

বাগদা : আসন্ন বিধানসভা নির্বাচনের লড়াই এবার ঠাকুর পরিবারের অন্দরমহলে। উত্তর ২৪ পরগনার বাগদা কেন্দ্রে তৃণমূলের বিদায়ী বিধায়ক মধুপর্ণা ঠাকুরের বিরুদ্ধে বিজেপি তাঁরই বউদি সোমা ঠাকুরকে প্রার্থী করেছে। এবারই প্রথম ভোটে লড়ছেন মতুয়া ঠাকুর বাড়ির এই সদস্য। খামতি রাখছেন না প্রচারে।দিনভর চলছে জনসংযোগ-প্রচার।

তৃণমূল কংগ্রেসের এবছরও প্রার্থী হয়েছেন ঠাকুর বাড়ির মেয়ে মধুপর্ণা ঠাকুর। বাগদা কেন্দ্রে বিজেপির পক্ষ থেকে ওই ঠাকুর বাড়িরই গৃহবধূ সোমা ঠাকুরের নাম প্রার্থী হিসেবে ঘোষণা করা হয়েছে। উল্লেখ্য, সোমা ঠাকুর বিজেপি সাংসদ ও কেন্দ্রীয় প্রতিমন্ত্রী শান্তনু ঠাকুরের স্ত্রী।
বাগদায় এবার মুখোমুখি লড়াই মতুয়া ঠাকুরবাড়ির দুই সদস্যের। তৃণমূল প্রার্থী মধুপর্ণা ঠাকুরের বিরুদ্ধে বিজেপির সোমা ঠাকুর । দেখুন ভিডিও

২০২৪-এ বিধানসভা উপনির্বাচনে জিতে রাজনীতির ময়দানে পা রেখেছিলেন। মতুয়া অধ্যুষিত বাগদায় এবারও বিদায়ী বিধায়ক মধুপর্ণা ঠাকুরকেই প্রার্থী করেছে তৃণমূল। রাজনীতি তার রক্তে। মধুপর্ণার বাবা কপিলকৃষ্ণ ঠাকুর ছিলেন তৃণমূলের লোকসভার সাংসদ। পরে তাঁর মা মমতা ঠাকুর তৃণমূলের টিকিটে জিতে লোকসভায় যান, কিন্তু শান্তনু ঠাকুরের কাছে পরাজিত হওয়ার পর, তাঁকে রাজ্যসভায় পাঠায় তৃণমূল। অন্যদিকে মতুয়া বাড়িরই আরেক সদস্য শান্তনু ঠাকুর বিজেপি সাংসদ ও দুবারের কেন্দ্রীয় প্রতিমন্ত্রী। শান্তনু ঠাকুরের ভাইও বিজেপি বিধায়ক। তাঁর বাবা মঞ্জুলকৃষ্ণ ঠাকুর আবার একটা সময় মমতা মন্ত্রিসভার সদস্য ছিলেন। আর এবারের ভোটে মধুপর্ণার মূল প্রতিদ্বন্দ্বী তাঁরই বউদি, শান্তনু ঠাকুরের স্ত্রী সোমা ঠাকুর। বাগদা বিধানসভা থেকে তাঁকে প্রার্থী করেছে বিজেপি।
বাগদায় এ বার সব পক্ষ চেয়েছিল, স্থানীয় কাউকে প্রার্থী করা হোক। কিন্তু প্রধান রাজনৈতিক দলগুলি সে দাবি মানেনি। এতে ভোটারদের কারও গোঁসা আছে, কারও অভিমান। আর এটাও বুঝতে পারছেন সকলে, ভোট যাকেই দিন না কেন, তা যাবে ঠাকুরবাড়ির খাতাতেই!
ননদ বনাম বৌদি, যেই জিতুন ঠাকুর বাড়িতেই আসবে বাগদা জয়ের ‘শিল্ড’ ।
প্রসঙ্গত ২০২১ এর নির্বাচনে প্রাক্তন তৃণমূল বিধায়ক বিশ্বজিৎ দাস বিজেপির টিকিটে বাগদা থেকে লড়াই করেছিলেন৷ ভোটে তিনি জয়ী হন৷ পরবর্তী সময়ে বিজেপি ছেড়ে বিশ্বজিৎ তৃণমূলে যোগদান করেন৷ গত লোকসভা নির্বাচনের পর বাগদা কেন্দ্রে উপনির্বাচন হয়। সেখানেই মধুপর্ণা ঠাকুরকে তৃণমূলের প্রার্থী করা হয়েছিল। মধুপর্ণা তৃণমূলের রাজ্যসভার সাংসদ মমতাবালা ঠাকুরের ছোট কন্যা। বিজেপির মন্ত্রী শান্তনু ঠাকুরের জেঠুর মেয়ে। বাগদা উপনির্বাচনে মধুপর্ণা ঠাকুর বিজেপি প্রার্থীর বিরুদ্ধে প্রায় ৪০ হাজার ভোটে জয়লাভ করেন।

পরবর্তী সময়ে বাগদা এলাকাতেই বাড়ি ভাড়া নিয়েই তিনি থাকতে শুরু করেন৷ তৃণমূল ফের মধুপর্ণাকেই এবার বাগদার প্রার্থী করেছে। অন্যদিকে বাগদা বিধানসভার মানুষ দীর্ঘদিন ধরে স্থানীয় প্রার্থীর দাবি জানিয়ে আসছিলেন৷ বিশেষ করে বিজেপি কর্মী সমর্থকদের একটি বড় অংশ। তাঁরা স্থানীয় প্রার্থীর দাবিতে সমাজ মাধ্যমে নানারকম লেখালেখি চালাচ্ছিলেন। তারপরেও সোমা ঠাকুরকে প্রার্থী করায় একাংশের বিজেপি কর্মী সমর্থকরা তাঁকে কতটা মেনে নেবে বা তাঁর হয়ে পাড়ায় পাড়ায় কতটা লড়াই করবেন সে প্রশ্নটাও কিন্তু ঘুরছে স্থানীয়দের মধ্যে।
এ বিষয়ে তৃণমূল প্রার্থী মধুপর্ণা ঠাকুর বলেন, ‘ঘরের সম্পর্ক ঘরের জায়গায়, রাজনীতি রাজনীতির জায়গায়। রাজনৈতিক প্রতিপক্ষ হিসেবে লড়াই করতে আসলে সেখানে লড়াই তো হবেই। বাগদায় তৃণমূল কংগ্রেসই জিতবে।’
অন্যদিকে বিজেপি প্রার্থী সোমা ঠাকুর বলেন, ‘পরিবার পরিবারের মতো। ভোট অন্য বিষয়। ভারতীয় জনতা পার্টি আমাকে প্রার্থী করেছে এবং বাগদার মাটি বিজেপির মাটি। আমরা জয়লাভ করব।’

ননদ -বৌদিদে নিয়ে ইতিমধ্যেই বাগদায় জোর রাজনৈতিক চর্চা শুরু হয়েছে। এই কেন্দ্রে এবার ননদ বনাম বৌদির ভোটের লড়াই বেশ জমে উঠেছে । তবে যেই জিতুক ঠাকুর বাড়িতেই থাকবেন এবারের বাগদার বিধায়ক। সোমা ঠাকুর কেন্দ্রীয় প্রতিমন্ত্রী শান্তনু ঠাকুরের স্ত্রী ছাড়াও মতুয়া মহাসঙ্ঘের মাতৃ সেনার প্রধান। মতুয়া মহাসঙ্ঘের বিভিন্ন অনুষ্ঠান মঞ্চে এই বছরে তাঁকে নিয়মিত দেখা গিয়েছে৷ ফলে তাঁকে প্রার্থী করে যে এই কেন্দ্রে বিজেপি মতুয়া ভোট ধরে রাখতে চাইবে সেটার কানাঘুষো অনেক আগেই এলাকায় ঘুরছিল। বিজেপির দাবি, বাগদায় তাঁদের প্রার্থীর জয় হবে।

স্থানীয় বাসিন্দারা তাঁদের বিভিন্ন দাবি জানাচ্ছেন ননদ – বৌদি দুজন কেই । এখন দেখার কার হাত ধরে বাগদাবাসীর দাবি পূরণ হয় ।



