আমার আনুষ্ঠানিক বা বলা ভাল প্রথাগত শিক্ষা, পুরোটাই এক বিদেশি মাধ্যমে হওয়ায়, আমার মাতৃভাষা “বাংলা” র নোঙ্গরকে ধরার এক আলাদা প্রচেষ্টা ছিল। ওই প্রচেষ্টা র কান্ডারি ছিলেন আমার “মা”। প্রথাগত শিক্ষা ও পড়াশোনার গতানুগতিক তালের সাথে সাথেই, আমার মধ্যে “আমার মাতৃভাষার” প্রাসঙ্গিকতা ও তার অনন্য সুষম, স্বাভাবিক, স্থির বা বাঁধাধরা ঐতিহ্যের ধারার সাত্বিক, সার্বিক প্রয়োজনীয়তার বীজ বপন করার গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকার গুরু দায়িত্ব, কোমল অথচ দৃঢ় ভাবে পালনের কাজটি, আমার জননী দেবীর। তাঁর এই ইচ্ছাই আজকের ‘আমি’ র অন্তরে বাংলাকে ভালবাসতে শিখিয়েছে, মনের মধ্যে, বাংলার বিশাল সংস্কৃতির রত্নভান্ডারে প্রয়োজন-অপ্রয়োজনে ডুব দেওয়ার ক্ষিদে জাগিয়েছে। বুঝতে শিখিয়েছে, বাংলাই আমার আবেগ, অনুভূতি, ভালোবাসা, হাসি, কান্না, ব্যাথা, আনন্দ, আমার উচ্ছাস, বাংলাই আমার “মা”।
আজ ভাষা দিবসের পুণ্য তিথির কূলে বসে, এক দীনহীন বাঙ্গালীর “বাংলা ভাষার” নৈবেদ্য অর্পণ।



