শীতের আমেজ শুরু হতেই পরিযায়ী পাখির আগমন,খুশির জোয়ার বনগাঁতে: দেখুন ভিডিও
deshersamay


দেশেরসময়, বনগাঁ:শীতের আমেজ শুরু হতেই পরিযায়ী পাখি আসা শুরু করল বনগাঁর ইছামতী সংলগ্ন এলাকাগুলোতে । শীত শুরুর আগেই এইভাবে পাখি আসতে শুরু করায় খুশি পরিবেশ প্রেমীরা । প্রতি বছর নভেম্বর মাসের মাঝামাঝি সময়ে বাইরে থেকে নানা প্রজাতির পাখির আগমন ঘটলেও এবার অনেক আগেই তাদের আসা শুরু হয়েছে ।

বনগাঁ স্টেশন পাড়া একায় নাথদের ডোবায়, ইতিমধ্যেই
এই পরিযায়ী পাখিরা এসে পড়েছে । দেশ-বিদেশের নানা প্রজাতির পাখির কিচিরমিচির শব্দে ভোরের ঘুম ভাঙছে এলাকার বাসিন্দাদের । ডোবাকে ঘিরে প্রতি বছরই দেখা যায় নানা প্রজাতির পাখির আনাগোনা। পরিবেশ প্রেমীরা জানাচ্ছেন । বিগত কয়েক বছরের তুলনায় এ বছর পরিযায়ী পাখির সংখ্যা অনেকটাই বেশি ।দেখুন ভিডিও

স্থানীয় বাসিন্দা পাখি প্রেমী রথিন হালদার বলেন, এই বছর বেশকিছু হাঁস প্রজাতির পাখির দেখা মিলেছে । রুডি, শেলডাক, টাফটেড ডাক, রেড ওয়াটার ল্যাপউইং, গ্রে হেডেড ল্যাপউইং, হুইসলিং টিল প্রজাতির পাখি এ বার এসেছে । পাখিগুলো এখানে নভেম্বর থেকে ফেব্রুয়ারি মাস পর্যন্ত থাকে, তারপর আবার চলে যায় ।
এই বছর বেশকিছু হাঁস প্রজাতির পাখির দেখা মিলেছে । রুডি, শেলডাক, টাফটেড ডাক, রেড ওয়াটার ল্যাপউইং, গ্রে হেডেড ল্যাপউইং, হুইসলিং টিল প্রজাতির পাখি এ বার এসেছে । পাখিগুলো এখানে নভেম্বর থেকে ফেব্রুয়ারি মাস পর্যন্ত থাকে, তারপর আবার চলে যায় ।
শীত এলেই অসংখ্য পরিযায়ী পাখি কেন ভারতে উড়ে আসে জানেন?

শীত এলেই সাত সমুদ্র তেরো নদী পার করে অসংখ্য পরিযায়ী পাখি উড়ে আসে ভারতে। শীতপ্রধান দেশ গুলি নভেম্বর থেকে এপ্রিল মাস পর্যন্ত প্রায় ঢেকে থাকে বরফে। ফলে দেখা দেয় খাবারের অভাব। এই কারণে বহু পাখি খাবারের খোঁজে উড়ে আসে ভারতের বিভিন্ন পাখিরালয়ে।
বিশ্বের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে যেমন – তিব্বত, সাইবেরিয়া, চিন ও ইউরোপের মতো দেশ থেকে উড়ে আসে পাখির দল। তবে এই সব পরিযায়ী পাখি কেন ভারতে বেশি উড়ে আসে জানেন?
পৃথিবীর উত্তর গোলার্ধে প্রবল শীত ও তুষার ঝড় দেখা যায়। বেশ কয়েকটি দেশে শীতের সময়ে হ্রদগুলিও ঢেকে যায় বরফে। ফলে নদী বা হ্রদ থেকে মাছ ধরে খাওয়া হয়ে যায় দুষ্কর। এ ছাড়াও, বিশ্বের একাধিক দেশে পাখিদের প্রিয় খাবার পোকামাকড় ও উদ্ভিদজাত খাদ্যের অভাব দেখা দেওয়ায় শীত পড়লেও হাজার হাজার মাইল অতিক্রম করে তারা ভারতের জলাধারগুলিতে এসে বাসা বাঁধে।
উত্তর গোলার্ধের তুলনায় দক্ষিণে তুলনামূলক কম শীত পড়ে। নভেম্বর থেকে এপ্রিল পর্যন্ত ভারতে থেকে, বাচ্চা জন্ম দেয় পরিযায়ী পাখিরা। তার পরে ভারতে যখন গ্রীষ্মের প্রখর তাপ বাড়তে শুরু করে, সেই সময়ে নিজেদের গন্তব্যে ফিরে যাওয়া শুরু করে তারা।

ভারতের উষ্ণ ও শীতল জলবায়ু পরিযায়ী পাখিদের জন্য উপযুক্ত। ভারতের পশ্চিমবঙ্গে অবস্থিত কুলিক পাখিরালয়, কেরালার কুমারাকম পাখি অভয়ারণ্য, অসমের কাজিরাঙা জাতীয় উদ্যানে পাখি দেখার জন্য ছুটে আসেন বহু পর্যটক। অন্যান্য দেশের মতো এই সব অঞ্চলে তীব্র ঠান্ডা বা তুষার ঝড় বইতে দেখা যায় না।
ভারতে রয়েছে হিমালয়ের পাদদেশে ঘন বন, পশ্চিমঘাট পর্বতমালার বিস্তীর্ণ অঞ্চল, অসংখ্য জীব বৈচিত্র। অনুকূল জলবায়ুর টানে ৩৭০ টি প্রজাতির পরিযায়ী পাখি উড়ে আসে ভারতে। ভারতের মিষ্টি জলের নদী গুলিতে রয়েছে প্রচুর মাছ। ফলে হাঁস প্রজাতির পাখিরা অবাধে ঘুরে বেরিয়ে খাবার সংগ্রহ করতে পারে।
কী কী ধরনের পাখি আসে?
গুজরাটের লবনাক্ত অঞ্চলে উড়ে আসে কালো ঠোঁট যুক্ত বকের মতো দেখতে ফ্লেমিঙ্গো। ঠোঁট কালো হলেও, ফ্লেমিঙ্গোর দেহ হয় লাল রঙের। যে কারণে পুরো উপত্যকায় সেই সময়ে দেখায় লাল। রাজস্থানে আসতে দেখা যায়, বিশ্বের সবচেয়ে ছোট সারস প্রজাতি ডেমোসেল। নীল রঙের ডানা ওয়ালা ইউরোপীয় রোলার ভারতের উত্তর-পশ্চিম দিকে উড়ে আসে।

বেশিরভাগ পরিযায়ী পাখি আসে সেন্ট্রাল এশিয়ান ফ্লাইওয়ে দিয়ে। এই পথ আর্কটিক মহাসাগার থেকে ভারত মহাসাগর পর্যন্ত বিস্তৃত। ৩০ টি দেশের মধ্যে পড়ে এই দীর্ঘ পথ। এই পথের একেবারে মাঝখানে অবস্থিত ভারত।
এই কারণে রাশিয়া ও মঙ্গোলিয়া থেকে প্রচুর পাখি ভারতের হ্রদগুলিতে উড়ে আসে। এই ভাবে বছরে ২ বার করে চলে পাখিদের পরিযান প্রক্রিয়া। প্রায় ২০০০-এর বেশি পাখি এই পদ্ধতিতে অংশ গ্রহণ করে।
অর্পিতা বনিক, দেশের সময়
