বনগাঁয় দুর্গাপুজোর উদ্বোধনে ‘ছারপোকা-আরশোলা’ মন্তব্য শুভেন্দুর, রাজ্যবাসীকে সতর্ক থাকার বার্তা মুখ্যমন্ত্রীর
deshersamay

বনগাঁয় দুর্গাপুজোয় শুভেন্দু অধিকারী । ধর্ম, সংস্কৃতি ও ঐতিহ্যের মেলবন্ধন আরও দৃঢ় করার বার্তা দেওয়ার পাশাপাশি দেশবিরোধী কার্যকলাপের অভিযোগ তুলে সতর্ক থাকার পরামর্শ দিলেন তিনি।

তাঁর বক্তব্যে উঠে এল ‘ছারপোকা’ ও ‘আরশোলা’র মতো শব্দ। একই সঙ্গে কাশ্মীরের স্বাধীনতার দাবিকে কেন্দ্র করে আন্দোলনকারীদেরও কটাক্ষ করেন মুখ্যমন্ত্রী। তাঁর আহ্বান, দেশের নিরাপত্তা ও ঐক্য বজায় রাখতে সকলকে একজোট হয়ে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর পাশে দাঁড়াতে হবে।
বনগাঁর অনুষ্ঠানে শুভেন্দু বলেন, ধর্ম, সংস্কৃতি ও ঐতিহ্যের মধ্যে যে মেলবন্ধন রয়েছে, তাকে আরও শক্তিশালী করতে হবে। তাঁর কথায়, “অনেক ছারপোকা, আরশোলারা দেশের ভিতরে থেকে দেশকে দুর্বল করার চেষ্টা করছে, এদের থেকে সাবধান থাকতে হবে। দিমাগী নকশালরা কাশ্মীর মাঙ্গে আজাদি বলছে, এদের থেকেও সতর্ক থাকতে হবে। সকলে মিলে একজোট হয়ে ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর হাত শক্ত করুন।”

মুখ্যমন্ত্রীর এই মন্তব্য ঘিরে রাজনৈতিক মহলে আলোচনা শুরু হয়েছে। দেশকে দুর্বল করার চেষ্টা এবং কাশ্মীরের স্বাধীনতার দাবির প্রসঙ্গ তুলে তিনি যে বার্তা দিতে চেয়েছেন, তার কেন্দ্রে ছিল জাতীয় ঐক্য ও দেশের নিরাপত্তার বিষয়টি।
অনুষ্ঠানে নাগরিকত্ব সংশোধনী আইন বা সিএএ এবং সীমান্ত সুরক্ষার প্রসঙ্গেও পূর্বতন সরকারগুলির ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন তোলেন শুভেন্দু। তাঁর অভিযোগ, আগের সরকার সিএএ-র বিরোধিতা করার পাশাপাশি অনুপ্রবেশ রুখতে সীমান্ত সুরক্ষার বিষয়টিকেও যথেষ্ট গুরুত্ব দেয়নি। সীমান্ত এলাকায় পরিকাঠামো ও নিরাপত্তা জোরদার করার জন্য বিএসএফকে জমি দেওয়ার ক্ষেত্রেও ঢিলেমি দেওয়া হয়েছিল বলে দাবি করেন তিনি।

এই প্রসঙ্গে মুখ্যমন্ত্রীর বক্তব্য, রাজ্যে বিজেপি সরকার ক্ষমতায় আসার পর সীমান্ত সুরক্ষার দিকে বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি বাংলাদেশে নিপীড়িত সংখ্যালঘুদের ভারতে আশ্রয় দেওয়ার ক্ষেত্রে সিএএ কার্যকর করার কথাও তুলে ধরেন তিনি।
সিএএ এবং সীমান্ত সুরক্ষার বিষয়টিকে একই সূত্রে রেখে শুভেন্দু বোঝাতে চান, রাজ্যের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং প্রতিবেশী দেশে নির্যাতিত সংখ্যালঘুদের আশ্রয়ের ব্যবস্থা করা তাঁর সরকারের অগ্রাধিকারের মধ্যে রয়েছে।
দুর্গাপুজোর অনুমতি দেওয়ার বিষয়টিও এ দিনের বক্তব্যে তুলে ধরেন শুভেন্দু। বিরোধী আসনে থাকাকালীন বিজেপি বারবার অভিযোগ করেছিল, বাংলায় দুর্গাপুজো আয়োজনের ক্ষেত্রে বাধা দেওয়া হয়। সেই প্রসঙ্গ টেনে মুখ্যমন্ত্রী দাবি করেন, ২০২৫ সালে ১২ হাজার পুজো কমিটিকে পুজো আয়োজনের অনুমতি দেওয়া হয়নি।
তাঁর বক্তব্য, এ বছর সেই কমিটিগুলি অনুমতি পেয়েছে।
এই দাবি তুলে ধরে শুভেন্দু বলেন, বাংলার মানুষ অনেক বিশ্বাস ও ভরসা করে বিজেপিকে ভোট দিয়েছেন। সেই ভোটের মাধ্যমে রাজ্যে যে পরিবর্তন এসেছে, তা এখন মানুষের সামনে স্পষ্ট হচ্ছে বলেও মন্তব্য করেন তিনি। তাঁর আশ্বাস, রাজ্যের মানুষের প্রত্যাশা ও স্বপ্ন পূরণের লক্ষ্যেই কাজ করবে নতুন সরকার।

দুর্গাপুজোর উদ্বোধনী মঞ্চকে কেন্দ্র করে এ দিন ধর্মীয় ও সাংস্কৃতিক ঐতিহ্যের পাশাপাশি রাজনৈতিক বিষয়ও উঠে আসে। একদিকে দেশের ঐক্য ও নিরাপত্তা রক্ষার আহ্বান, অন্য দিকে সিএএ, সীমান্ত সুরক্ষা এবং পুজোর অনুমতি নিয়ে পূর্বতন সরকারকে আক্রমণ – সব মিলিয়ে বনগাঁর অনুষ্ঠান থেকে একাধিক রাজনৈতিক বার্তা দেন মুখ্যমন্ত্রী।
পুজোর আবহে দেওয়া এই বক্তব্যে শুভেন্দু অধিকারী রাজ্যের মানুষের কাছে সরকারের পরিবর্তনের তাৎপর্য তুলে ধরার চেষ্টা করেন। তাঁর বক্তব্যের শেষ সুর ছিল, মানুষ যে আশা ও বিশ্বাস নিয়ে বিজেপিকে ক্ষমতায় এনেছেন, সেই প্রত্যাশা পূরণ করাই সরকারের দায়িত্ব।

এদিন মুখ্যমন্ত্রী প্রথমে গান্ধীপল্লী বিবেকানন্দ স্পোর্টিং ক্লাবের পুজো উদ্বোধন করেন। এই ক্লাবের সঙ্গে যুক্ত খাদ্যমন্ত্রী অশোক কীর্তনীয়া এবং বনগাঁ দক্ষিনের বিজেপি বিধায়ক স্বপন মজুমদারকে পাশে নিয়ে পুজোর সূচনা করেন। এই ক্লাবের এবারের থিম বাঙালিয়ানা। এরপরই মুখ্যমন্ত্রী মতিগঞ্জের ঐক্য সম্মিলনী ক্লাবের পুজোর উদ্বোধন করেন। সেখানে ক্লাবকর্তা তথা হাবড়ার বিধায়ক দেবদাস মন্ডলের আমন্ত্রণকে স্বাগত জানান মুখ্যমন্ত্রী। এই ক্লাবের এবারের পুজোমন্ডপ অযোধ্যার রামমন্দিরের অনুকরণে তৈরি হয়েছে।
