দেশের সময়, ওয়েবডেস্কঃ আগামী সপ্তাহেই রাম মন্দিরের উদ্বোধন। রামলালার বিগ্রহে প্রাণ প্রতিষ্ঠা করবেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী । এক সপ্তাহ আগে থেকেই শুরু হয়ে গিয়েছে প্রাণ প্রতিষ্ঠার আচার-রীতি। সেই আচারেরই গুরুত্বপূর্ণ একটি অংশ পালন হবে আজ।

অযোধ্যায় নবনির্মিত রাম মন্দিরের ভিতরে আজ আনা হবে রামলালার মূর্তি। আগামিকাল, ১৮ জানুয়ারি তা গর্ভগৃহে স্থাপন করা হবে।

আগামী ২২ জানুয়ারি রাম মন্দিরের উদ্বোধন। ওই দিন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী রামলালার আসল বিগ্রহকে নিয়ে মন্দিরের গর্ভগৃহে প্রবেশ করবেন এবং প্রাণ প্রতিষ্ঠা করবেন। রামলালার আসল বিগ্রহের সঙ্গে একটি মূর্তিও তৈরি করা হয়েছে। সেই মূর্তিতেও চক্ষুদান করবেন প্রধানমন্ত্রী মোদী। দুপুর ১২টা ১৫ মিনিট থেকে ১২ টা ৪৫ মিনিট-এই শুভ তিথিতেই প্রাণ প্রতিষ্ঠা করা হবে।

রাম জন্মভূমি তীর্থক্ষেত্র ট্রাস্টের তরফে জানা গিয়েছে, আজ রাম মন্দিরের ভিতরে রামলালার মূর্তি আনা হবে। দুপুর ১টা ২০ মিনিট থেকে একে একে জলযাত্রা, তীর্থ পুজো, ব্রাহ্মণ-বটুক-কুমারী-শুভাসিনী পুজো করা হবে। কলসযাত্রার পর মন্দির চত্বরেই রামলালার মূর্তি নিয়ে প্রদক্ষিণ করা হবে বলে জানিয়েছেন আচার্য গনেশ্বর শাস্ত্রী দ্রাবিড়।

এদিকে কনকনে ঠান্ডায় বুধবার সকালে ততক্ষণে কলকাতার অনেকেরই ঘুম ভাঙেনি। বা ঘুম ভাঙার পরেও কম্বলের তলায় ঘাপটি মেরেছিলেন অনেকেই। কিন্তু কেরলে শীত কোথায়। দেখা গেল, সকাল ৮টার মধ্যে স্নানটান সেরে গুরুবায়ুর মন্দিরে পৌঁছে গিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী।

তাঁর পরনে আইভরি সাদা রঙের ধুতি। গায়ে সেই রঙের উত্তরীয়। চট করে একবার দেখে মন্দিরের পুরোহিতদের সঙ্গে তাঁর ফারাক করা মুশকিল। মনে হতে পারে তিনিও বুঝি পুরোহিত। 

রাম মন্দিরের উদ্বোধন উপলক্ষে সাতদিনের বিশেষ রীতি পালন করছেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীও। আজ তিনি কেরলের রাম মন্দিরের দর্শনে যাবেন। শুক্রবার থেকে তিনি একবেলা খাবার খাবেন এবং মাটিতে শোবেন।

প্রবাদ রয়েছে, আগে দর্শনধারী পরে গুণবিচারী। অনেকের মতে, নরেন্দ্র মোদী ও তাঁর টিম যেন এই কথাটিকেই গোড়া থেকে আঁকড়ে রেখেছেন। গত প্রায় দশ বছর ধরে কেন্দ্রে ক্ষমতায় রয়েছে তাঁর সরকার। দেশের প্রধান প্রশাসক তিনি। এই দশ বছরে বহুরূপে সন্মুখে তাঁকে দেখেছে দেশ। তিনি লালকেল্লায় দাঁড়ালে মাথায় একরকম পাগড়ি। আবার গুজরাতে গেলে অন্যরকম। পাঞ্জাবে গেলে মাথায় পাগড়ি। তিনি মার্কিন প্রেসিডেন্টের সঙ্গে বৈঠক করলে একরকম স্যুট, আবার ফ্রান্সের প্রেসিডেন্টের সঙ্গে সান্ধ্য দ্বিপাক্ষিক বৈঠকে স্কার্ফের ভিন্ন ড্রেপ। 

এহেন প্রধানমন্ত্রীকে গত দশ বছরে বিভিন্ন মন্দিরে বা ধর্মীয় অনুষ্ঠানে হয়তো বা ১০৮ অবতারে দেখেছে দেশ। অমরনাথে গিয়ে তিনি আদ্যন্ত সাধু সন্তের মতো গেরুয়া পরে বসেছেন, কাশীতে ডুব দেওয়ার সময়ে সেই গেরুয়া আবার একটু লালচে ঘেঁষা হয়ে গিয়েছে, আবার বিশ্বনাথ মন্দিরে যখন কলস নিয়ে ঢুকছেন তখন গরদের পাঞ্জাবি ও ধুতি পরা।

২২ জানুয়ারি অযোধ্যায় রাম মন্দিরের প্রাণ প্রতিষ্ঠা হবে। এই অবস্থায় বিজেপি ও সঙ্ঘ পরিবারের মধ্যেও অনেকের কৌতূহল যে প্রধানমন্ত্রী সেদিন কী পরবেন। 

বিজেপির এক কেন্দ্রীয় নেতার কথায়, এ খবর কাক পাখিতেও টের পাবে বলে মনে হয় না। কারণ, এ ব্যাপারে সম্ভবত কোনও পেশাদার টিম পরামর্শ দেন। ব্যাকড্রপে মন্দিরের পাথরের রঙের সঙ্গে কনট্রাস্টে যাবে এমন কোনও রঙের উত্তরীয়, ধুতি পরবেন বলেই তাঁর ধারণা। 

কলকাতার পেশাদার এক ফ্যাশন ডিজাইনারের কথায়, প্রধানমন্ত্রীর পোশাক, চুল ও দাড়ি দেখলেই বোঝা যায় যে তাতে একটার ভাবনার ছোঁয়া সব সময়ে থাকে। সরকারি অনুষ্ঠানে তাঁর চুল যেভাবে আঁচড়ে ফিক্স করা থাকে, মন্দিরে গেলে সেরকম থাকে না। তখন সম্ভবত ব্যাক ব্রাশ করে দেওয়া হয়। যাতে কপালটা বড় দেখায় এবং ললাটে টিকা পরলে তা আলাদা করে একটা শোভা তৈরি করে। অনেকটা পুরানের রাজ পুরোহিত ঘরানার মতই। 

বিজেপির সর্বভারতীয় সংগঠনের ওই নেতার কথায়, মোদী গুজরাতের মুখ্যমন্ত্রী থাকার সময় থেকেই ‘হিন্দু হৃদয় সম্রাট’ বলে তাঁর নামে স্লোগান উঠত। রাম মন্দিরের প্রাণপ্রতিষ্ঠা গত একশ বছরের মধ্যে ভারতের হিন্দু সংস্কৃতিতে সবচেয়ে বড় অধ্যায় ও ঘটনা হতে চলেছে। প্রধানমন্ত্রীর সেদিনের ছবি ও প্রতিটা ফ্রেম ইতিহাসে থেকে যাবে। তাই তাঁর পোশাক ও পরিচ্ছদ সে কথা মাথায় রেখেই স্থির হবে বলে মনে করা হচ্ছে।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here