চোরবাগানের পর আপাতত বন্ধ হয়ে গেল শহরের একের পর এক বড় পুজোর দরজা ,আহতদের দেখতে হাসপাতালে শাহ
deshersamay

এই প্রথম দুর্গাপুজোয় পদপিষ্ট হয়ে মৃত্যুর ঘটনা ঘটেছে। যা নাড়িয়ে দিয়েছে সকলকে। প্রবল বৃষ্টির জেরে ভেঙে পড়ে মণ্ডপের একাংশ। হুড়োহুড়িতে মৃত্যু হয় ১৯ জনের। আহত একাধিক। চোরবাগানের ঘটনার পর বন্ধ করে দেওয়া হয় ‘চেতলা অগ্রণী’।

আজ দ্বিতীয় সপ্তমী। স্বাভাবিকভাবে আজও প্রচুর মানুষ বেরবেন ঠাকুর দেখতে। তার আগে জেনে নিন কোন-কোন পুজো খোলা। চোর বাগান থেকে শিক্ষা নিয়ে বন্ধ ৫ বড় পুজো মণ্ডপ।

দর্শক প্রবেশে আপাতত নিষেধাজ্ঞা রয়েছে ‘টালা প্রত্যয়ে’। অন্যদিকে, ‘চেতলা অগ্রণী’-তেও আপাতত দর্শক প্রবেশে ‘না’। এরপর ‘আলিপুর সর্বজনীন’ ও দর্শকদের জন্য বন্ধ রয়েছে। এই বছর পার্কস্ট্রিটের অ্যালেন পার্কে প্রথম পুজো করছেন বিজেপির শঙ্কু দেব পন্ডা। সেই পুজোও আপাতত দর্শকদের জন্য বন্ধের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।

শনিবার রাতে চোরবাগানে বিপর্যয়ের ঘটনায় এখনও পর্যন্ত মৃত্যু হয়েছে ১৯ জনের। আহত হয়েছেন ২৫ জন। তাঁদের মধ্যে একজনের অবস্থা আশঙ্কাজনক। দোষীদের রেয়াত করা হবে না। স্পষ্ট বার্তা দিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। মৃতদেহ পরিবারকে ক্ষতিপূরণ ঘোষণা করা হয়েছে। তিনি জানিয়েছেন, ফ্যাক্ট ফাইন্ডিং কমিটি গঠন করা হচ্ছে। সিসিটিভি ফুটেজ সংগ্রহ করা হয়েছে। সিসিটিভি দেখে বিবেচনা করে ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে জানিয়েছেন তিনি।

কলকাতায় পা রেখেই প্রথমে কালীঘাটে পুজো দিয়ে সোজা বাইপাসের বেসরকারি হাসপাতালে গিয়ে
চোরবাগান সর্বজনীন মণ্ডপের পদপিষ্টের ঘটনায় আহতদের সঙ্গে দেখা করলেন কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী ।

প্রথম সপ্তমীর রাতে কলকাতায় পৌঁছনোর পর থেকেই চোরবাগানের এই মর্মান্তিক বিপর্যয়ের খবরে গভীর শোকপ্রকাশ করেছিলেন তিনি। রবিবারের দ্বিতীয় সপ্তমীর দিন তাঁর একাধিক হাই-প্রোফাইল পুজো মণ্ডপ পরিদর্শনের পূর্বনির্ধারিত কর্মসূচি থাকলেও, এই বড় ধরনের দুর্ঘটনার জেরে তিনি এক ঝটকায় সমস্ত কর্মসূচি বাতিল করে দেন। এদিনের এই সফরে তাঁর সঙ্গে উপস্থিত ছিলেন রাজ্যের হেভিওয়েট রাজনৈতিক ব্যক্তিত্বরা।
সপ্তমীর সেই ভয়ংকর দুর্ঘটনার পর রবিবার সকালে নির্ধারিত সূচি অনুযায়ী প্রথমে কালীঘাট মন্দিরে গিয়ে পুজো দেন কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ। তাঁর এই কালীঘাট সফরকালে তাঁর সঙ্গে ছিলেন রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী, রাজ্য বিজেপি সভাপতি শমীক ভট্টাচার্য সহ দলের একাধিক শীর্ষ স্থানীয় নেতৃত্ব।

মন্দিরে পুজো ও প্রার্থনা শেষে শাহ সরাসরি চলে যান শহরের যে হাসপাতালে চোরবাগান দুর্ঘটনায় আহত দর্শনার্থীরা চিকিৎসাধীন রয়েছেন। সেখানে গিয়ে তিনি প্রতিটি আহত মানুষের সঙ্গে কথা বলেন, চিকিৎসার খোঁজখবর নেন এবং তাঁদের পরিজনদের প্রতি সমবেদনা জানান। বিপর্যয়ের এই শোকাবহ আবহেই তিনি তাঁর সমস্ত পুজো পরিক্রমার কর্মসূচি সম্পূর্ণভাবে বাতিল করার সিদ্ধান্ত নেন।
এদিকে, চোরবাগান সর্বজনীনের পুজো মণ্ডপে অতিরিক্ত ভিড়ের চাপে ১৯ জনের প্রাণহানির ঘটনায় পুলিশি তদন্ত ক্রমশ জোরদার হয়েছে। ঘটনায় আটক ১৪ জনের মধ্যে পুজো কমিটির সম্পাদক, সহ-সভাপতি সহ মোট সাতজনকে ইতিমধ্যেই গ্রেফতার করেছে কলকাতা পুলিশ। ধৃতদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।

অন্যদিকে, অপ্রীতিকর পরিস্থিতি এড়াতে বউবাজার থানা এলাকার অন্তর্গত চোরবাগান পুজো মণ্ডপের চারপাশের নির্দিষ্ট রাস্তাগুলিতে জারি হওয়া ১৬৩ ধারার কড়াকড়ি আরও বাড়ানো হয়েছে। পুলিশের তরফে স্পষ্ট নির্দেশিকা জারি করে জানানো হয়েছে যে, আগামী ২০ অক্টোবর পর্যন্ত এই নিষেধাজ্ঞা পুরোপুরি বহাল থাকবে। এই নির্দিষ্ট এলাকার মধ্যে সাধারণ মানুষের কোনও ধরনের জমায়েত, লাঠি, মারাত্মক অস্ত্র বা অন্যান্য কোনো বিপজ্জনক অস্ত্র বহন সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ করা হয়েছে। এছাড়া শহরের শান্তি-শৃঙ্খলা ভঙ্গ হতে পারে কিংবা জনসাধারণের মনে আতঙ্ক ছড়াতে পারে, এমন যে কোনও কার্যকলাপের ওপর কড়া নজরদারি চালাচ্ছে পুলিশ।

