নন্দীগ্রামে গেরুয়া ঝড়! দুই কেন্দ্রেই অনেক এগিয়ে বিজেপি, দ্বিতীয় স্থানে কংগ্রেস, রেজিনগরে প্রধান বিরোধী কে?
deshersamay

৯৬০০ ভোটে এগিয়ে হাসিরানি
নন্দীগ্রামে প্রথম রাউন্ডের গণনার শেষে বিজেপি প্রার্থী হাসিরানি রথ ৯৬০০ ভোটে এগিয়ে রয়েছেন। দ্বিতীয় স্থানে কংগ্রেস প্রার্থী মিলন প্রধান।
রেজিনগর: দ্বিতীয় রাউন্ডের পর ১১ হাজারেরও বেশি ভোটে এগিয়ে বিজেপি

রেজিনগরে দ্বিতীয় রাউন্ড গণনার শেষে বিজেপি প্রার্থী শাখারভ সরকার ভোট পেয়েছেন ১১৬১৪টি। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী কংগ্রেস ৫৮১টি, হুমায়ুন কবীরের দল এজেইউপি ৪৪৬টি, গণতান্ত্রিক তৃণমূল ৪৬টি, সিপিএম ১৯৯টি আর মমতা তৃণমূল ৮৪টি ভোট পেয়েছে।
নন্দীগ্রামে দ্বিতীয় স্থানে কংগ্রেস, রেজিনগরে কে?
গণনার শুরু থেকেই নন্দীগ্রামে অনেক এগিয়ে রয়েছেন বিজেপি প্রার্থী হাসিরানি রথ। দ্বিতীয় স্থানে কংগ্রেস। তৃতীয় এবং চতুর্থ স্থানে যথাক্রমে বাম এবং সিপিআই। রেজিনগরে অবশ্য দ্বিতীয় স্থানে কখনও এগিয়ে হুমায়ুনের দল, কখনও মমতা তৃণমূল, কখনও আবার কংগ্রেস।

নন্দীগ্রাম ও রেজিনগরে শুরু হয়েছে ভোটগণনা। শুক্রবার সকাল থেকেই কড়া নিরাপত্তায় মুড়ে ফেলা হয়েছে দুই বিধানসভা কেন্দ্রের এলাকা। প্রাথমিক ট্রেন্ডে দেখা যাচ্ছে, দুই কেন্দ্রেই এগিয়ে রয়েছে বিজেপি। সকাল ৯টায় নির্বাচন কমিশনের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, নন্দীগ্রামে প্রায় ৯ হাজার ভোটে এগিয়ে রয়েছেন বিজেপির প্রার্থী হাসিরানি রথ। রেজিনগরেও ১০ হাজারের বেশি ভোটে লিড নিয়েছেন বিজেপির প্রার্থী শাখারভ সরকার।

নন্দীগ্রাম এবং রেজিনগর বিধানসভার উপনির্বাচন হয়েছিল গত মঙ্গলবার। শুক্রবার সকাল ৮টায় শুরু হয়েছে গণনা। নন্দীগ্রাম এবং ভবানীপুর, দুই আসন থেকে লড়েছিলেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। দুটিতেই জেতেন তিনি। ভবানীপুরে হারান প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে। কলকাতার আসনটি রেখে দিয়ে ঘরের মাঠ নন্দীগ্রাম ছেড়ে দেন শুভেন্দু।
অন্য দিকে আম জনতা উন্নয়ন পার্টির প্রধান হুমায়ুন কবীর লড়েছিলেন মুর্শিদাবাদের নওদা এবং রেজিনগর থেকে। তিনিও জোড়া আসনে জিতে ছেড়ে দেন রেজিনগর।
নন্দীগ্রামে বিজেপি প্রার্থী করেছে শুভেন্দুর নিহত আপ্তসহায়ক চন্দ্রনাথ রথের মা হাসিরানি রথকে। বিজেপির দাবি, নন্দীগ্রামে তারা রেকর্ড গড়ার জন্য লড়ছে। অন্য দিকে রেজিনগরে হুমায়ুনের দলের প্রার্থী ছিলেন তাঁর পুত্র গুলাম নবি আজাদ। উপনির্বাচন পর্বে নন্দীগ্রামের কংগ্রেস প্রার্থী মিলন প্রধানের গ্রেফতারি এবং জামিন নিয়ে বিস্তর জলঘোলা চলেছে। বেলা বাড়ালেই স্পষ্ট হবে দুই কেন্দ্রের ফলাফল।
নন্দীগ্রামে বড়সড় ব্যবধানে এগিয়ে গেলেন বিজেপির প্রার্থী হাসিরানি রথ। নির্বাচন কমিশন সূত্রে প্রাপ্ত তথ্য অনুযায়ী, গণনার শুরুতেই প্রতিপক্ষদের অনেকটাই পেছনে ফেলে ৯ হাজারের বেশি ভোটের এক বিশাল লিড ছিনিয়ে নিয়েছেন তিনি।

অন্য দিকে, প্রাথমিক গণনার ট্রেন্ড অনুযায়ী বিজেপি প্রার্থীর পেছনে দ্বিতীয় স্থানে লড়াই বজায় রেখেছে কংগ্রেস। প্রথম রাউন্ডের এই বড় ব্যবধানের পর নন্দীগ্রামের ভোট গণনার রাজনীতিতে পদ্ম শিবিরের পাল্লা দৃশ্যতই ভারী হয়ে উঠেছে।
রেজিনগরে ১১ হাজার ছাড়াল বিজেপির লিড!
রেজিনগর বিধানসভা উপনির্বাচনের গণনায় বিজেপি প্রার্থী শাখারভ সরকারের জয়জয়কার অব্যাহত। গণনার সর্বশেষ রাউন্ড শেষে প্রতিপক্ষকে বহুদূরে ফেলে একছত্র আধিপত্য বজায় রেখে ১১,৬১৪ ভোটের বিরাট ব্যবধানে এগিয়ে গিয়েছেন তিনি। এই কেন্দ্রে লড়াইয়ে থাকা বাকি প্রার্থীরা অনেকটাই পেছনে পড়ে গিয়েছেন; কংগ্রেসের আব্দুল্লাহিল কাফি পেয়েছেন মাত্র ৫৮১টি ভোট, অন্যদিকে আম জনতা উন্নয়ন পার্টির প্রার্থী থমকে গিয়েছেন ৪৪৬টি ভোটে।
অন্যদিকে, নন্দীগ্রাম উপনির্বাচন কেন্দ্র থেকেও স্বস্তির খবর পাচ্ছে বিজেপি শিবির। নির্বাচন কমিশন সূত্রে প্রাপ্ত খবর অনুযায়ী, সেখানেও প্রতিপক্ষের তুলনায় এক হাজারেরও বেশি ভোটে এগিয়ে থেকে নিজের লিড বজায় রেখেছেন বিজেপি প্রার্থী হাসিরানি রথ। সব মিলিয়ে জোড়া উপনির্বাচনের গণনায় রাজ্যের দুই কেন্দ্রেই পদ্ম শিবিরের শক্ত অবস্থান স্পষ্ট হয়ে উঠেছে।

পোস্টাল ব্যালট খুলতেই বড়সড় বাজিমাত করেছে ভারতীয় জনতা পার্টি। পোস্টাল ব্যালটের প্রায় ৯৫ শতাংশ ভোটই গিয়েছে বিজেপির পক্ষে। প্রাথমিক এই গণনায় বিজেপি প্রার্থী শাখারভ সরকার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বীর চেয়ে প্রায় ৫০০ ভোটে এগিয়ে থেকে শক্ত অবস্থান তৈরি করে নিয়েছেন।
অন্য দিকে, গণনার শুরুতে হুমায়ুন কবীরের দল ‘আজুপ’ দ্বিতীয় স্থানে থাকলেও, ইভিএম (EVM) খুলতেই ছবিটা বদলে যায়। আজুপকে পেছনে ফেলে দ্রুত দ্বিতীয় স্থানে উঠে আসে কংগ্রেস। দলের পক্ষ থেকেও দ্বিতীয় স্থানে থাকার দাবি করা হয়েছে। তবে ফলাফলের সবচেয়ে বড় চমক দেখা গিয়েছে শাসক ও বিদ্রোহী শিবিরের প্রাপ্ত ভোটে। গণনার প্রাপ্ত তথ্য অনুযায়ী, ‘মমতা তৃণমূল’ এবং ‘গণতান্ত্রিক তৃণমূল’ (ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়ের দল)—উভয় পক্ষই মাত্র ৪ থেকে ৫টি করে ভোট ঝুলিতে পুরতে সক্ষম হয়েছে। সব মিলিয়ে, রেজিনগরে বিজেপির বড় লিডের মাঝে দ্বিতীয় স্থান ধরে রাখা নিয়ে কংগ্রেস ও আজুপের মধ্যে হাড্ডাহাড্ডি লড়াই জমে উঠেছে।
রেজিনগর কেন্দ্রের ভোটগ্রহণ চলায় উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন দুই বিরোধী প্রার্থী। গণতান্ত্রিক তৃণমূল কংগ্রেসের প্রার্থী শফিউজ্জামান শেখ আক্ষেপের সুরে বলেন, “আমি আশাহত, তবে তার মধ্যেও আশাবাদী। সবাই জানে কী ঘটেছে।”
অন্যদিকে, বুথে অতিরিক্ত ভোট পড়ার আশঙ্কা প্রকাশ করে কংগ্রেস প্রার্থী মহম্মদ আব্দুল্লাহিল কাফি জানান, মোট ভোটারের চেয়ে বেশি ভোট পড়েছে কি না, মূলত তা খতিয়ে দেখতেই তিনি বুথে এসেছেন।
