ল-ক্লার্কের নামে ভুয়ো অ্যাকাউন্ট, ২৭০ কোটি টাকার লেনদেনের অভিযোগে ব্যাংক ম্যানেজার-সহ দু’জনকে গ্রেফতার করল বনগাঁ সাইবার ক্রাইম থানার পুলিশ : দেখুন ভিডিও
deshersamay

ল-ক্লার্কের পরিচয় ও নথি জাল করে একটি সংস্থার নামে ব্যাংক অ্যাকাউন্ট খোলার অভিযোগ। সেই অ্যাকাউন্ট ব্যবহার করে প্রায় ২৭০ কোটি টাকার লেনদেনেরও অভিযোগ উঠেছে। ঘটনাকে কেন্দ্র করে তদন্তে নেমে এক ব্যাংক ম্যানেজার-সহ দু’জনকে গ্রেফতার করল বনগাঁ সাইবার ক্রাইম থানার পুলিশ। সোমবার কলকাতা থেকে তাদের গ্রেফতার করা হয়। মঙ্গলবার ধৃতদের নিজেদের হেফাজতে নেওয়ার আবেদন জানিয়ে বনগাঁ মহকুমা আদালতে পেশ করে পুলিশ।

পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, ধৃতদের মধ্যে একজন হুগলির বাসিন্দা। অন্যদিকে, এই ঘটনার সূত্রপাত উত্তর ২৪ পরগনার গোপালনগর থানার শুল্ক দুর্গাপুর গ্রামের বাসিন্দা মনোজিৎ বিশ্বাসকে ঘিরে। তিনি বনগাঁ মহকুমা আদালতে ল-ক্লার্ক হিসেবে কাজ করেন। অভিযোগ, তাঁর পরিচয় ও নথি ব্যবহার করে ‘এম বি ট্রেডকন ইন্ডিয়া’ নামে একটি সংস্থার অস্তিত্ব তৈরি করা হয়। এরপর তাঁর নামে ফেডারেল ব্যাংকের রাজারহাট শাখায় ওই সংস্থার একটি অ্যাকাউন্ট খোলা হয়।

ঘটনাটি প্রথম প্রকাশ্যে আসে ২০২২ সালে। আয়কর সংক্রান্ত কাজ করতে গিয়ে মনোজিৎ জানতে পারেন, তাঁর নামে একটি সংস্থার আয়কর সংক্রান্ত নথি এবং লেনদেনের তথ্য রয়েছে। বিষয়টি তাঁর কাছে অস্বাভাবিক মনে হওয়ায় তিনি খোঁজখবর শুরু করেন। পরে জানতে পারেন, তাঁর নাম ও নথি ব্যবহার করে রাজারহাটের একটি ব্যাংক শাখায় ‘এম বি ট্রেডকন ইন্ডিয়া’ নামে অ্যাকাউন্ট খোলা হয়েছে। দেখুন ভিডিও

এরপর ওই ব্যাংক শাখায় গিয়ে অ্যাকাউন্টটি সম্পর্কে বিস্তারিত জানতে চান মনোজিৎ। কিন্তু অভিযোগ, ব্যাংক কর্তৃপক্ষের কাছ থেকে তিনি সন্তোষজনক কোনও উত্তর পাননি। তাঁর দাবি, তাঁর অজান্তেই ওই অ্যাকাউন্টের মাধ্যমে বিপুল পরিমাণ অর্থের লেনদেন করা হয়েছে। তদন্তে প্রাথমিকভাবে প্রায় ২৭০ কোটি টাকার লেনদেনের তথ্য সামনে এসেছে বলে পুলিশ সূত্রে খবর।
ঘটনার পর নিজের পরিচয় অপব্যবহার করে প্রতারণা করা হয়েছে বলে অভিযোগ জানান মনোজিৎ। ২০২৪ সালে তিনি বনগাঁ সাইবার ক্রাইম থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন। সেই অভিযোগের ভিত্তিতে তদন্ত শুরু করে পুলিশ। দীর্ঘ তদন্তের পর শনিবার প্রথমে এক ব্যক্তিকে গ্রেফতার করা হয় বলে জানা গেছে। তাঁর সূত্র ধরেই তদন্তের পরিধি আরও বাড়ে।

পুলিশের দাবি, তদন্তে ওই ভুয়ো ব্যাংক অ্যাকাউন্ট খোলা এবং বিপুল পরিমাণ অর্থের লেনদেনের সঙ্গে আরও কয়েকজনের যোগসূত্রের তথ্য উঠে আসে। এরপর সোমবার কলকাতা থেকে ব্যাংকের ম্যানেজার-সহ আরও দু’জনকে গ্রেফতার করা হয়। ধৃতদের জিজ্ঞাসাবাদ করে এই বিপুল অঙ্কের অর্থের উৎস, কারা ওই অ্যাকাউন্ট ব্যবহার করত এবং কী উদ্দেশ্যে টাকা লেনদেন করা হয়েছে, তা জানার চেষ্টা করছেন তদন্তকারীরা।

তদন্তকারীদের প্রাথমিক অনুমান, ভুয়ো পরিচয় ও নথি ব্যবহার করে অ্যাকাউন্ট খুলে সেটিকে বেআইনি আর্থিক লেনদেনের কাজে ব্যবহার করা হয়ে থাকতে পারে। বিপুল অঙ্কের টাকা ঘোরানোর মাধ্যমে কালো টাকা সাদা করার কোনও চক্র এর পিছনে রয়েছে কি না, সেই বিষয়টিও খতিয়ে দেখা হচ্ছে।

এখনও পর্যন্ত এই ঘটনায় কতজন জড়িত এবং মোট কত টাকা ওই অ্যাকাউন্টের মাধ্যমে লেনদেন হয়েছে, তা তদন্তের পরই স্পষ্ট হবে বলে পুলিশ জানিয়েছে। ব্যাংক সংক্রান্ত নথি, অ্যাকাউন্টের লেনদেন এবং অভিযুক্তদের ভূমিকা খতিয়ে দেখে গোটা চক্রের সন্ধান চালাচ্ছে বনগাঁ সাইবার ক্রাইম থানার পুলিশ।
