

West Bengal Assembly Election 2026:তাঁকে জাতীয় রাজনীতির চাণক্য বলা হয়। কেন বলা হয়, সেটাই যেন ২৬-এর পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভা ভোটে আরও বেশি করে প্রমাণ করতে মরিয়া কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ। বৃহস্পতিবার ভবানীপুরের বিজেপি প্রার্থী শুভেন্দু অধিকারী মনোনয়ন জমা দিয়েছেন। তার আগে জনসভা এবং রোড শো হয়েছে । সেখানেই উপস্থিত হয়েছিলেন অমিত শাহ। সেখান থেকেই আসন্ন ভোটের ফলাফল নিয়ে ভবিষ্যদ্বাণী করে গেলেন।
পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভা নির্বাচন ২০২৬-কে সামনে রেখে রাজনৈতিক উত্তাপ ক্রমেই চড়ছে। সেই আবহেই ভবানীপুরে প্রচারে এসে বড় বার্তা দিলেন কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ। তাঁর দাবি, ভবানীপুরে জয়ই গোটা বাংলার রাজনৈতিক পরিবর্তনের চাবিকাঠি হতে পারে। শাহের সংযোজন, রাজ্যের যেখানেই যাচ্ছেন স্পষ্ট ইঙ্গিত পাচ্ছেন যে, মানুষ ইতিমধ্যেই মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সরকারকে বিদায় জানিয়ে দিয়েছে।

বৃহস্পতিবার হাজরার কর্মসূচিতে উপস্থিত থেকে অমিত শাহ স্পষ্ট ভাষায় বলেন, বিজেপি এবার ১৭০-র বেশি আসন জিতবে। তাঁর কথায়, “একটা একটা করে আসন জিতে আমরা ১৭০-এ পৌঁছব। তবেই পরিবর্তন আসবে। আমার কাছে একটা শর্টকাট আছে – ভবানীপুর জিতলেই পরিবর্তন নিজে থেকেই হয়ে যাবে।”

শুভেন্দু অধিকারীকে ভবানীপুরে প্রার্থী করার পিছনেও যে বড় কৌশল ছিল সেটাও স্পষ্ট করে দেন শাহ। জানান, প্রথমে নন্দীগ্রাম থেকেই লড়াইয়ের কথা ভাবছিলেন শুভেন্দু। কিন্তু তাঁর পরামর্শেই ভবানীপুরে লড়ার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। শাহর কথায়, “আমি বলেছিলাম, শুধু নন্দীগ্রাম নয়, মমতার ঘরে ঢুকে তাঁকে হারাতে হবে।”

এদিন ভবানীপুর কেন্দ্রের প্রার্থী হিসাবে মনোনয়ন জমা দিলেন শুভেন্দু অধিকারী। সেই সময় তাঁর পাশেই ছিলেন কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ। মনোনয়ন জমা দেওয়ার পর শাহকে প্রণামও করেন বিরোধী দলনেতা। এ দিকে, শুভেন্দুর মনোনয়ন কর্মসূচির সময় তৃণমূলের বিক্ষোভ ঘিরে উত্তপ্ত মুখ্যমন্ত্রী তথা তৃণমূলনেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের কেন্দ্র ভবানীপুর।

বৃহস্পতিবার সার্ভে বিল্ডিংয়ে মনোনয়ন জমা দিতে গিয়েছিলেন শুভেন্দু। সেই সময় বাইরে বিক্ষোভ দেখান তৃণমূলের কর্মী-সমর্থকেরা। উল্টো দিকে থাকা বিজেপির কর্মী-সমর্থকদের সঙ্গে তাঁদের বচসাও বাধে। বিজেপির দাবি, তৃণমূল সমর্থকদের কয়েক জন হামলা চালিয়েছেন। তাতে বিজেপির এক কর্মী জখম হয়েছেন। তাঁর চোখে আঘাত লেগেছে। তার জেরে পরিস্থিতি আরও উত্তপ্ত হয়। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে কেন্দ্রীয় বাহিনী পৌঁছয় সেখানে।

ভবানীপুরে শুভেন্দুর মনোনয়নকে প্রথম থেকেই বড় রাজনৈতিক কর্মসূচি হিসাবেই তুলে ধরতে চেয়েছে বিজেপি। সেই কারণে মুখ্যমন্ত্রী তথা তৃণমূলনেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের প্রতিদ্বন্দ্বী শুভেন্দুর সঙ্গে এই কর্মসূচিতে থেকেছেন শাহ। হাজরা মোড়ে বিজেপির সভায় অংশ নেওয়ার পর রোড শোয়ে ছিলেন। সেই রোড শো-ই সার্ভে বিল্ডিং পর্যন্ত এসেছে।

হাজারা মোড়ের সভায় শাহ বলেন, ‘ভোটের আগে ১৫ দিন আমি পশ্চিমবঙ্গেই থাকব। আপনাদের সঙ্গে কথা বলার অনেক সুযোগ পাব। আজ আমাদের প্রার্থীদের, বিশেষ করে শুভেন্দু অধিকারীর মনোনয়নের জন্য আমি এসেছি।’ শাহ জানান, তাঁর কথাতেই ভবানীপুর থেকে লড়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন শুভেন্দু।

কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর কথায়, ‘আমাদের শুভেন্দুদা নন্দীগ্রাম থেকে লড়তে চাইছিলেন। আমি শুভেন্দুদাকে বললাম, শুধু নন্দীগ্রাম নয়। মমতার ঘরে ঢুকে তাঁকে হারাতে হবে। আর ওঁর তো রেকর্ড আছেই। গত ভোটে মমতা পশ্চিমবঙ্গে সরকার তো গড়েছিলেন, কিন্তু নন্দীগ্রামে শুভেন্দুদার কাছে হেরে গিয়েছিলেন। এ বার মমতা গোটা রাজ্যে তো হারবেনই, ভবানীপুরেও হারবেন।’
সব মিলিয়ে, ভবানীপুরকে কেন্দ্র করে বিজেপির আক্রমণাত্মক কৌশল এবং বড় লক্ষ্যের ইঙ্গিত স্পষ্ট করে দেন অমিত শাহ। এখন দেখার, ভোটের ময়দানে এই আত্মবিশ্বাস কতটা বাস্তব ফল পায়।




