি বিভাগ দ্রুত প্রতিক্রিয়া দল হিসেবে এবং অন্যটি তদারকির কাজে ব্যবহৃত হবে বলে নির্দেশে উল্লেখ রয়েছে।

এই নির্দেশ ঘিরে রাজনৈতিক মহলে জোর চর্চা শুরু হয়েছে। ভোটের আগে এত বিপুল কেন্দ্রীয় বাহিনী মোতায়েন রাজ্যের নির্বাচনী আবহে নতুন মাত্রা যোগ করল বলেই মনে করছেন অনেকে।

তাৎপর্যপূর্ণভাবে, ২৮ ফেব্রুয়ারি এসআইআরের চূড়ান্ত ভোটার তালিকা প্রকাশ হবে। ঘটনাচক্রে তার পর দিন থেকেই কেন্দ্রীয় বাহিনী মোতায়েন শুরু হয়ে যাচ্ছে। গত বিধানসভা ভোটে হাজার কোম্পানির বেশি কেন্দ্রীয় বাহিনী মোতায়েন করা হয়েছিল। কিন্তু এবার সেই সংখ্যাটা আদতে কত হবে তা এখনই পরিষ্কার নয়। কারণ ২০২১ সালে ভোট হয়েছিল ৮ দফায়। এবার জল্পনা, অনেক কম দফায় ভোট হতে পারে বাংলায়। এক্ষেত্রে বাহিনীর সংখ্যাও কমতে পারে। তবে আপাতত ভোটের দিনক্ষণ ঘোষণারও আগে রাজ্যে কেন্দ্রীয় বাহিনী মোতায়েনের বিষয়টি নিয়ে জোর আলোচনা শুরু হয়েছে।




