দুই হেলিকপ্টারের ধাক্কা, এভারেস্টের কাছে ভয়াবহ দুর্ঘটনা, মৃত ১ ভারতীয়,ক্যামেরায় ধরা পড়ল ভয়াবহ সেই মুহূর্ত
deshersamay

নেপালে মাউন্ট এভারেস্টের কাছে ভয়াবহ দুর্ঘটনা। অবতরণের সময়ে পরস্পরের সঙ্গে ধাক্কা লেগে ভেঙে পড়ল দু’টি হেলিকপ্টার। এই ঘটনায় এক বিদেশি পর্যটকের মৃত্যু হয়েছে। আহত হয়েছেন অন্তত দু’জন। মঙ্গলবার সকালে এভারেস্ট বেস ক্যাম্পের কাছে ঘটেছে এই ভয়াবহ দুর্ঘটনা। কাঠমান্ডু পোস্টের দাবি, মৃত পর্যটক ভারতীয় নাগরিক। তাঁর নাম বসন্ত কুমার বলে খবর। যদিও নেপাল প্রশাসন বিষয়টি এখনও নিশ্চিত করেনি।

নেপালের অসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষের মতে, দু’টি হেলিকপ্টারই একই সময়ে হেলিপ্যাডের দিকে এগিয়ে আসছিল। সে সময়েই এই বিপত্তি। ঘটনাটির সিসিটিভি ফুটেজে দেখা গিয়েছে, অবতরণের সময়ে হেলিকপ্টার দু’টির রোটর ব্লেডের ধাক্কা লাগে। এর পরে হেলিকপ্টার দু’টিই ভেঙে পড়ে। একটি হেলিকপ্টার মুখ থুবড়ে পড়ায় ক্ষতির আশঙ্কা আরও বেশি।

সোলুখুম্বু জেলার পুলিশ প্রধান মৌসম তামাং জানিয়েছেন, এভারেস্ট বেস ক্যাম্পের কাছে দু’টি হেলিকপ্টারের সংঘর্ষ হয়। ধাক্কার জেরে দু’টিই ভেঙে পড়ে। ঘটনায় এক বিদেশির মৃত্যু হয়েছে। আহত হয়েছেন অন্তত এক নেপালি নাগরিক।

অন্য দিকে, নেপালের সোলুখুম্বু জেলার সহকারী মুখ্য জেলা আধিকারিক ভূপেন্দ্র থাপা জানিয়েছেন, দুর্ঘটনায় দু’জন আহত হয়েছেন। তাঁদের মধ্যে একজনকে হেলিকপ্টারে করে লুকলায় নিয়ে যাওয়া হয়েছে চিকিৎসার জন্য।
দুর্ঘটনাগ্রস্ত হেলিকপ্টার দু’টি পরিচালনা করত নেপালের Fish Tail Air এবং Dynasty Air সংস্থা। নেপালের সিভিল অ্যাভিয়েশন অথরিটির (CAAN) উপ-মুখপাত্র জ্ঞানেন্দ্র জানিয়েছেন, একটি হেলিকপ্টার লুকলা থেকে আসছিল। অন্যটি এভারেস্ট বেস ক্যাম্পের কাছে গোরক্ষেপ এলাকা থেকে ফিরছিল। দু’টি হেলিকপ্টারই একই জায়গায় অবতরণের চেষ্টা করছিল। সেই সময়েই সংঘর্ষ ঘটে।
NEW: Two helicopters operated by Fish Tail Air and Dynasty Air have collided and crashed at Everest Base Camp, leaving one foreign national dead and one Nepali injured.📍 Solukhumbu District, Nepal. pic.twitter.com/BZCk3q3dLt
— Weather Monitor (@WeatherMonitors) November 3, 2026
দুর্ঘটনার খবর পেয়ে উদ্ধারকাজে নামে স্থানীয় প্রশাসন। ঘটনার তদন্ত শুরু করেছে নেপালের সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ। দুর্ঘটনাগ্রস্ত হেলিকপ্টার দু’টির যাত্রী ও কর্মীদের সম্পর্কে বিস্তারিত তথ্য সংগ্রহ করা হচ্ছে।
প্রাথমিক অনুমান, তুষারে ঢেকে যাওয়া হেলিপ্যাডের কারণে এই দুর্ঘটনা ঘটে থাকতে পারে। বরফে ঢাকা একটি হেলিপ্যাডের পরিবর্তে অন্য জায়গায় অবতরণের চেষ্টা করেছিল কি না, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে। তবে দুর্ঘটনার প্রকৃত কারণ এখনও স্পষ্ট নয়। ঘটনার তদন্ত শুরু করেছে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ।

উল্লেখ্য, এভারেস্ট অঞ্চলে পর্যটক, পর্বতারোহী ও জরুরি উদ্ধারকাজের জন্য হেলিকপ্টার অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ পরিবহণ মাধ্যম। কিন্তু আবহাওয়ার দ্রুত পরিবর্তন এবং প্রতিকূল পরিবেশের কারণে হেলিকপ্টার চলাচল যথেষ্ট ঝুঁকিপূর্ণ। বিশেষত উঁচু পাহাড়ি এলাকায় অবতরণের জন্য নির্দিষ্ট জায়গা ও আবহাওয়ার পরিস্থিতির উপর হেলিকপ্টারের সুরক্ষিত ভাবে টেকঅফ ও ল্যান্ডিং নির্ভর করে। বিশেষত পিক ট্যুরিজ়ম মরশুমে ফেরিচের মতো উঁচু পার্বত্য এলাকায় হেলিকপ্টারের যাতায়াত বাড়ে। ফলে এই দুর্ঘটনার পরে হিমালয় অঞ্চলে বিমান চলাচলের নিরাপত্তা নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন উঠেছে।

বিশেষজ্ঞদের মতে, উচ্চতা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে বাতাসের ঘনত্ব কমে যায়। ফলে হেলিকপ্টারের রোটর ব্লেড বাতাসের অণুর উপর কম চাপ প্রয়োগ করতে পারে। এতে পর্যাপ্ত লিফট বা উত্তোলন ক্ষমতা তৈরি করা কঠিন হয়ে পড়ে। অন্য দিকে, বাতাসে অক্সিজেনের ঘনত্ব কম থাকায় ইঞ্জিনেও জ্বালানির কাজ ব্যাহত হয়। ফলে ইঞ্জিনের কার্যক্ষমতা ও শক্তি উৎপাদন কমে যায়। সব মিলিয়ে উঁচু পাহাড়ি এলাকায় হেলিকপ্টার ওড়ানো এবং অবতরণ করানো যথেষ্ট ঝুঁকিপূর্ণ।
