প্রচ্ছদলেটেস্ট নিউজদেশপশ্চিমবঙ্গকলকাতাউত্তরবঙ্গজেলাব্যবসাবিনোদনখেলাআন্তর্জাতিকবাংলাদেশফটো গ্যালারিভ্রমণকাহিনীসম্পাদকের পছন্দসরাসরিইউটিউবই-পেপার
Breaking News

CycloneArnabLIVE: মধ্যরাতেই শুরু তাণ্ডব! এগিয়ে এল অর্ণবের ল্যান্ডফলের সময়, দক্ষিণবঙ্গে ভারী বৃষ্টি

deshersamay

Share article:

সময়ের আগেই ল্যান্ডফল অর্ণবের । গতি বাড়াচ্ছে সাইক্লোন। নির্ধারিত সময়ের আগেই আছড়ে পড়বে ঘূর্ণিঝড় অর্ণব। আজ রাত ২টো থেকে ৪টের মধ্যে ল্যান্ডফল হওয়ার সম্ভাবনা।

ঘূর্ণিঝড়ের আশঙ্কায় এখনই আতঙ্কের কারণ নেই, সতর্ক নজরদারি চলছে: মুখ্যমন্ত্রী:

ঘূর্ণিঝড়ের সম্ভাবনা নিয়ে এখনই আতঙ্কিত হওয়ার কোনও কারণ নেই বলে জানালেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। তবে পরিস্থিতির উপর সতর্ক নজর রাখা হচ্ছে বলে জানিয়েছেন তিনি। মঙ্গলবার, দিল্লি থেকে ফিরে ভবানীভবনে যান মুখ্যমন্ত্রী। সেখানেই ঘূর্ণিঝড়ের সম্ভাবনা এবং তা মোকাবিলায় রাজ্য প্রশাসনের প্রস্তুতি নিয়ে বক্তব্য রাখেন তিনি।

মুখ্যমন্ত্রী জানান, পরিস্থিতি নিয়ে আতঙ্কিত হওয়ার প্রয়োজন না থাকলেও কোনও রকম অসতর্কতা বরদাস্ত করা হবে না। ঘূর্ণিঝড়ের গতিপথ, তীব্রতা এবং সম্ভাব্য প্রভাবের উপর নজর রাখা হচ্ছে। আবহাওয়ার পরিস্থিতি কীভাবে পরিবর্তিত হচ্ছে, তার উপর ভিত্তি করেই পরবর্তী পদক্ষেপ করা হবে বলে তিনি জানান।

কয়েক মিনিটের ঝড়ে লন্ডভন্ড দাঁতন, অর্ণব আসার আগেই তাণ্ডব পশ্চিম মেদিনীপুরে ।

আবহাওয়া দফতরের পূর্বাভাস ছিল‌ই অর্ণব আসছে। বাংলাতে বৃষ্টি হবে জানিয়েছিল হাওয়া অফিস। হাওয়া অফিসের পূর্বাভাস মিলিয়েই শুরু হয়েছে বৃষ্টি। উপকূল এলাকায় প্রভাব পড়তে শুরু করেছে অর্ণব-এর। সুন্দরবনের কুলতলির দেউলবাড়ি-দেবীপুর গ্রাম পঞ্চায়েতের বিস্তীর্ণ এলাকায় প্রভাব পড়ার আশঙ্কা। ইতিমধ্যেই শুরু হয়েছে বৃষ্টি। সুন্দরবনের সাধারণ মানুষ ভীত।

পূর্ব মেদিনীপুরের রামনগর, পটাশপুরে শুরু বৃষ্টি। খড়্গপুরে গাছ পড়েছে। বিদ্যুৎহীন দাঁতন। ‌সমুদ্রে না নামার জন্য দিঘায় চলছে মাইকিং।

ঘূর্ণিঝড়ের প্রভাব প্রত্যক্ষভাবে না পড়লেও পরোক্ষভাবে পড়বে কলকাতায়। হালকা থেকে মাঝারি বৃষ্টির সম্ভাবনা কলকাতাতার বিস্তীর্ণ এলাকায়।

মাত্র ৬ ঘণ্টায় তীব্র থেকে অতি তীব্র ঘূর্ণিঝড়ে পরিণত হয়েছে অর্ণব। অন্ধ্র ও দক্ষিণ ওড়িশায় লাল সতর্কতা জারি। পাশাপাশি পুরীতে ঝড়-বৃষ্টির কমলা সতর্কতা। কলকাতা, হাওড়ায় বৃষ্টির পূর্বাভাস। মধ্যরাতেই  বৃষ্টি শুরু হয়েছে উত্তর ২৪ পরগনাতেও।

মৎস্যজীবীদের নিষেধ করা হয়েছে সমুদ্রে যেতে। জলোচ্ছ্বাস হলে নদীতে বাঁধা নৌকা ডুবে যায়,ভেঙে তলিয়ে যায়। পাশাপাশি সাইক্লোনের দাপটের জন্য আতঙ্কে সুন্দরবনের মানুষজন। আয়লা থেকে আমফান, বুলবুল থেকে ইয়াস। প্রত্যেকবারই ঘূর্ণিঝড় তছনছ করে দিয়েছে তাঁদের জীবন। সব মিলিয়ে প্রশাসন সতর্ক।

অতি তীব্র ঘূর্ণীঝড়ে পরিণত হয়ে গিয়েছে অর্ণব। IMD তথ্য অনুযায়ী, আগামী ২৮ অক্টোবর সকালে ঝড়টি অন্ধ্রপ্রদেশ ও ইয়ানাম উপকূলের বাপাতলা এবং বিশাখাপত্তনমের মধ্যবর্তী ইয়ানামের কাছে স্থলভাগে আঘাত হানতে পারে। স্থলভাগে আঘাত হানার সময় বাতাসের গতিবেগ হবে ঘণ্টায় ১১৫ থেকে ১২৫ কিলোমিটার এবং দমকা হাওয়ার গতিবেগ ঘণ্টায় ১৪০ কিলোমিটার পর্যন্ত হতে পারে। ঘর্ণিঝড় অর্ণবের মোকাবিলায় ইতিমধ্যেই ৮৯,০০০ মানুষকে নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নেওয়া হয়েছে। অনেক ট্রেন বাতিল করা হয়েছে। স্কুল বন্ধ রয়েছে। ভারী বৃষ্টি ও বন্যার আশঙ্কাও রয়েছে।

কখন হবে ল্যান্ডফল?
গত ছ’ঘণ্টায় প্রায় ১৫ কিলোমিটার প্রতি ঘণ্টার বেগে পশ্চিম দিকে এগিয়েছে ঘূর্ণিঝড় অর্ণব। মঙ্গলবার সকালে সেটি পূর্ব-মধ্য এবং সংলগ্ন পশ্চিম-মধ্য বঙ্গোপসাগরে অবস্থান করছে।  বুধবার সকাল থেকে অতি শক্তিশালী ঘূর্ণিঝড় হিসেবে অন্ধ্রপ্রদেশ উপকূলের দিকে এগোবে অর্ণব। সকাল ১১টা থেকে দুপুর ১টার মধ্যে বাপতলা ও বিশাখাপত্তনমের মাঝামাঝি ইয়ানামের কাছে স্থলভাগে আছড়ে পড়ার সম্ভাবনা রয়েছে। সেই সময় ঘূর্ণিঝড়ের গতিবেগ ঘণ্টায় ১২৫ কিলোমিটার হতে পারে। ঝোড়ো হাওয়ার সর্বোচ্চ গতিবেগ পৌঁছতে পারে ঘণ্টায় ১৪০ থেকে ১৫০ কিলোমিটারে। স্থলভাগে ঢোকার পর ধীরে ধীরে শক্তি হারাবে অর্ণব। বৃহস্পতিবার গভীর নিম্নচাপে পরিণত হয়ে পূর্ব উপকূল বরাবর এগিয়ে বিহার হয়ে নেপালের দিকে যেতে পারে সেটি।

বাংলায় কতটা প্রভাব? 
অন্ধ্রে ল্যান্ডফলের পরেই ডানদিকে বাঁক দিতে পারে এই অর্ণব। সেই বাঁক নেওয়ার জন্যই পশ্চিমবঙ্গে ঘূর্ণিঝড়ের পরোক্ষ প্রভাব পড়তে চলেছে। উপকূল ও পশ্চিমাঞ্চলের জেলাগুলিতে সতর্কতা জারি করা হয়েছে। দক্ষিণ ২৪ পরগনা থেকে পশ্চিম বর্ধমান পর্যন্ত একাধিক জেলায় কোথাও কোথাও ভারী বৃষ্টি হতে পারে। তবে  আজ বাংলায় বৃষ্টির সম্ভাবনা খুবই কম।  বুধবার পশ্চিমবঙ্গের একাধিক জেলায় ভারী বৃষ্টি হতে পারে। কলকাতা ও শহরতলির যে পূর্বাভাস, তাতে হালকা থেকে মাঝারি বৃষ্টি হতে পারে। বৃহস্পতিবার, শুক্রবার বৃষ্টি হতে পারে উত্তরবঙ্গের জেলাগুলিতেও। পশ্চিমী ঝঞ্ঝার কারণে সিকিমের উঁচু জায়গা তুষারপাতের সম্ভাবনা আছে। বিহার, উত্তরপ্রদেশ, ঝাড়খণ্ডেও সতর্কতা রয়েছে।

কোন কোন জেলায় বৃষ্টি?
মঙ্গলবার পূর্ব মেদিনীপুর ও দক্ষিণ ২৪ পরগনায় হালকা থেকে মাঝারি বৃষ্টি হতে পারে। বুধবার বৃষ্টির পরিমাণ বাড়ার সম্ভাবনা রয়েছে। পূর্ব ও পশ্চিম মেদিনীপুর, ঝাড়গ্রাম, কলকাতা, হাওড়া, হুগলি এবং উত্তর ও দক্ষিণ ২৪ পরগনার বিভিন্ন এলাকায় বৃষ্টির সম্ভাবনা রয়েছে। হাওয়া অফিস বলছে, বুধবার পূর্ব ও পশ্চিম মেদিনীপুর, ঝাড়গ্রাম এবং দক্ষিণ ২৪ পরগনার কিছু এলাকায় ভারী বৃষ্টি হতে পারে। ঘণ্টায় ৪০ থেকে ৫০ কিলোমিটার বেগে ঝোড়ো হাওয়া বইতে পারে বলেও পূর্বাভাস রয়েছে। বৃহস্পতিবারও দক্ষিণবঙ্গের একাধিক জেলায় বৃষ্টির সম্ভাবনা রয়েছে। বিশেষ করে পশ্চিমাঞ্চলের জেলাগুলিতে আবহাওয়ার পরিস্থিতির দিকে নজর রাখছে হাওয়া অফিস।

ঘূর্ণিঝড়ের পরোক্ষ প্রভাবে মঙ্গলবার থেকেই দক্ষিণবঙ্গের একাধিক জেলায় বৃষ্টি হতে পারে। পূর্ব ও পশ্চিম মেদিনীপুর, উত্তর ও দক্ষিণ ২৪ পরগনা, ঝাড়গ্রাম, কলকাতা, হাওড়া ও হুগলির কিছু এলাকায় হালকা থেকে মাঝারি বৃষ্টির পূর্বাভাস রয়েছে। সঙ্গে ঘণ্টায় ৩০ থেকে ৪০ কিলোমিটার বেগে দমকা হাওয়া বইতে পারে। বুধবার দক্ষিণবঙ্গের সব জেলাতেই বৃষ্টির সম্ভাবনা। সবচেয়ে বেশি বৃষ্টি হতে পারে পূর্ব মেদিনীপুরে। সেখানে একদিনে ১৩০ মিলিমিটার পর্যন্ত বৃষ্টি হতে পারে। দক্ষিণ ২৪ পরগনা, পশ্চিম মেদিনীপুর  মেদিনীপুর উপকূলে ঘণ্টায় ৬০ কিলোমিটার এবং অন্য উপকূলবর্তী জেলায় ঘণ্টায় ৪০ থেকে ৫০ কিলোমিটার বেগে ঝোড়ো হাওয়া বইতে পারে। সমুদ্র উত্তাল হওয়ার পাশাপাশি পূর্ব মেদিনীপুর ও দক্ষিণ ২৪ পরগনার নিচু এলাকা প্লাবিত হওয়ার আশঙ্কাও রয়েছে।

বৃহস্পতিবার পূর্ব ও পশ্চিম মেদিনীপুর, ঝাড়গ্রাম, বাঁকুড়া, পুরুলিয়া এবং পশ্চিম বর্ধমানে ভারী বৃষ্টির পূর্বাভাস রয়েছে। শুক্র ও শনিবার বিক্ষিপ্ত হালকা বৃষ্টি হলেও ঘূর্ণিঝড়ের প্রভাব অনেকটাই কমে আসবে।
বুধবার দুপুর পর্যন্ত উত্তরবঙ্গে আবহাওয়া মূলত শুষ্ক থাকবে। তার পর কয়েকটি এলাকায় হালকা বৃষ্টি হতে পারে। বৃহস্পতিবার দার্জিলিং ও জলপাইগুড়িতে ভারী বৃষ্টির সম্ভাবনা রয়েছে। শুক্রবার দার্জিলিং, জলপাইগুড়ি, কালিম্পং ও আলিপুরদুয়ারে ভারী বৃষ্টি হতে পারে। জলপাইগুড়ি ও আলিপুরদুয়ারের কিছু এলাকায় অতি ভারী বৃষ্টির আশঙ্কা রয়েছে। পাহাড়ে ধস নামার আশঙ্কাও থাকছে।

বাংলায় তাপমাত্রার পরিবর্তন
এদিকে, ঘূর্ণিঝড় অর্ণবের প্রভাবে তাপমাত্রারও পরিবর্তন হতে পারে বাংলায়। আলিপুর আবহাওয়া দফতরের পূর্বাভাস অনুযায়ী, বুধবার থেকে কলকাতা-সহ দক্ষিণবঙ্গের বিভিন্ন এলাকায় রাতের তাপমাত্রা কিছুটা কমতে পারে। ফলে ভোর ও রাতের দিকে শীতের অনুভূতি বাড়ার সম্ভাবনা রয়েছে। তবে ঘূর্ণিঝড়ের প্রভাব কেটে গেলে তাপমাত্রা সামান্য বাড়তে পারে। নভেম্বরের প্রথম সপ্তাহ থেকে ফের পারদ নিম্নমুখী হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। আপাতত ঘূর্ণিঝড় অর্ণবের গতিপথ এবং তার প্রভাবে বাংলার আবহাওয়ার পরিবর্তনের দিকেই নজর রাখছেন আবহাওয়াবিদরা।

একাধিক দপ্তরে চালু কন্ট্রোল রুম
সম্ভাব্য দুর্যোগ মোকাবিলায় রাজ্য প্রশাসনের তরফে একাধিক পদক্ষেপ করা হয়েছে। ভবানীভবন এবং নবান্নের পাশাপাশি সল্টলেকের বিধাননগরে জনসংযোগ দপ্তরের কন্ট্রোল রুম থেকেও পরিস্থিতির উপর নজরদারি চালানো হচ্ছে। সেচ দফতরও প্রয়োজনীয় প্রস্তুতি নিচ্ছে বলে প্রশাসনিক সূত্রে জানা গিয়েছে।


পরিস্থিতির পরিবর্তন হলে সাধারণ মানুষকে সময়মতো প্রয়োজনীয় তথ্য জানানো হবে বলেও প্রশাসনের তরফে আশ্বাস দেওয়া হয়েছে। বিশেষ করে মৎস্যজীবী এবং উপকূলবর্তী এলাকার বাসিন্দাদের সতর্ক করার উপর জোর দেওয়া হচ্ছে। আবহাওয়ার গতিপ্রকৃতি অনুযায়ী তাঁদের জন্য প্রয়োজনীয় নির্দেশিকা জারি করা হতে পারে।

সতর্ক থাকুন, গুজবে কান নয়
প্রাকৃতিক দুর্যোগের গতিপ্রকৃতি সব সময় নির্ভুলভাবে আগে থেকে অনুমান করা সম্ভব নয়। তাই এখনই আতঙ্কিত না হলেও সতর্ক থাকা জরুরি বলে জানিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী। আবহাওয়া সংক্রান্ত সরকারি নির্দেশিকা এবং প্রশাসনের পরামর্শ মেনে চলার উপর গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে।

ঘূর্ণিঝড়ের সম্ভাব্য গতিপথ ও প্রভাব সম্পর্কে আবহাওয়া দপ্তরের পরবর্তী আপডেটের দিকে নজর রাখছে প্রশাসন। পরিস্থিতি অনুযায়ী প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে জানানো হয়েছে।

একটি মন্তব্য করুন

আপনার ইমেল ঠিকানা প্রকাশ করা হবে না। চিহ্নিত ক্ষেত্রগুলি আবশ্যক *

Home Language Gallery e-Paper
Menu
© 2026 Desher Samay.

Select Language

ভাষা নির্বাচন করুন