প্রচ্ছদলেটেস্ট নিউজদেশপশ্চিমবঙ্গকলকাতাউত্তরবঙ্গজেলাব্যবসাবিনোদনখেলাআন্তর্জাতিকবাংলাদেশফটো গ্যালারিভ্রমণকাহিনীসম্পাদকের পছন্দসরাসরিইউটিউবই-পেপার
Breaking News

‘ভবিষ্যতে কোনও পুরুষ এরকম করার আগে যেন ভাবে’ পুলিশের এনকাউন্টারে ছেলের মৃত্যুর পরে মুখ খুললেন নিহত প্রহ্লাদের মা

deshersamay

Share article:

একাদশ শ্রেণির ছাত্রীকে ধর্ষণ, খুনের ঘটনায় নাম জড়িয়েছিল ছেলের। পুলিশের এনকাউন্টারে সেই ছেলের মৃত্যুর পরে মুখ খুললেন বাবা, মা। বললেন, ‘ও অন্যায় করেছে, সাজা পেয়েছে।’ উত্তর ২৪ পরগনার গাইঘাটার প্রহ্লাদ দাস। এক কিশোরীকে ধর্ষণ ও খুনের মামলায় তাকে গ্রেপ্তার করেছিল পুলিশ। ঘটনার পুনর্নির্মাণের জন্য সোমবার রাতে তাকে নিয়ে যাওয়া হলে পালানোর চেষ্টা করে বলে অভিযোগ। এক পুলিশ কর্মীর বন্দুক ছিনিয়ে নিয়ে গুলি ছোড়ে। আত্মরক্ষায় পাল্টা গুলি চালায় পুলিশ। নিহত হয় প্রহ্লাদ।

ওই ছাত্রীর মা বলেন, ‘শুনেছি মারা গিয়েছে। ভালো হয়েছে মারা গিয়েছে। পালানোর চেষ্টা করছিল। পুলিশকে লক্ষ্য করে নাকি গুলি চালিয়েছিল শুনলাম।’

বারাসত মেডিক্যাল কলেজ ও হাসপাতালের মর্গে প্রহ্লাদের দেহের ময়নাতদন্ত হয়। সেই হাসপাতালেই সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে প্রহ্লাদের মা বলেন, ‘আমার ছেলেকে আমি পুলিশের হাতে তুলে দিয়েছিলাম। বলেছিলাম, ও অন্যায় করেছে, ওর কঠোর শাস্তি হোক। কিন্তু আমি এটা বলিনি যে ওকে এনকাউন্টার করে দিক। রাত ২টোর সময়ে স্যররা বাড়িতে নিয়ে গিয়ে আমাদের সঙ্গে কথা বলাল। কী সব লিখল। তার পরে ছেলেকে নিয়ে চলে গেল। ভোর সাড়ে ৫টা নাগাদ স্যর বাড়িতে গেল। বলল ঠাকুরনগর হাসপাতালে যেতে হবে। আপনার ছেলেকে এনকাউন্টার করা হয়েছে। আমি জানতে চাইলাম কেন? বলল, ও পালাতে যাচ্ছিল। কী করে পালায় ছেলে এত গার্ড থাকতে? যাক গে ভালো করেছে! ও অন্যায় করেছে সাজা পেয়েছে।’

প্রহ্লাদের মা আরও জানান, মা হিসেবে তিনি এই ঘটনায় খুশি না হলে একজন নাগরিক হিসেবে খুশি। তিনি বলেন, ‘আমার মেয়ে থাকলেও আমি তাই করতাম। ভবিষ্যতে কোনও পুরুষ এরকম করার আগে যেন ভাবে।’ চোয়াল শক্ত, তবে চোখের জল আটকাতে পারেননি। হাজার হোক তিনি তো মা। একই কথা প্রহ্লাদের বাবারও। ছেলে অন্যায় করেছে। শাস্তি পেয়েছে। কিছুই বলার নেই তাঁর।

ঠিক কী ঘটেছিল
গত শনিবারের (২৪ অক্টোবর) ঘটনা। রাতে গাইঘাটা থানা এলাকায় বাড়ির কাছেই জলসা দেখতে গিয়েছিল বছর সতেরোর ওই ছাত্রী। পরিবারের অভিযোগ, রাতভর বাড়ি ফেরেনি সে। পরের দিন সকালে এক আত্মীয়ের বাড়ির সামনে থেকে উদ্ধার হয় বিবস্ত্র দেহ। সেই ঘটনায় ২৩ বছরের প্রহ্লাদকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ।

গাইঘাটায় একাদশ শ্রেণির ছাত্রীকে ধর্ষণ ও খুনে অভিযুক্ত ২৩ বছরের প্রহ্লাদ পাল গভীর রাতে পুলিশের এনকাউন্টারে নিহত হয়েছে।

ঘটনার পুনর্নির্মাণের সময় অভিযুক্ত প্রহ্লাদ পুলিশের ওপর হামলার চেষ্টা ও পালানোর উদ্যোগ নিলে আত্মরক্ষার্থে পুলিশ গুলি চালায়; এতে দুই পুলিশ কর্মীও আহত হন।
ঘটনার দিন (২৪ অক্টোবর) রাত আড়াইটেয় পায়ে রক্তের দাগ নিয়ে বাড়ি ফিরেছিল প্রহ্লাদ; পরদিন সকালে পুলিশ তাকে গ্রেপ্তার করে।

পুলিশের পদক্ষেপকে সঠিক বলে জানিয়েছে ছাত্রীর পরিবার। অভিযুক্ত প্রহ্লাদের ভাইয়ের দাবি, তাঁর দাদা নির্দোষ।

প্রহ্লাদের ভাইয়ের দাবি:
প্রহ্লাদের ভাইয়ের দাবি, সোমবার রাত তখন প্রায় ২টো। ১০-১২ জন পুলিশ তাঁর দাদাকে নিয়ে বাড়িতে আসে। মা-বাবা তখন কাঁদছিলেন। প্রহ্লাদের ভাই বলেন, ‘রাত ২টোয় দাদা আসে, সঙ্গে ১০-১২ জন পুলিশ। ঘিরে রেখেছিল ওকে। দাদা আমাকে মানু বলে। আমি ঘুমোচ্ছিলাম। দাদা আমাকে ডেকে তুলে জড়িয়ে ধরে। মায়ের কাছ থেকে জল খায়। মা-বাবা খুব কাঁদছিল। এর পরে শুনলাম এই ঘটনা। যেটা হলো, অন্যায় হলো। আমার মনে হয় না, দাদা এটা করতে পারে।’

ঘটনার দিন কী হয়েছিল?
প্রহ্লাদের ভাই বাড়িতে থাকেন না। হাওড়ার একটি হোটেলে কাজ করেন। সেখানেই থাকেন। শরীর খারাপ বলে ৪-৫ দিন গাইঘাটার বাড়িতে রয়েছেন। প্রহ্লাদের ভাইয়ের কথায়, ‘অন্যান্য দিন দাদা রাতে সাড়ে ১০টার মধ্যে ঘরে চলে আসে। তবে যে দিনের ঘটনা, সে দিন রাত আড়াইটেয় বাড়ি আসে। বাবা দরজা খুলে দিয়েছিল। ওর পায়ে রক্ত দেখে বাবা ভেবেছিল নখ কেটে গিয়েছে। সে দিন রাতে আর কোনও কথা হয়নি। পরের দিন সকালে আমি জিজ্ঞাসা করি দোকানে যাবে কি না। বলল যাবে না। এর পরে পুলিশ এসে ওকে থানায় নিয়ে যায়।’

সেলুন চালাত প্রহ্লাদ
গোবরডাঙা হিন্দু কলেজের ছাত্র ছিল প্রহ্লাদ। সেখান থেকে আর্টস নিয়ে সেকেন্ড ইয়ার পর্যন্ত পড়াশোনা করে। তবে বাড়ির আর্থিক অবস্থা ভালো না হওয়ায় আর পড়তে পারেনি। বাবার বৈকুণ্ঠপুর বাজারে সেলুন ছিল। সেখানে কাজ করত। তিন মাস আগে নিজের আলাদা সেলুন খোলে।

‘যা হয়েছে, ভালোই হয়েছে’
এই ঘটনা প্রসঙ্গে ওই ছাত্রীর বাবা বলেন, ‘শুনলাম পুলিশের কাছ থেকে পালানোর চেষ্টা করেছিল ছেলেটা, গুলি করেছে। যা হয়েছে ভালোই হয়েছে। পালানোর চেষ্টা করেছে, তাকে তো গুলি করবেই। তবে আমার মেয়েকে হারিয়েছি, ওকে কি আর পাব?’

‘কোনও অনুশোচনা নেই ছেলেটার’!
স্থানীয় উপপ্রধানও জানান, ‘পুলিশ আত্মরক্ষার স্বার্থেই গুলি চালিয়েছে। আমরা খুব খুশি প্রশাসনের ভূমিকায়। আমরা তো দেখেছি। ছেলেটার কোনও অনুশোচনা নেই। এমনকী ওর পরিবারের লোকেরও নেই।’ যদিও প্রহ্লাদের ভাই বার বারই দাবি করেন, তাঁর দাদা এ রকম কাজ করতেই পারেন না।

একটি মন্তব্য করুন

আপনার ইমেল ঠিকানা প্রকাশ করা হবে না। চিহ্নিত ক্ষেত্রগুলি আবশ্যক *

Home Language Gallery e-Paper
Menu
© 2026 Desher Samay.

Select Language

ভাষা নির্বাচন করুন