প্রচ্ছদলেটেস্ট নিউজদেশপশ্চিমবঙ্গকলকাতাউত্তরবঙ্গজেলাব্যবসাবিনোদনখেলাআন্তর্জাতিকবাংলাদেশফটো গ্যালারিভ্রমণকাহিনীসম্পাদকের পছন্দসরাসরিইউটিউবই-পেপার
Breaking News

‘ভারতকে ভেঙে ফেলতে চায় অশুভ শক্তি,আন্দোলন দিয়ে ক্ষমতার বদল হয় না’, মন্তব্য ভাগবতের

deshersamay

Share article:

ভারতকে টুকরো করার বা ধ্বংস করার সমস্ত অপচেষ্টা ব্যর্থ হতে বাধ্য – মঙ্গলবার নাগপুরে রাষ্ট্রীয় স্বয়ংসেবক সঙ্ঘ (RSS)-এর বার্ষিক বিজয়া দশমী উৎসবের মঞ্চ থেকে এ কথাই স্পষ্ট ভাষায় জানিয়ে দিলেন সংঘ প্রধান মোহন ভাগবত। একই সঙ্গে তিনি মন্তব্য করেছেন যে, কেবল আন্দোলন বা বিক্ষোভের মাধ্যমে কখনোই ব্যবস্থার পরিবর্তন হতে পারে না। যেকোনও সমস্যার প্রকৃত সমাধান সমাজ থেকেই উঠে আসে।

ভোটার তালিকার বিশেষ সংশোধন (SIR) এবং নির্বাচন কমিশনারকে কেন্দ্র করে রাজধানী দিল্লিতে চলা তুমুল ছাত্র-যুব বিক্ষোভ ও রাজনৈতিক উত্তেজনার আবহে মোহন ভাগবতের এই মন্তব্য অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ বলে মনে করছে রাজনৈতিক মহল।

নাগপুরে সঙ্ঘের ঐতিহ্যবাহী বিজয়া দশমী উৎসবে বক্তব্য রাখতে গিয়ে মোহন ভাগবত বলেন, “ভারতই আজ তাদের মূল লক্ষ্য, কারণ ভারত অপ্রতিরোধ্য গতিতে এগিয়ে চলেছে। এই অশুভ শক্তিগুলি খুব ভালোভাবেই জানে যে, বিগত কয়েক দশকে ভারত যেভাবে জোরালো ও দৃঢ় নীতি নিয়ে সামনের দিকে এগিয়ে গেছে, তাতে সরাসরি তাদের আর থামানো সম্ভব নয়। সেই কারণেই তারা এখন ভারত ও সংঘকে ভেতর থেকে ভেঙে ফেলার চেষ্টা করছে।”

উল্লেখ্য, এর ঠিক কয়েক দিন আগেই প্রবীণ সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী প্রশান্ত ভূষণ মন্তব্য করেছিলেন যে, দিল্লির ভোটার তালিকা সংক্রান্ত অনিয়মের প্রতিবাদে চলা আন্দোলনগুলি এখন আসলে ‘ক্ষমতা পরিবর্তনের লড়াইয়ে’ পরিণত হয়েছে। সেই প্রসঙ্গের পরিক্রমায় দাঁড়িয়েই সংঘ প্রধানের এই বার্তা বিশেষ গুরুত্ব বহন করছে।

সঙ্ঘ প্রধান বলেন, ফ্রান্স ও আলবেনিয়া এবং এর আগে বাংলাদেশ ও নেপালে ঘটে যাওয়া সহিংসতার কথা উল্লেখ করে পশ্চিম থেকে এমন এক ঝড় বয়ে এসেছে যা শৃঙ্খলা, শিষ্টাচার, শুভত্ব, সংস্কৃতি এবং মানবিক মূল্যবোধের প্রতিটি রূপের বিরোধিতা করে এবং সেগুলোকে ধ্বংস, কলুষিত ও বিনাশ করতে চায়।

এমনকি উন্নত দেশগুলিও এর দ্বারা প্রভাবিত হচ্ছে।
তিনি বলেন, সাম্প্রতিক দিনগুলিতে সংবাদ প্রতিবেদনগুলির দিকে তাকান। ফ্রান্স, আলবেনিয়া, বাংলাদেশ এবং নেপালে কী ঘটছে? আমাদের সমাজ বিশাল এবং আমাদের দেশ এখনও উন্নয়নশীল, তাই প্রতিবন্ধকতা থেকেই যায়।

চলমান বিক্ষোভের প্রতি ইঙ্গিত করে তিনি বলেন, এই ধরনের আন্দোলন সংবিধান ও আইনের কাঠামোর মধ্যে থাকা উচিত। আরএসএস প্রধান বলেন, ‘প্রতিবাদী গোষ্ঠী, আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী কর্তৃপক্ষ বা রাজনৈতিক নেতা, যেই হোক না কেন, কোনও পদক্ষেপই আমাদের ঐক্যবদ্ধ সমাজে সংঘাত, ঘৃণা, তিক্ততা বা বিভেদ সৃষ্টি করতে পারে না।

RSS-এর শতবর্ষে জাতীয় ঐক্যের বার্তা
সরকার পরিবর্তনের ষড়যন্ত্রের অভিযোগের পাশাপাশি দেশের বৈচিত্র্য ও সামাজিক সম্প্রীতির উপরেও জোর দেন তিনি। ভাগবতের বক্তব্য, ভারত বিভিন্ন ভাষা, ধর্ম, জাতি ও সংস্কৃতির দেশ। এই বৈচিত্র্যকে স্বীকার এবং রক্ষা করাই দেশের ঐতিহ্য। সংবিধানের প্রস্তাবনায় থাকা ‘আমরা, ভারতের জনগণ’ ধারণার মধ্যেও এই সম্মিলিত পরিচয় ও আবেগের প্রতিফলন রয়েছে বলে মন্তব্য করেন তিনি। সঙ্ঘ প্রধানের মতে, ‘সমস্যা থাকলে আন্দোলন হবে। গণতন্ত্রে আন্দোলন হবেই।’ তবে, তিনি জোর দিয়ে বলেন যে, ‘এই ধরনের আন্দোলনের উদ্দেশ্য শুধু প্রতিবাদ জানানো নয়, বরং সমাধান খুঁজে বের করা হওয়া উচিত। কিন্তু আন্দোলনের উদ্দেশ্য ধ্বংস কেন হবে? আন্দোলন হওয়া উচিত সমাধানের জন্য।’

সন্ত রবিদাসের সামাজিক সম্প্রীতি, স্বধর্মনিষ্ঠা ও ভক্তির আদর্শের কথাও তুলে ধরেন RSS প্রধান। তাঁর মতে, দেশের মানুষকে ঐক্যবদ্ধ করা এবং ভারতকে আরও শক্তিশালী করে তোলার জন্য সাংস্কৃতিক আত্মপরিচয় সম্পর্কে সচেতন হওয়া জরুরি।

এ দিন নাগপুরে RSS-এর সদর দপ্তরে বিজয়া দশমীর অনুষ্ঠান ছিল বিশেষ তাৎপর্যপূর্ণ। সংগঠনের শতবর্ষ উদ্‌যাপনের আবহে আয়োজিত এই অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন প্রাক্তন উপরাষ্ট্রপতি জগদীপ ধনখড়। অনুষ্ঠানের শুরুতে অস্ত্রপুজোও করেন ভাগবত।

একটি মন্তব্য করুন

আপনার ইমেল ঠিকানা প্রকাশ করা হবে না। চিহ্নিত ক্ষেত্রগুলি আবশ্যক *

Home Language Gallery e-Paper
Menu
© 2026 Desher Samay.

Select Language

ভাষা নির্বাচন করুন