প্রচ্ছদলেটেস্ট নিউজদেশপশ্চিমবঙ্গকলকাতাউত্তরবঙ্গজেলাব্যবসাবিনোদনখেলাআন্তর্জাতিকবাংলাদেশফটো গ্যালারিভ্রমণকাহিনীসম্পাদকের পছন্দসরাসরিইউটিউবই-পেপার
Breaking News
•‘যাঁদের বিরুদ্ধে লড়াই, সেই বামেরাই বন্ধু মমতার’, সিপিআইএম-এর সঙ্গে হাত মেলাতেই কটাক্ষ শুভেন্দুর •‘আপনারা বাংলা নিয়েছেন, আমরা দিল্লি নেব’,জ্ঞানেশ-ইস্যুতে আন্দোলনের হুঁশিয়ারি মমতার! বুধে থাকবেন ইন্ডিয়া বৈঠকে •বৃষ্টি কি এ বার পিছু ছাড়বে না?  কী বলছে হাওয়া অফিস? নিম্নচাপ কেটে গেলেও স্বস্তি নেই! ছাতা ছাড়া বেরলেই বিপদ, আজও কলকাতায় ভারী বর্ষণ, জেলায় জেলায় বাড়তি সতর্কতা জারি •ব্যাপক রদবদল, পুরভোটের আগে সংগঠনের খোলনলচে বদলে ফেলল বিজেপি , সরানো হলো শর্বরীকে, বাদ অগ্নিমিত্রা- জগন্নাথ, কে কোন পদে এলেন? •‘একতরফা’ সিদ্ধান্ত বাতিলের আর্জি, জ্ঞানেশ কুমারের বিরুদ্ধে সুপ্রিম কোর্টে জনস্বার্থ মামলা

‘যাঁদের বিরুদ্ধে লড়াই, সেই বামেরাই বন্ধু মমতার’, সিপিআইএম-এর সঙ্গে হাত মেলাতেই কটাক্ষ শুভেন্দুর

deshersamay

Share article:

“সিপিএম-এর বিরোধিতার উপর দাঁড়িয়ে তৃণমূলের জন্ম। সেই তৃণমূল এখন বামেদের সঙ্গে হাত মেলাচ্ছে।” এবার মমতা ও বামেদের একযোগে রেখে কড়া ভাষায় আক্রমণ করলেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। দিন কয়েক আগেই সিপিএমের সাধারণ সম্পাদক এমএ বেবির সঙ্গে ফোনে কথা বললেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় । জ্ঞানেশ কুমার বিতর্ক নিয়ে দেশের সব বিরোধী নেতাদের পাশাপাশি মমতাকে আগেই চিঠি লিখেছিলেন এম এ বেবি। এরপর থেকেই জোর চর্চা শুরু হয়। এরপর শনিবার শ্রীরামপুরের সভা থেকে জোটবার্তা দেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। স্পষ্ট জানিয়ে দেন, বিজেপিকে রুখতে আর লাল-নীল-হলুদ দেখবেন না তিনি। এবার মমতা-সিপিএমের এই ‘বন্ধুত্ব’-কেই কটাক্ষ করলেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী।

বিগত বিধানসভা নির্বাচনে চরম পরাজয়ের পর চরম হতাশা থেকেই বিরোধী দলগুলি নানা মিথ্যা অপপ্রচার শুরু করেছে বলে পাল্টা সুর চড়ালেন রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী ।

রবিবার রাজ্য বিজেপির সদর দফতরে সাংবাদিক বৈঠক করেন শুভেন্দু অধিকারী। 

এদিন তিনি জানান, সাম্প্রতিক একটি সংবাদপত্রের প্রতিবেদনকে কেন্দ্র করে বিভ্রান্তি ও ইচ্ছে করে বিতর্ক তৈরি করতে চাইছে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের  দল তৃণমূল কংগ্রেস ও বামফ্রন্ট। তাঁর মূল বক্তব্য, যে সিপিআইএম-এর ৩৪ বছরের নৃশংস শাসন থেকে রাজ্যবাসীকে মুক্ত করতে তৃণমূল প্রতিষ্ঠিত হয়েছিল, ক্ষমতার মোহে আজ সেই সিপিআইএম-এর সঙ্গে হাতে হাত মিলিয়ে লড়াই করছে এআইটিসি।

সাংবাদিক সম্মেলনে মুখ্যমন্ত্রী মনে করিয়ে দেন তৃণমূলের প্রতিষ্ঠার ইতিহাস। তিনি বলেন, “একসময় কংগ্রেস থেকে ঘাড় ধাক্কা খাওয়ার পর মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় তৃণমূল গঠন করেছিলেন ৩৪ বছরের সিপিআইএম সরকারের অত্যাচার থেকে বাংলাকে মুক্তি দিতে। যে সিপিআইএম সাঁইবাড়ি ঘটিয়েছিল, নন্দীগ্রামের মহিলাদের সম্মানহানি করেছিল, ধানতলা কিংবা তিলজলায় আনন্দমার্গীদের পুড়িয়ে মেরেছিল এবং রাজ্যের ৫৪ হাজার কলকারখানা বন্ধ করে দিয়েছিল— আজ ক্ষমতার তাগিদে তাদের সঙ্গেই হাত মিলিয়েছেন মমতা।” মুখ্যমন্ত্রী আরও কটাক্ষ করে বলেন, “যে সিপিআইএম-এর নাম ও নিশান কার্যত বাংলা থেকে মুছে গেছে, আজ মহাশূন্যে বিচরণ করা সেই দলের সঙ্গে তৃণমূলের এই আঁতাত তাদের রাজনৈতিক দেউলিয়াপনাকেই স্পষ্ট করে।”

শুভেন্দুর দাবি, এর আগেও বিধানসভায় মমতা-সিপিএম-এর সখ্যতা নজরে এসেছিল তাঁর। এই বিষয়ে বলেন, “সেই বন্ধুত্ব আমরা কিছুদিন আগে বিধানসভার ভিতরেও দেখেছি। অধ্যাপক সংক্রান্ত বিলে সমর্থন না করে যখন তৃণমূল ওয়াকআউট করল, সেদিন আমরা দেখলাম ১৫টি ভোট পড়েছিল। তার মধ্যে মমতা তৃণমূলও ছিলেন, ডোমকলের সিপিএম বিধায়কও ছিলেন। যে তৃণমূল কংগ্রেস সিপিএমের অত্যাচারের বিরুদ্ধে প্রতিষ্ঠা হয়েছিল, সেই মমতা তৃণমূল কংগ্রেস সিপিএমের সঙ্গে হাত মেলালেন।”

নির্বাচনী ফলাফলের তথ্য তুলে ধরে তিনি জানান, জনগণ স্পষ্ট ম্যান্ডেট দিয়েছে। তাঁদের পক্ষ জয় পেয়েছে ২০৮টি আসনে এবং বিপক্ষ দুই দল মিলে পেয়েছে মাত্র ৮০টি আসন। প্রায় ২ কোটি ৯২ লক্ষ্য মানুষের এই বিশাল ম্যান্ডেটকে তৃণমূল ও বামফ্রন্ট স্বীকার করতে চাইছে না। শুভেন্দুর দাবি, “আপনাদের তৈরি করা দুর্নীতির সাম্রাজ্য আজ ধ্বংসের মুখে। কয়লা, বালি, পাথর চুরি, অবৈধ টোল এবং চাকরি চুরির মতো অপরাধ করার পর আপনারা আতঙ্কে ভুগছেন, কারণ রাজ্যের বিপুল জনরোষ এখনও বজায় রয়েছে।”

SIR প্রক্রিয়ার ওপর তোলা সমস্ত অভিযোগ নস্যাৎ করে শুভেন্দু অধিকারী জানান, গতকালের স্পষ্ট ছবি প্রমাণ করে দেয় যে এসআইআর সর্বসম্মতি ক্রমেই সম্পন্ন হয়েছে। বাম ও কংগ্রেসকে নিশানা করে তিনি বলেন, “কেরালাতে কংগ্রেস যেহেতু জিতেছে, তাই তারা সেখানে এসআইআর-কে সমর্থন করছে। আর এখানে সোশ্যাল মিডিয়া এবং টক শো-তেই সীমাবদ্ধ থেকে গেছে সিপিআইএম। রায়গঞ্জ থেকে বারবার হেরে ক্লান্ত হয়ে পড়া মহম্মদ সেলিম কিংবা মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় আজ একই সুর মিলিয়ে আজাদী স্লোগান তুলছেন।” শুভেন্দু বাবু কটাক্ষের সুরে পরামর্শ দেন, পারলে এম এ বেবি, মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় এবং রাহুল গান্ধী কেরালায় গিয়ে একসঙ্গে আন্দোলন শুরু করুন।

বর্তমান সরকারের উন্নয়নমূলক কাজের খতিয়ান দিয়ে শুভেন্দু বাবু উল্লেখ করেন, সমস্ত আইনি জটিলতা ও ওবিসি জোট কাটিয়ে ১২ হাজার পদে নিয়োগ সম্পন্ন হয়েছে এবং ৪ লক্ষ কৃষক পরিবারকে সরাসরি ভর্তুকি প্রদান করা হয়েছে। সম্প্রতি বিরোধীদের জনসভার প্রসঙ্গে ছবি ও সংবাদমাধ্যমের ভূমিকা নিয়েও প্রশ্ন তোলেন তিনি। শুভেন্দুর দাবি, “ওদের সভায় ১৭০ জন পুলিশ ও সিভিক ভলান্টিয়ার ছাড়া আর কেউ ছিল না, পুরো মাঠ ফাঁকা ছিল। একটি চ্যানেল তো পুরো সভার ছবি না দেখিয়ে শুধু সামনের অংশ দেখিয়ে আসল সত্য গোপন করার চেষ্টা করেছে।” তিনি স্পষ্ট জানান, মিথ্যা অপপ্রচার ছড়িয়ে জনগণের দেওয়া ঐতিহাসিক রায়কে ছোট করার যে অপচেষ্টা চলছে, তা বাংলার মানুষ কোনওভাবেই মেনে নেবে না।

শ্রীরামপুরে মমতার সভা নিয়েও কটাক্ষ করেন শুভেন্দু অধিকারী। তিনি বলেন, “কার্যত জনশূন্য শ্রীরামপুর কোর্ট ময়দানের সভাতে ১৫০ জন লোক ছিল। আর পুলিশ ছিল ১৭০। তার মধ্যেই উনি ঘণ্টা চারেক যে ভাষায় কথা বলে গিয়েছেন, ঠিক একই ভাষায় রেজিনগরে গিয়ে একাধিক নির্বাচনে হারা সেলিম সাহেব। বারবার হেরেছেন। এবারের নির্বাচনে লড়ার ঝুঁকি নেননি। তিনিও একই ভাষায় কথা বলেছেন।”

একটি মন্তব্য করুন

আপনার ইমেল ঠিকানা প্রকাশ করা হবে না। চিহ্নিত ক্ষেত্রগুলি আবশ্যক *

Home Language Gallery e-Paper
Menu
© 2026 Desher Samay.

Select Language

ভাষা নির্বাচন করুন