প্রয়াত চিত্রকর যোগেন চৌধুরী, শূন্যতা নেমে এল শিল্পের ক্যানভাসে
deshersamay
মোহিনী বিশ্বাস, কলকাতা: ভারতীয় আধুনিক শিল্পকলার অন্যতম নাম শিল্পী যোগেন চৌধুরীর জীবনাবসান। বয়স হয়েছিল ৮৭ বছর। গত ১৪ মাস ধরে বিরল ধরনের রক্তের ক্যান্সারে আক্রান্ত ছিলেন তিনি। এর পাশাপাশি মূত্রনালির গুরুতর সংক্রমণেও ভুগছিলেন শিল্পী। শারীরিক অবস্থার অবনতি হওয়ায় বাইপাসের একটি বেসরকারি হাসপাতালে তাঁকে ভর্তি করা হয়েছিল। সেখানেই ভেন্টিলেশনে রাখা হয়েছিল তাঁকে। হাসপাতাল সূত্রে খবর, রবিবার সকাল ১০.৪৫ মিনিটে প্রয়াত হয়েছেন শিল্পী। শিল্পীর প্রয়াণের খবরে শোকের ছায়া নেমে এসেছে শিল্পানুরাগী ও সাংস্কৃতিক মহলে।
প্রয়াত বিশিষ্ট চিত্রশিল্পী যোগেন চৌধুরী। রবিবার সকাল ১০টা নাগাদ দক্ষিণ কলকাতার রুবি জেনারেল হাসপাতালে শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন। ব্লাড ক্যানসার ও মূত্রনালীর সংক্রমণে ভুগছিলেন শিল্পী। লড়াই থামল ৮৭-তে।
গত এক বছরেরও বেশি সময় ধরে ব্লাড ক্যানসারে ভুগছিলেন যোগেন চৌধুরী। চিকিৎসা চলছিল নিয়মিত। গত ১৪ মাসে তাঁকে একাধিকবার কেমোথেরাপিও দেওয়া হয়। সম্প্রতি দুর্গাপুজোর সময় মূত্রনালীর সংক্রমণ ধরা পড়ে। ভর্তি করা হয় বাইপাসের ধারে রুবি হাসপাতালে। সূত্রের খবর, চিকিৎসক তুফান কান্তি দোলাইয়ের তত্ত্বাবধানে চলছিল চিকিৎসা। শারীরিক অবস্থার অবনতি হওয়ায় পরিবারের সম্মতিতে শনিবার ভেন্টিলেশনে দেওয়া হয়। কিন্তু শেষরক্ষা হল না।
১৯৩৯ সালের ১৬ ফেব্রুয়ারি অবিভক্ত বাংলার ফরিদপুরের দাহারপাড়া গ্রামে জন্ম যোগেন চৌধুরীর। তাঁর বাবা প্রমথনাথ চৌধুরী ছিলেন জমিদার ও শিল্পানুরাগী। মা আলপনা আঁকায় দক্ষ ছিলেন। পরিবারের শিল্পচর্চার পরিবেশ ছোটবেলা থেকেই ছবি আঁকার প্রতি আগ্রহ তৈরি করেছিল তাঁর মধ্যে।
দেশভাগের সময় পরিবারের সঙ্গে কলকাতায় চলে আসেন যোগেন। ১৯৫৫ সালে কলকাতার গভর্নমেন্ট কলেজ অব আর্ট অ্যান্ড ক্র্যাফটে ভর্তি হন। ১৯৬০ সালে সেখান থেকে পাশ করে হাওড়া জেলা স্কুলে এই বিভাগেই শিক্ষকতায় যোগ দেন। শিক্ষক হিসেবে কর্মজীবন শুরু করেন। পরে কলকাতার হ্যান্ডলুম বোর্ডে ডিজাইনার হিসেবে কাজ করেন। মাদ্রাজেও টেক্সটাইল ডিজাইনারের দায়িত্ব সামলেছেন।
১৯৬৫ সালে ফরাসি সরকারের বৃত্তি নিয়ে প্যারিসে শিল্পশিক্ষার জন্য যান যোগেন চৌধুরী। পরবর্তী সময়ে তাঁর শিল্পকর্ম দেশের গণ্ডি পেরিয়ে আন্তর্জাতিক পরিচিতি পায়। গ্রামীণ বাংলার জীবন, সংস্কৃতি ও মানুষের অভিজ্ঞতাকে নিজস্ব ভাষায় ফুটিয়ে তুলেছিলেন তিনি। শিল্পী হিসেবে স্বতন্ত্র পরিচিতি গড়ে তোলার পাশাপাশি রাষ্ট্রপতি ভবনের আর্ট গ্যালারিতে কিউরেটরের দায়িত্বও পালন করেছেন।
এই যোগেন চৌধুরী ছিলেন রাজ্যের প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের বেশ কাছের। তাঁর শিবিরের বড় তারকাও। চিত্রশিল্পী হিসেবে তাঁর নামডাক থাকায় মমতা রাজ্যসভায় পাঠিয়েছিলেন। ২১ জুলাই তৃণমূলের মঞ্চেও দেখা যেত। তবে পরিবর্তনের পর থেকে আর প্রকাশ্যে দেখা যায়নি। বেশ খানিকটা অসুস্থ থাকায় সেভাবে কারও সঙ্গে দেখা-সাক্ষাৎ বা এনিয়ে কোনও প্রতিক্রিয়া দেওয়ার পরিস্থিতিতেও তিনি ছিলেন না বলে শোনা যায়।
