কলকাতা: “৯ র পিঠে ৯ না দেখলে নয়” — এক চিরকালীন বাঙালি প্রবাদে ভর করে তৈরি এই স্লোগানটি শুধু হাস্যরস নয়, বরং ঘরোয়া আবেগ, নস্টালজিয়া ও খাদ্যসংস্কৃতির প্রতি ভালোবাসার এক নিটোল প্রকাশ।
রথযাত্রার সকালে থিম প্রকাশ করে আদি বালিগঞ্জ সর্বজনীন দুর্গোৎসব পরিষদে ২০২৫-এর দুর্গাপুজোর আনুষ্ঠানিক সূচনা হল খুঁটি পুজোর মধ্য দিয়ে। ঢাকের বাদ্যি, ধূপের গন্ধ আর ভক্তির সুরে মুখর হয়ে উঠল আদি বালিগঞ্জ চত্বর।

৯৯ বছরের এক ঐতিহ্যময় যাত্রাপথে পা রেখে, আদি বালিগঞ্জ সার্বজনীন দুর্গোৎসব পরিষদ শুধু একটি পুজো মণ্ডপ নয়, এটি পরিণত হয়েছে শহরের সংস্কৃতি, শ্রদ্ধা ও সৃজনশীলতার এক অন্যতম আলয় হিসেবে। খুঁটি পুজোর এই আয়োজন ছিল একদিকে আধ্যাত্মিকতার স্পর্শ, অন্যদিকে প্রায় এক শতাব্দীর ভালোবাসা, একতা ও গর্বের এক মহোৎসব। দেখুন ভিডিও

অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন শহরের নানা স্তরের বিশিষ্টজনেরা, যাঁরা তাঁদের উপস্থিতিতে এই উৎসবকে করে তুলেছিলেন আরও বর্ণময়। যেমন বাবুল সুপ্রিয়, বালিগঞ্জ কেন্দ্রের বিধায়ক, যাঁর উপস্থিতি বরাবরই উৎসবকে এনে দেয় এক অন্য মাত্রা। দেবাশিস কুমার (রাশবিহারী কেন্দ্রের বিধায়ক) ও প্রতিমা মণ্ডল (জয়নগরের সাংসদ) তাঁদের আন্তরিকতা ও সমর্থন জানালেন পুজোর প্রতি।
৭০ নম্বর ওয়ার্ডের কাউন্সিলর অশীম বসু এবং ৮৬ নম্বর ওয়ার্ডের সৌরভ বসুও পুজোর মঙ্গলকামনায় অংশ নেন।
সন্দীপ রঞ্জন বক্শী, এমএমআইসি (Lighting), প্রতিশ্রুতি দেন এক অনন্য আলোকসজ্জার।

মোহনবাগানের সভাপতি দেবাশিস দত্ত এবং সচিব সৃঞ্জয় বসু তাঁদের উপস্থিতিতে ফুটবলপ্রেমী শহরের ভাবনাকে পুজোর সঙ্গে জুড়ে দেন। ইস্ট বেঙ্গল ক্লাবের ক্রিকেট সচিব সঞ্জীব আচার্য তুলে ধরেন খেলার সঙ্গে সংস্কৃতির মেলবন্ধন।

জনপ্রিয় অভিনেত্রী দেবলীনা কুমার ও চলচ্চিত্র পরিচালক দেবালয় ভট্টাচার্য তাঁদের উপস্থিতিতে উৎসবে যোগ করেন শিল্প ও সংস্কৃতির এক মাধুর্যময় পরশ।
এ বছরের প্রতিমা গড়ছেন স্বনামধন্য শিল্পী নব কুমার পাল — যাঁর হাতের গড়ন যেমন প্রাচীন পরম্পরার প্রতি শ্রদ্ধাশীল, তেমনই প্রতিফলিত করে আধুনিকতার সূক্ষ্ম ছোঁয়া। প্রতিমা দর্শনার্থীদের জন্য এক শিল্পমুগ্ধ অভিজ্ঞতা নিয়ে আসবে বলে জানান ক্লাব সদস্যরা।
প্রতি বছর এই পুজো যেমন বিস্তৃত হয়েছে আয়তনে, তেমনই আরও গভীরভাবে প্রোথিত হয়েছে কলকাতার মানুষের হৃদয়ে। নবতিপর এই অধ্যায়ে প্রবেশ করেই শুরু হয়ে গেল শতবর্ষের জন্য অপেক্ষা — এক শতাব্দীর উৎসব, বিশ্বাস, শিল্প ও মানবিকতার মিলিত গাথা।
এক শহরে, যেখানে দুর্গাপুজো শুধুমাত্র উৎসব নয়, বরং এক গভীর অনুভব — সেখানেই আদি বালিগঞ্জ সর্বজনীন দুর্গোৎসব আজও জ্বলজ্বল করছে ঐতিহ্য ও আধুনিকতার যুগলবন্দিতে।



