Desher Samay
প্রচ্ছদলেটেস্ট নিউজদেশপশ্চিমবঙ্গকলকাতাউত্তরবঙ্গজেলাব্যবসাবিনোদনখেলাআন্তর্জাতিকবাংলাদেশফটো গ্যালারিভ্রমণকাহিনীসম্পাদকের পছন্দসরাসরিইউটিউবই-পেপার
Breaking News

অভিষেকের কালীঘাট ও হরিশ মুখার্জি রোডের বাড়ির প্ল্যান জমা দিতে হবে, তৃণমূল সাংসদকে নোটিস দিল কলকাতা পুরসভা

deshersamay

Share article:

তৃণমূল সাংসদ অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়কে নোটিস দিল কলকাতা পুরসভা। কালীঘাট রোড এবং হরিশ মুখার্জি রোডে সাংসদের যে দুটি বাড়ি রয়েছে, তার বিল্ডিং প্ল্যান জমা দিতে বলা হয়েছে পুরসভাকে। ৪০১ ধারা মেনে এই নোটিস দেওয়া হয়েছে অভিষেককে।

ভোট প্রচারে নিজের মন্তব্যের মাধ্যমে হিংসা ছড়িয়েছেন অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়, উস্কানি দিয়েছেন – এই মর্মে বিধাননগর সাইবার ক্রাইম থানায় আগেই এফআইআর দায়ের হয়েছিল তৃণমূল সাংসদের নামে। আজ এই এফআইআর- এর খারিজের আবেদন নিয়ে কলকাতা হাই কোর্টের দ্বারস্থ হন অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় এবং মাননীয় বিচারপতি সৌগত ভট্টচার্যের দৃষ্টি আকর্ষণ করেন তিনি। আগামী ২১ মে এই মামলার শুনানি হওয়ার কথা শোনা গিয়েছে। এই একই দিনে কলকাতা পুরসভার তরফে নোটিস পাঠানো হয়েছে অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়কে। 

পুরসভা সূত্রে খবর, কলকাতা পুরসভার সুনির্দিষ্ট ৪০১ নম্বর ধারায় অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়কে এই নোটিস পাঠানো হয়েছে। পুর কর্তৃপক্ষের নির্দেশ, অবিলম্বে তাঁর কালীঘাট রোড এবং হরিশ মুখার্জি রোডের ওই দুটি বাড়ির অনুমোদিত ‘বিল্ডিং প্ল্যান’ পুরভবনে জমা দিতে হবে

এই নোটিসের হাত ধরে মূলত অভিষেকের ওই দুই বাসভবনের নির্মাণ নিয়ে একাধিক অস্বস্তিকর প্রশ্ন তুলেছে পুরসভা। বিল্ডিং প্ল্যান চেয়ে পাঠানোর পাশাপাশি জানতে চাওয়া হয়েছে, কর্পোরেশনের যাবতীয় পুর-আইন ও বিল্ডিং বিধি পুঙ্খানুপুঙ্খ মেনে কি এই বাড়ি দুটি তৈরি করা হয়েছে? যদি মূল নকশার বাইরে গিয়ে কোনও বাড়তি বা অতিরিক্ত নির্মাণ করা হয়ে থাকে, তবে তার জন্য পুরসভার উপযুক্ত দফতর থেকে আগাম কোনও লিখিত অনুমতি বা ছাড়পত্র নেওয়া হয়েছিল কি না— তাও স্পষ্ট করতে বলা হয়েছে এই নোটিসে। পুরসভার এই আচমকা পদক্ষেপে স্বভাবতই জোর শোরগোল শুরু হয়েছে কলকাতার রাজনৈতিক অলিন্দে।


পুরসভার এই নোটিস আছড়ে পড়ার দিনটিতেই অবশ্য অন্য এক আইনি লড়াইয়ে ব্যস্ত ছিলেন ডায়মন্ড হারবারের তৃণমূল সাংসদ। লোকসভা নির্বাচনের ভোট প্রচারের সময় নিজের ঝাঁঝালো মন্তব্যের মাধ্যমে ভোটারদের মধ্যে হিংসা ছড়িয়েছেন এবং উস্কানি দিয়েছেন— এই মারাত্মক অভিযোগে বিধাননগর সাইবার ক্রাইম থানায় আগেই একটি এফআইআর (FIR) দায়ের হয়েছিল অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের নামে।

সোমবার সেই এফআইআর খারিজের আর্জি জানিয়ে সরাসরি কলকাতা হাইকোর্টের দ্বারস্থ হন অভিষেক। সেখানে মাননীয় বিচারপতি সৌগত ভট্টাচার্যের দৃষ্টি আকর্ষণ করে মামলা দায়েরের অনুমতি চান তিনি। আদালত সূত্রে জানা গিয়েছে, বিচারপতি এই মামলাটি গ্রহণ করেছেন এবং আগামী ২১ মে, বৃহস্পতিবার এই হাই-প্রোফাইল মামলার পরবর্তী শুনানি হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। তাৎপর্যপূর্ণ বিষয় হলো, যে দিন হাইকোর্টে এই স্বস্তির আবেদন জানালেন অভিষেক, ঠিক সেই দিনেই পুরসভার এই নোটিস তাঁর চাপ আরও বাড়িয়ে দিল।

অভিষেকের ওপর যখন একদিকে পুলিশি মামলা আর অন্যদিকে পুরসভার নোটিসের সাঁড়াশি চাপ তৈরি হয়েছে, ঠিক তখনই আগুনে ঘি ঢাললেন রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। সোমবার ক্যামাক স্ট্রিটে আয়োজিত একটি বিশেষ ধন্যবাদ জ্ঞাপন অনুষ্ঠানে যোগ দিয়েছিলেন মুখ্যমন্ত্রী। সেখান থেকেই সরাসরি অভিষেকের আর্থিক সাম্রাজ্যকে নিশানা করেন তিনি।

মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী প্রকাশ্য মঞ্চ থেকে তোপ দেগে দাবি করেন, অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের নামে-বেনামে অন্তত ২৪টি বিপুল সম্পত্তির হদিশ মিলেছে। মুখ্যমন্ত্রীর মুখে এই ২৪টি সম্পত্তির খতিয়ান উঠে আসায় রাজ্য রাজনীতিতে শোরগোল পড়ে গিয়েছে।

পর্যবেক্ষকদের মতে, একই দিনে কলকাতা পুরসভার বিল্ডিং নোটিস, বিধাননগর সাইবার ক্রাইম থানার মামলার জল হাইকোর্টে গড়ানো এবং খোদ মুখ্যমন্ত্রীর মুখে ২৪টি সম্পত্তির চাঞ্চল্যকর দাবি— সব মিলিয়ে অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের ওপর আইনি ও রাজনৈতিক চাপ যে বেনজিরভাবে বৃদ্ধি পেল, তা বলাই বাহুল্য। এখন দেখার, ২১ মে-র শুনানিতে হাইকোর্ট থেকে কোনও স্বস্তি পান কি না তৃণমূল সাংসদ, কিংবা পুরসভার নোটিসের জবাবে তাঁর আইনি টিম কী পদক্ষেপ করে।
 

Advertisement
Tags: News

একটি মন্তব্য করুন

আপনার ইমেল ঠিকানা প্রকাশ করা হবে না। চিহ্নিত ক্ষেত্রগুলি আবশ্যক *

Home Language Gallery e-Paper
Menu
© 2026 Desher Samay.

Select Language

ভাষা নির্বাচন করুন