দেশের সময় ,বনগাঁ : টানা বৃষ্টিতে জল বেড়েছে ইছামতি নদীতে । বনগাঁ পুরসভার পক্ষ থেকে বিশেষ ত্রাণ শিবির খোলা হয়েছে। শুক্রবার সকাল থেকেই পুরসভার পুর প্রধান গোপাল শেঠের নিদের্শে জলমগ্ন এলাকা ঘুরে দেখেন পুরসভার গ্রতিনিধিরা। দুর্গতদের উদ্ধার করে খাবারের ব্যবস্থা করেন তাঁরা।
পুর প্রধানের ছেলে মনীষ শেঠ বলেন, ‘ভয়াবহ পরিস্থিতি বনগাঁর প্রায় ১৪ টি ওয়ার্ডে জলবন্দি মানুষ । চারদিকে শুধু জল। যা দেখে ঘরে বসে থাকতে পারিনি । কাউকে কিছু না বলেই নিজের সাধ্য মত সবার কাছে পৌঁছনোর চেষ্টা করছি। আমি প্রশাসনের কেউ নই । কিন্তু ছোট থেকে প্রয়াত ঠাকুর দাদা ভূপেন্দ্র নাথ শেঠকে দেখেছি যেকোন বিপর্যয়ে মানুষের পাশে দাঁড়াতে । পাশাপাশি বাংলার মুখ্যমন্ত্রী মাননীয়া মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের কাজ আমাকে অনুপ্রাণিত করেছে । বনগাঁ পুরসভার প্রায় ২২টি ওয়ার্ডের অধিকাংশ এলাকা জল বন্দি। ভয়াবহ পরিস্থিতি তিন নম্বর ওয়ার্ডের নিচুপাড়া এলাকা। এখানে হাট বাজার জলে ডুবে গিয়েছে । জল ঢুকেছে প্রায় প্রতিটি বাড়িতে। জলে আটকে পড়েন বেশ কয়েক জন। ফিরে আসছে ২০০০-এর বন্যার স্মৃতি। তাই নিজের মনের কথা শুনেই বাবার অনুমতি না নিয়েই দু’একজন পাড়ার বন্ধুদেরকে নিয়ে বেড়িয়ে পড়েছি দুর্গতদের দুয়ারে । কিছু শুকনো খাবার ও জলের ব্যবস্থা করেছি । এই কাজ করতে পেরে ভাল লাগছে ।
পুরসভা সূত্রে জানা গেছে,বৃহস্পতিবার জেলা শাসক শরদ কুমার দ্বিবেদী , মহকুমাশাসক উর্মী দে বিশ্বাস, বনগাঁ জেলা পুলিশ সুপার দীনেশ কুমার এবং পুর প্রাধান গোপাল শেঠের উপস্থিতিতে থানার ঘাট এলাকায় কচুরিপানা পরিস্কারের কাজ শুরু করা হয়েছে এবং আগামী দিনে পর্যায়ক্রমে নদীতে জমে থাকা পুরসভা এলাকার কচুরিপানা সম্পূর্ণভাবে পরিষ্কার করে নদীকে ফের স্রোতস্বিনী করে তোলার পরিকল্পনা রয়েছে ৷ পাশাপাশি বিভিন্ন ওয়ার্ডে অস্থায়ী বাঁশের সাঁকো তৈরী করে দেওয়া হয়েছে এবং ত্রাণ শিবির সহ বাড়ি বাড়ি শুকনো খাবার দেওয়ার কাজ চলছে পুরসভার পক্ষ থেকে । নদীর জলস্তরের দিকে নজর রাখা হয়েছে ।

বনগাঁ মহকুমাশাসক উর্মী দে বিশ্বাস আগেই জানিয়েছেন , জেলা শাসক ও অন্যান্য প্রশাসনিক আধিকারিকেরা গাইঘাটা ব্লক ও বনগাঁ এলাকা পরিদর্শন করেছেন । অতিরিক্ত বৃষ্টির জন্য বহু জায়গায় জল জমে আছে । ত্রাণ শিবিরেও বহু মানুষ রয়েছেন । এ বিষয়ে প্রশাসন যথাযথ ব্যবস্থা গ্রহণ করছে । পাশাপাশি বনগাঁ পুরসভায় উদ্যোগে ইছামতি নদীর কচুরিপানা কাটার কাজও শুরু করা হয়েছে যাতে জলের চাপ কিছু কমবে বলে ধারণা করা হচ্ছে ।



