রবিবার মতুয়াগড় ঠাকুরনগরের ঠাকুরবাড়িতে আন্তর্জাতিক গোঁসাই সম্মেলনে যোগ দেবেন মুখ্যমন্ত্রী
deshersamay


রাজ্যে পালাবদলের পরে মুখ্যমন্ত্রী হিসাবে প্রথমবারের জন্য আগামিকাল, রবিবার ঠাকুরনগর ঠাকুরবাড়িতে দ্বিতীয় বর্ষের আন্তর্জাতিক গোঁসাই সম্মেলনে উপস্থিত থাকবেন রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী । মুখ্যমন্ত্রীর আসার আগে ঠাকুরবাড়িতে সাজো সাজো রব । প্রস্তুতি চলছে জোর কদমে। প্রস্তুতির তদারকি করছেন শান্তনু ঠাকুর নিজেই।

মুখ্যমন্ত্রীর আগমন ঘিরে প্রস্তুত ঠাকুরনগর। রবিবার মতুয়া গোসাই সম্মেলনে যোগ দেবেন শুভেন্দু অধিকারী।
রবিবারই শুরু দ্বিতীয় বর্ষ আন্তর্জাতিক মতুয়া গোঁসাই সম্মেলনের। তাতেই যোগ দিতে ঠাকুরনগর ঠাকুরবাড়িতে যাচ্ছেন রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী।
মুখ্যমন্ত্রী হওয়ার পর এই প্রথম ঠাকুরবাড়িতে পা রাখতে চলেছেন শুভেন্দু অধিকারী। যদিও বিরোধী দলনেতা থাকাকালীন একাধিকবার ঠাকুরবাড়িতে এসেছেন তিনি। স্বাভাবিকভাবেই মুখ্যমন্ত্রীর এই আগমনকে ঘিরে সাজো সাজো রব মতুয়াগড় ঠাকুরনগরে।

সূত্রের খবর, মতুয়াদের পক্ষ থেকে মুখ্যমন্ত্রীর কাছে যেসব দাবি তুলে ধরা হবে, তার মধ্যে অন্যতম মতুয়া গোঁসাই ভাতা চালু, মতুয়া মেলাকে জাতীয় মেলা ঘোষণা। গোঁসাই পরিষদের সম্পাদক ভরত গোঁসাই জানান, ‘আমরা বিভিন্ন জায়গায় ঘুরে ঘুরে মতুয়া ধর্মের প্রচার করি। আমাদের সেভাবে কোনো অনুদান নেই। এর জন্য মুখ্যমন্ত্রীর কাছে আবেদন করতে চাই।’ মতুয়াদের একাংশের অভিযোগ, বিগত দিনে মতুয়াদের উন্নয়নে পর্ষদ গঠিত হলেও তার সুফল পেতে ব্যর্থ তারা। এনিয়েও তাঁরা মুখ্যমন্ত্রীকে আবেদনের প্রস্তুতি নিয়ে রাখছেন। পাশাপশি, ঠাকুরনগর গ্রামীণ হাসপতালের উন্নয়ন, কলকাতার ধর্মতলায় গুরুচাঁদ ঠাকুরের মূর্তি স্থাপন ও একটি রাস্তা ঠাকুরের নামে করার দাবি রাখতে চলেছেন মতুয়ারা।

মুখ্যমন্ত্রীকে স্বাগত জানাতে মতুয়া মহাসংঘের পক্ষে শেষ মুহূর্তের প্রস্তুতি চলছে। শুক্রবার সভাস্থল পরিদর্শন করে সামগ্রিক প্রস্তুতি ও নিরাপত্তা ব্যবস্থা খতিয়ে দেখেন মতুয়া মহাসংঘের সংঘাধিপতি তথা কেন্দ্রীয় প্রতিমন্ত্রী শান্তনু ঠাকুর। তাঁর সঙ্গে উপস্থিত ছিলেন মুখ্যমন্ত্রীর নিরাপত্তার দায়িত্বে থাকা আধিকারিকরাও।

কেন্দ্রীয় মন্ত্রী শান্তনু ঠাকুর জানান, রবিবার বেলা ১২টা নাগাদ ঠাকুরবাড়িতে পৌঁছবেন মুখ্যমন্ত্রী। প্রথমে মন্দিরে পুজো দেবেন তিনি। এরপর দ্বিতীয় বর্ষ আন্তর্জাতিক মতুয়া গোঁসাই সম্মেলনে যোগ দেবেন। সম্মেলন শেষে কেন্দ্রীয় মন্ত্রীর বাড়িতে মধ্যাহ্নভোজে অংশ নেওয়ার পাশাপাশি মতুয়া মহাসংঘের প্রতিনিধিদের সঙ্গে বৈঠক করবেন মুখ্যমন্ত্রী। সমস্ত কর্মসূচি শেষ করে সেখান থেকে কলকাতার উদ্দেশে রওনা দেবেন তিনি।

মুখ্যমন্ত্রীর এই সফরকে ঘিরে ইতিমধ্যেই ঠাকুরনগরে প্রশাসনিক তৎপরতা তুঙ্গে।
