Iran Supreme Leader: ইরানের নতুন সুপ্রিম লিডার খামেনেইয়ের পুত্র মোজতবা , উত্তরসূরীর তালিকায় ছিল না এই ছেলের নাম

0
127

বছর ৫৬-র মোজতাবা ‘ইসলামিক রেভলিউশনারি গার্ড’বাহিনীর দায়িত্বে রয়েছেন। যদিও তা অঘোষিত। এছাড়া একাধিক শিয়া মুসলিম সংগঠনের শীর্ষ পদেও রয়েছেন তিনি। সেই মোজতাবা খামেনেই এখন ইরানের মাথা। জানা গিয়েছে, এবার যুদ্ধের নেতত্ব দেবেন মোজতাবা।

আয়াতোল্লা খামেনেইয়ের উত্তরসুরী ঘোষণা করল ইরান। সেদেশের কুর্সিতে বসতে চলেছেন খামেনেইয়ের দ্বিতীয় পুত্র মোজতাবা খামেনেই। ইরানের সংবাদমাধ্যম সূত্রে এমনই খবর পাওয়া গিয়েছে। 

ইরানের সংবাদমাধ্যম ইরান ইন্টারন্যাশনাল এক চাঞ্চল্যকর প্রতিবেদন প্রকাশ করে জানিয়েছে, প্রয়াত নেতা খামেনেইয়ের ছেলে মোজতবাকে দেশের নতুন সর্বোচ্চ নেতা হিসেবে নির্বাচিত করেছে ইরানের বিশেষ ধর্মীয় পরিষদ ‘অ্যাসেম্বলি অব এক্সপার্টস’। যদিও এই দাবির বিষয়ে তেহরান থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে এখনও কোনও নিশ্চিত ঘোষণা আসেনি, তবুও খবরটি ঘিরে পশ্চিম এশিয়ায় জোর চর্চা শুরু হয়েছে।

প্রতিবেদন অনুযায়ী, ৫৬ বছর বয়সী মোজতবা খামেনেই দীর্ঘদিন ধরেই সম্ভাব্য উত্তরসূরি হিসেবে আলোচনায় ছিলেন। তিনি আলি খামেনেইর দ্বিতীয় জ্যেষ্ঠ পুত্র এবং প্রভাবশালী নেতা হিসেবে পরিচিত। দাবি করা হয়েছে, সাম্প্রতিক মার্কিন-ইজরায়েলি যৌথ হামলায় আলি খামেনেই নিহত হওয়ার পরই দ্রুত এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। সেই হামলার জেরে মধ্যপ্রাচ্যে ইতিমধ্যেই সর্বাত্মক সশস্ত্র সংঘাতের পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে।

ইরান নিজেকে বরাবরই রাজতান্ত্রিক শাসনের বিরোধী এবং ইসলামি প্রজাতন্ত্র হিসেবে পরিচয় দিয়েছে। সেই প্রেক্ষাপটে পিতা থেকে পুত্রের হাতে ক্ষমতা হস্তান্তর হলে তা রাজনৈতিকভাবে সংবেদনশীল হয়ে উঠতে পারে। সমালোচকদের মতে, এতে ‘বংশানুক্রমিক শাসন’-এর অভিযোগ উঠতে পারে, যা ইরানের ঘোষিত আদর্শের সঙ্গে সাংঘর্ষিক।

প্রতিবেদনে আরও দাবি করা হয়েছে, ইসলামি বিপ্লবী গার্ড বাহিনী অ্যাসেম্বলির ধর্মীয় নেতাদের উপর ব্যাপক চাপ সৃষ্টি করেছিল যাতে তারা মোজতবাকে সমর্থন করেন। আলি খামেনেইর আমলে এই বাহিনী ইরানের রাজনীতি, অর্থনীতি ও সামরিক ক্ষেত্রে ব্যাপক প্রভাব বিস্তার করে।

ইরানের সর্বোচ্চ নেতা দেশের শিয়া ধর্মতান্ত্রিক কাঠামোর কেন্দ্রবিন্দু। রাষ্ট্রের সব গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত তাঁর হাতেই থাকে। একইসঙ্গে তিনি সশস্ত্র বাহিনীর সর্বাধিনায়কও। বিশ্লেষকদের মতে, মোজতবার সঙ্গে আইআরজিসি-র ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক রয়েছে এবং দীর্ঘদিন ধরেই তিনি সর্বোচ্চ নেতার কার্যালয়ের কার্যত তদারকি করতেন।

যদি এই নির্বাচন সত্যি হয়ে থাকে, তবে তা ইরানের ভবিষ্যৎ রাজনীতি ও আঞ্চলিক রাজনীতিতে বড় প্রভাব ফেলতে পারে।

প্রসঙ্গত, ইরানের সুপ্রিম লিডার হওয়ার দৌঁড়ে দুই থেকে তিনটি নাম ঘোরাফেরা করছিল। সেই তালিকায় মোজ়তাবার নাম তো ছিলই। এছাড়া, আলি লারিজানিও ইরানের ক্ষমতায় আসতে পারেন বলে খবর ছড়িয়েছিল। তিনি ইরানের সুপ্রিম ন্যাশনাল সিকিউরিটি কাউন্সিলের সেক্রেটারি। জানা গিয়েছে, ৬৭ বছরের আলির উপরই ভরসা ছিল খামেনেইয়ের। এছাড়া, আরও একটা জল্পনা চলছিল যে, ইরানে রাজতন্ত্র ফিরতে পারে। খামেনেই খতম হতেই ক্ষমতায় ফিরবেন বলে আত্মবিশ্বাসী ছিলেন রেজা পেহলভি। ১৯৭৯ সাল থেকে আমেরিকাতেই রয়েছেন। ইরান থেকে তাঁকে নির্বাসিত করা হয়েছিল। ওই সালে তেহরানে ইসলামিক বিপ্লবে তাঁর বাবা ক্ষমতাচ্যুত হওয়ার পরই ইরান থেকে নির্বাসিত করা হয়েছিল যুবরাজ পহেলভিকে।

সূত্রের খবর, ট্রাম্পের পছন্দের তালিকায় নাম রয়েছে রেজ়া পেহলভির। খামেনেইয়ের মৃত্যুর পরই তাঁকে আবার ইরানে ফিরিয়ে আনার চেষ্টা করছেন ট্রাম্প। এমনটাই শোনা যাচ্ছে। শুধু তাই নয়, ইরানের সর্বোচ্চ স্থান তাঁকেই দেওয়ার পরিকল্পনা নাকি করে ফেলেছিলেন ট্রাম্প।

Previous articleবুশেহরে আমেরিকা-ইজ়রায়েলের হামলায় ধ্বংসস্তূপে পরিণত হল ইরান এয়ারের যাত্রীবাহী বিমান!
Next articleদিঘার চেয়ে কাছে, মন্দারমণির চেয়ে সস্তা! এই সৈকতে কাটিয়ে আসুন উইকেন্ড

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here