ট্রেনে সওয়ার দেবী দুর্গা, টিকিট কেটে শান্তিপুব থেকে বনগাঁর পথে , মহাষষ্ঠীতে বোধন, শুরু দুর্গাপুজো
deshersamay



আজ মহাষষ্ঠী। সপরিবার পিতৃগৃহে আগমন উমার। বোধন, আমন্ত্রণ ও অধিবাসের মধ্য দিয়ে শুরু হচ্ছে বাঙালির দুর্গাপুজো। প্যান্ডেলে প্যান্ডেলে শেষ মুহূর্তের প্রস্তুতি তুঙ্গে। এখন শুধু ঢাকের বাদ্যি আর দেবী দর্শন শুরুর অপেক্ষা। একটু একটু করে উৎসবের আমেজ ছড়িয়ে পড়ছে গোটা বাংলায়।

অন্যান্য দিনের মতোই এদিনও শান্তিপুর- শিয়ালদহ লোকালে ভিড় ছিল নিত্যযাত্রীদের। তার সঙ্গেই জুড়েছে পুজোর ভিড়ও। তার মাঝেই দেখা গেল অন্যরকম এক ছবি। শান্তিপুর লোকালের সিটে বসে স্বয়ং দেবী দুর্গা। আদতে দেবী দুর্গার প্রতিমা। তবে বিনা টিকিটে না, টিকিট কেটেই ট্রেনের সওয়ার হয়েছেন তিনি। তাঁকে নিয়ে যাচ্ছিলেন বনগাঁর বাসিন্দা সুপ্রতীম প্রামাণিক।

ছোটখাট আকৃতির প্রায় চার ফুট উচ্চতার অপূর্ব সুন্দর ওই দুর্গাপ্রতিমা শান্তিপুরের শিল্পী গোরাচাঁদ পাল-এর হাতে তৈরি। সেটি নিয়ে ট্রেনে চেপে বনগাঁয় ট,বাজারে নিজের বাড়িতে যাচ্ছিলেন সুপ্রতীম। গত ১২ বছর ধরে গোড়া পালের তৈরি দেবী প্রতিমায় দুর্গাপুজো করে আসছেন বনগাঁর সুশোভন প্রামাণিক- এর পরিবার। ট্রেনে করেই নিয়ে যান দেবী প্রতিমা।

কিন্তু এমনি নয়, টিকিট কেটেই করেন সফর। এ দিন সঙ্গী যাত্রীদের সেই টিকিটও দেখান তিনি। পুজোর আবহে, ভিড়ের মধ্যে ট্রেনের এই ছবি মন জিতে নিয়েছে যাত্রীদের। অনেককেই দেবী প্রতিমার সঙ্গে সেলফি তুলতেও দেখা গিয়েছে। ষষ্ঠীতে, দেবীর বোধন। তার আগে এই ট্রেন সফর এখন ভাইরাল।

এই বাড়ির পুজোয় থিম না থাকলেও সাবেকিয়ানার স্বাদ বর্তমান। ষষ্ঠীতে আমন্ত্রণ ও অধিবাস পর্ব দিয়ে শুরু করে সপ্তমীতে নবপত্রিকা স্নান, অষ্টমীরপুজো, সন্ধিপুজো এবং নবমীতে বিভিন্ন আচার-অনুষ্ঠান পালনের মাধ্যমে দশমীতে সিঁদুর খেলার সব কিছুই সাবেকিয়ানায় মতে দেখতে পাওয়া যায় ৷

শুরু হয়ে গেছে দুর্গাপুজোর ফাইনাল কাউন্টডাউন। দুর্গা পুজোর আনন্দে মেতে উঠেছে গোটা বাংলা। দিকে দিকে থিমের লড়াইতে নেমেছে পুজো কমিটিগুলি। অভিনব থিমের মধ্যে দিয়ে বিভিন্ন ভাবনাকে তুলে ধরার চেষ্টায় পুজো উদ্যোক্তারা।


কোথায় কোনও নির্দিষ্ট ভবনের আদলে দেখা যাবে মণ্ডপ, আবার কোথাও হয়ত থিমের মধ্যে দিয়ে দেওয়া হবে কোনও বিশেষ সামাজিক বার্তা। আবার কোনও জায়গায় হয়ত দুর্গাপুজোর মধ্যে দিয়ে কোনও বরণীয় ব্যক্তিত্বকে শ্রদ্ধা জানানোর উদ্যোগ দেখা যাবে কমিটির আয়োজনে। আর তাই নিয়েই একে অপরকে টেক্কা দেওয়ার লড়াই চলবে কমিটিগুলির মধ্যে।
সেক্ষেত্রে মণ্ডপ, প্রতিমা তথা ভাবনায় সেরাদের বেছে নিতে শারদ সম্মানের আয়োজন করেছে বহু সংস্থা ৷

দুর্গাপুজো নিয়ে নানা কাহিনি বর্ণিত থাকলেও শরৎকালের রামচন্দ্র এই পুজোকে অকালবোধন রূপে চিহ্নিত করা হয়। এখন তো শহর বা শহরতলির বিভিন্ন জায়গায় চলে থিমের রমরমা। আর আপনার যদি কলকাতা শহরের এই থিমপুজো ভালো না লাগে তাহলে বেড়িয়ে আসতে পারেন বনগাঁ শহরের বাড়ির পুজোগুলোতে (Bonedi Bari Durga Puja) ।

যেখানে বড় বাজেটের পাশাপাশি থিম ও সাবেকিয়ানার স্বাদ এখনও বর্তমান। ষষ্ঠীতে আমন্ত্রণ ও অধিবাস পর্ব দিয়ে শুরু করে সপ্তমীতে নবপত্রিকা স্নান, অষ্টমীতে কুমারীপুজো, সন্ধিপুজো এবং নবমীতে বিভিন্ন আচার-অনুষ্ঠান পালনের মাধ্যমে দশমীতে সিঁদুর খেলার সব কিছুই সাবেকিয়ানায় মতে দেখতে পারবেন।

