শিক্ষার মানে কড়া নজর! ২০০-র বেশি বিএড কলেজে ভর্তি বন্ধ করার নির্দেশিকা, তালিকায় আইটিআই-ফার্মাও
deshersamay

শিক্ষার মান নিয়ে কোনও আপস নয়। এবার রাজ্যের ২০৫টি বেসরকারি বিএড কলেজের বিরুদ্ধে কড়া পদক্ষেপ নিল বাবা সাহেব আম্বেদকর এডুকেশন ইউনিভার্সিটি।

পরিকাঠামোগত ঘাটতি এবং এনসিটিই-র নির্ধারিত শর্ত পূরণে ব্যর্থ হওয়ায় রাজ্যের ২০৫টি বেসরকারি বিএড কলেজে ২০২৬-২৭ শিক্ষাবর্ষে নতুন ভর্তি বন্ধের সিদ্ধান্ত নিল বাবা সাহেব আম্বেদকর এডুকেশন ইউনিভার্সিটি। তবে প্রয়োজনীয় পরিকাঠামো ও শর্ত পূরণ করতে পারলে ২০২৭-২৯ শিক্ষাবর্ষে ফের অনুমোদন পাওয়ার সুযোগ রয়েছে সংশ্লিষ্ট কলেজগুলির।

উত্তর থেকে দক্ষিণ, গোটা রাজ্য জুড়ে গজিয়ে উঠেছিল একগুচ্ছ বিএড কলেজ। সেই সব কলেজের বৈধতা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে আগেও। নতুন সরকার ক্ষমতায় এসে সেই সব কলেজের বিরুদ্ধে কড়া পদক্ষেপ করার বার্তা দিয়েছিল। এবার সরাসরি একাধির বিএড কলেজে ছাত্র ভর্তি বন্ধ করে দিল সরকার।

বৃহস্পতিবার রাজ্য সরকারের তরফে নির্দেশিকা জারি করা হয়েছে। আগামী শিক্ষাবর্ষের জন্য ২০৫টি বিএড কলেজে পড়ুয়া ভর্তি বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে। এছাড়া ১৪টি আইটিআই ও ৩৮টি ফার্মা কলেজের ক্ষেত্রেও একই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। ছাত্র ভর্তি করা যাবে না একটি পলিটেকনিক কলেজে।
তৃণমূল আমলে ফুলে ফেঁপে উঠেছিল এই শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলি। সেখানেই ২০২৬-২৮ শিক্ষাবর্ষে একজন পড়ুয়াকেও ভর্তি করা যাবে না বলে নির্দেশিকা দিয়েছে রাজ্য সরকার।

রাজ্যের বিএড কলেজগুলিতে শিক্ষা ব্যবস্থার নামে চরম অরাজকতা চলছে বলছে আগেই সরব হয়েছিলেন মন্ত্রী জগন্নাথ চট্টোপাধ্যায়। বিএড প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে কড়া পদক্ষেপের হুঁশিয়ারিও দেন তিনি। রাজ্যের প্রায় ৪৫০-এর বেশি বিএড কলেজকে কারণ দর্শানোর (শো-কজ) নোটিস পাঠানো হয়েছিল। দফতরের আধিকারিকরা পরিদর্শনও করেন কলেজগুলি।
ইতিমধ্যেই জেলা অনুযায়ী ২০৫টি কলেজের তালিকা প্রকাশ করেছে বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ। বাঁকুড়া, বীরভূম, মুর্শিদাবাদ, নদিয়া, উত্তর ও দক্ষিণ ২৪ পরগনা-সহ একাধিক জেলার কলেজ রয়েছে সেই তালিকায়। বর্তমানে রাজ্যে মোট ৬০১টি বেসরকারি বিএড কলেজ রয়েছে। তার মধ্যে ২০৫টি কলেজে নতুন ছাত্রভর্তি বন্ধ হওয়া যথেষ্ট তাৎপর্যপূর্ণ।

উচ্চশিক্ষামন্ত্রী জগন্নাথ চট্টোপাধ্যায় জানান, বিএড, আইটিআই, পলিটেকনিক, ফার্মা কলেজগুলি পরিদর্শন করা হয় উচ্চশিক্ষা দফতরের তরফে। দুই দফায় সেই পরিদর্শন করা হয়েছে। তবে তিনি জানিয়েছেন, কলেজগুলির বিরুদ্ধে কোনও শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে না। মান উন্নয়নের বিষয়টি প্রমাণ করতে পারলে, পরের বছর আবার অনুমতি দেওয়া হবে।
