চারিদিক তুলো মেঘে ঢাকা। চোখ জুড়িয়ে যাওয়া দৃশ্য। মেঘের বুক চিরে এ বার ছুটবে ট্রেন। শুক্রবার ভারতীয় রেলের ইতিহাসে এক নতুন অধ্যায়ের সূচনা হলো।
কাশ্মীর ভারতের, পাকিস্তানকে এই বার্তা দিয়ে শুক্রবার বিশ্বের সর্বোচ্চ রেলসেতু চেনাব (চন্দ্রভাগা) ব্রিজের উদ্বোধন করলেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী ।
এ দিন প্রধানমন্ত্রী তিরঙ্গা ওড়ানোর পরেই এই রেলব্রিজ ধরে ছুটে যায় বন্দে ভারত ট্রেন। এ ছাড়াও, এ দিন অঞ্জি ব্রিজের উদ্বোধনও করেন মোদী। তা ভারতের প্রথম ঝুলন্ত রেলসেতু। এই অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন জম্মু-কাশ্মীরের মুখ্যমন্ত্রী ওমর আবদুল্লা, রেলমন্ত্রী অশ্বিনী বৈষ্ণবও।
সরকারি এই অনুষ্ঠানে আইফেল টাওয়ারের থেকে উঁচু সেতুর উপরে তেরঙা ঝান্ডা দুলিয়ে দৃপ্ত ভঙ্গিতে হেঁটে বেড়ালেন মোদী । গুজরাত, পশ্চিমবঙ্গ, বিহার, উত্তরপ্রদেশেও কেন্দ্রের উন্নয়নমূলক কর্মসূচির উদ্বোধন অনুষ্ঠানে কোথাও দলীয় পতাকা কিংবা প্রতীকের চিহ্নমাত্র ছিল না।
পহেলগাম জঙ্গিহানার পর পাকিস্তানের কোমর ভেঙে দেওয়া অপারেশন সিঁদুরের পর থেকেই মোদীর অনুষ্ঠানে দেখা যাচ্ছে শুধুই জাতীয় পতাকার। জম্মু-কাশ্মীরেও এদিন তার ব্যাতিক্রম ঘটালেন না তিনি। পহেলগামে ২৬ জন নিরীহ পর্যটকের মৃত্যুর পর এই প্রথম জম্মু-কাশ্মীর সফরে গিয়ে ইসলামাবাদকে সাফ বোঝাতে চাইলেন কাশ্মীর ভারতের অবিচ্ছেদ্য অংশ। বিশেষত, বিশ্বের সর্বোচ্চ রেলসেতুতে তেরঙ্গা ঝান্ডা ঘুরিয়ে প্রধানমন্ত্রী বোঝাতে চাইলেন কাশ্মীরের ওপর প্রথম এবং একমাত্র অধিকার ভারতের।
পাহাড়, নদী আর প্রকৃতির মাঝে দাঁড়িয়ে থাকা সেতু দু’টিকে ‘ইঞ্জিনিয়ারিং চমক’ বলেই মনে করছেন সকলে। শুক্রবার জম্মু-কাশ্মীরের মুখ্যমন্ত্রী ওমর আবদুল্লা, রেলমন্ত্রী অশ্বিনী বৈষ্ণবের সঙ্গে রেলসেতু ঘুরে দেখেন প্রধানমন্ত্রী। তারপর পতাকা নেড়ে সেই ব্রিজের উপর থেকেই চালু করিয়ে দেন বন্দে-ভারত এক্সপ্রেস।
বেশ কয়েক মাস আগে বিশেষভাবে তৈরি একটি বন্দে-ভারত ট্রেনের ট্রায়াল রান সফলভাবে সম্পন্ন হয়েছিল চেনাব ব্রিজে। পাশাপাশি অঞ্জি খাদ রেল ব্রিজেও সফল ট্রায়াল রান হয়েছিল। সেই ব্রিজও এদিন উদ্বোধন করেন মোদী।
চেনাব সেতু
এটি বিশ্বের সর্বোচ্চ আর্চ টাইপ রেল সেতু। যার উচ্চতা ৩৫৯ মিটার এবং দৈর্ঘ্য ১ হাজার ৩১৫ মিটার। এর আর্চ স্প্যান ৪৬৭ মিটার। জম্মু-কাশ্মীরের রিয়াসি জেলার কউরি এবং বক্কল এলাকা সংযোগকারী সেতু হলো চেনাব। এর ফলে দেশের বাকি অংশের সঙ্গে জম্মু-কাশ্মীরের যোগাযোগ ব্যবস্থা আরও উন্নত হতে চলেছে। উপত্যকার রেলপথ দেশের বাকি অংশের সঙ্গে যুক্ত হলো। যে কোনও প্রাকৃতিক দুর্যোগের মোকাবিলা করতে পারবে এই সেতু।
এতদিন পর্যন্ত কাশ্মীর উপত্যকাকে দেশের অন্যান্য অংশের সঙ্গে যুক্ত করার একমাত্র স্থলপথ ছিল ৩০০ কিলোমিটার দীর্ঘ শ্রীনগর-জম্মু জাতীয় সড়ক। কিন্তু তুষারপাতের কারণে সেই রাস্তা অনেক সময়ে বন্ধ রাখতে হতো। কিন্তু, চেনাব সেতু নির্মাণের ফলে উপত্যকার সঙ্গে যোগাযোগ ব্যবস্থা উন্নত হলো। সারা বছর ধরেই সড়কপথে গোটা দেশের সঙ্গে যোগাযোগ থাকবে উপত্যকার।
উল্লেখ্য, ২০০৩ সালে অটলবিহারী বাজপেয়ী প্রধানমন্ত্রী থাকাকালীন এই প্রকল্পে অনুমোদন দিয়েছিলেন এবং ২০০৪ সালে কাজও শুরু হয়। কিন্তু ২০০৯ সালে সেই কাজ বন্ধ হয়ে যায় হাওয়ার তীব্র গতির জন্য। নরেন্দ্র মোদী সরকার সেই প্রকল্প পুনরায় শুরু করে এবং ২০২২ সালের অগস্ট মাসে এই নির্মাণ কাজ শেষ হয়।
২৮ হাজার কোটি টাকা খরচে এই ব্রিজ তৈরি হয়েছে উদামপুর-শ্রীনগর-বারামুল্লা প্রকল্পের আওতায়। পৃথিবীর উচ্চতম সেতুটি (৩৫৯ মিটার) দাঁড়িয়ে আছে ১৭টি পিলারের ওপর। পুরো সেতুটি স্টিলের তৈরি এবং এর দৈর্ঘ্য ১ হাজার ৩১৫ মিটার।
https://x.com/ANI/status/1930878865502568903?t=Xy7HEFfjayRzUPASFv_2mQ&s=19
যে কোনও প্রাকৃতিক দুর্যোগের সঙ্গে লড়াই করার ক্ষমতা রয়েছে এই সেতুর। সে ভূমিকম্প হোক বা, বরফ ঝড় অনায়াসেই ব্রিজ সেই বিপর্যয় মোকাবিলা করতে পারবে। প্রায় ২৮ হাজার ৬৬০ মেট্রিক টন ইস্পাত দিয়ে তৈরি হয়েছে এই সেতু। ১১১ কিলোমিটার দীর্ঘ কাটরা-বানিহাল রেলপথে রয়েছে ৮৬ কিমি দীর্ঘ এক টানেল।
https://x.com/ANI/status/1930877677117788276?t=fLMfRPc5ET_4gD3IlaH6OQ&s=19



